Thursday, 22 October, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




দৈনিক মানবকণ্ঠ সম্পাদক দুলাল চৌধুরীর জন্মদিনে আনন্দ

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম: দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক, সিলেটের কৃতিসন্তান দুলাল আহমদ চৌধুরীর জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে সন্ধ্যা ৭ টায় পত্রিকা কার্যালয়ে সহকর্মীরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং কেক কর্তনের মাধ্যমে আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

এদিনে তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন।

দৈনিক মানবকণ্ঠ কার্যালয়ে দুলাল চৌধুরীর জন্মদিনের কেক কর্তন

এদিকে, প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক দুলাল চৌধুরীর জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সাপ্তাহিক বিয়ানীবাজার বার্তা পত্রিকার সম্পাদক ছাদেক আহমদ আজাদ।

অপরদিকে, প্রতিভাবান সাংবাদিক দুলাল চৌধুরীর দু’অনুরাগী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাঁকে নিয়ে দু’টি নিবন্ধ লিখেছেন। পাঠকের সুবিধার্থে তা নিম্নে তুলে ধরা হলো-

আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিক দুলাল ভাই

ছাদেক আহমদ আজাদ:  দুলাল ভাই। আমার সাংবাদিকতা পেশার অপরিহার্য এক নাম। এ পেশায় তাঁকে নির্ভরতার প্রতিক হিসেবে মেনে নিই। তিনি রক্ত সম্পর্কিত ‘ভাই’ না হলেও আদরে-শাসনে তার চেয়েও অনেক বেশি, অনেক কিছু। ঢাকায় পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখেন। মফস্বল ছেড়ে সিলেট কিংবা ঢাকায় যেতে উৎসাহ যোগাতেন। ঢাকায় নামকরা একাধিক পত্রিকায় তিনি গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ে বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে সঙ্গে রেখেছেন। যেখানে থাকিনা কেনো আগামীতেও তাঁর সাথে কাজ করবো, এ বিশ্বাস আমার রয়েছে। তিনিও সবসময় এভাবে আমাকে আশ্বস্ত করতেন এবং এখনো করছেন। নিজে বাঁচার এ যুগে এটুকুই বা ক’জনে করে। এজন্য দুলাল ভাই অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম।

দুলাল ভাইসহ অনেকের উৎসাহে আমি এখন সিলেট শহরের বাসিন্দা। এখানেও ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, ছিল সংবাদকর্মী হিসেবে নিজেকে মেলে ধরার স্বপ্ন কিংবা বাসনা। কম সময়ের মধ্যে লুকায়িত স্বপ্ন সার্থক করেছেন দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রোটারিয়ান ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ। পরোপকারি এ সাদামনের মানুষের বদান্যতায় প্রতিনিধি থেকে পদোন্নতি পেয়ে দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হয়েছি। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা।

আর দুলাল ভাই, মানে দুলাল আহমদ চৌধুরী এখন জাতীয় দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক। হয়তো তাঁর মাধ্যমে শিগগির আমার ক্যারিয়ারে যুক্ত হতে পারে নতুন পালক! আজ স্বপ্ন জাগানিয়া এমন বার্তা দিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী প্রিয়জন সাংবাদিক মুনজের আহমদ চৌধুরী। মূলতঃ আমরা দু’জনকে এ পেশায় ডানা মেলার সুযোগ করে দিয়েছেন দুলাল ভাই। তাঁর আন্তরিকতায় আমরা এগিয়ে যাবার প্রেরণা পেয়েছি, আগামীতেও পাবো এতে কোন সন্দেহ নেই।

দুুুুলাল আহমদ চৌধুরীর সাথে লেখক

কএকজন সংবাদকর্মী হিসেবে দুলাল আহমদ চৌধুরীর সাথে সম্পর্ক দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার ‘আতুড়ঘর’ থেকে। মফস্বলের খবর জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় খুব একটা স্থান পায়না। আর লিড বা সেকেন্ড লিড চিন্তা করাটাই বেমানান। কিন্তু দুলাল ভাইয়ের মুন্সিয়ানায় আমার অনেক নিউজ আমাদের সময় পত্রিকার প্রথম পাতায়, ক্ষেত্রবিশেষ লিড-ও হয়েছে। এজন্য দেশের আধুনিক সংবাদপত্রের জনক নাঈমুল ইসলাম খান এর সবুজ কালির স্বাক্ষর যুক্ত বেশক’টি প্রশংসাপত্র ও বৃত্তি পেয়েছি। দুলাল ভাইয়ের সহযোগিতায় ঢাকায় সাংবাদিকতার ওপর কয়েকবার সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিয়েছি। সেমিনারেও যোগদানের সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি। হয়তো এ কারণে পেশাদারিত্বের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য বেড়েছিল বহুগুণ। যার ফলশ্রুতিতে সিলেটের নামকরা দৈনিকে কাজ করতে পারছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দুলাল ভাই আমাকে আগলে রেখেছেন বলেই, সবই সম্ভব হয়েছে এবং আগামীতেও হবে।

সিলেটের দৈনিকে কাজ করেই দুলাল আহমদ চৌধুরী এখন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক। যা সিলেটের সংবাদপত্র অঙ্গণের প্রত্যেক সংবাদকর্মীর জন্য আত্মমর্যদার এবং গৌঁরবের। তিনি সাফল্যের পথে আমাদের হাঁটা শিখিয়েছেন। আমরা তাঁর পথ ধরেই এগুবো। লক্ষ্য বহুদূর হলেও যেখানে ছাতা হিসেবে দুলাল চৌধুরী আছেন, সেখানে কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করা মোটেই দুঃসাধ্য নয়।

সৎ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ গোলাপগঞ্জের কৃতিসন্তান দুলাল আহমদ চৌধুরী। আজ তাঁর জন্মদিন। স্বীয় কর্মে আলোকময় হোক আপনার বর্ণাঢ্য জীবন। আপনি শতায়ু হোন। মহান আল্লাহর দরবারে শুভক্ষণে এ আমার প্রার্থনা।

ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

নোট: লেখালেখির এ ধারা আমার আয়ত্ত্বের বাইরে। যতই গদ্য লেখতে চাই না কেন, খবর হওয়ার উপক্রম! তারপরও দুলাল ভাইকে নিয়ে কিছুটা চেষ্টা করেছি মাত্র। একেবারে নিরাশ হইনি, আশা করি আগামীতে হবে। সবাই দোয়া করবেন।

লেখক: সংবাদকর্মী।

সুখ-দুঃ‌খের ১৫ বছর ও দুলাল ভাই‌য়ের ব‌্যর্থতা

মুনজের আহমদ চৌধুরী: দলদাস, স্বার্থদাসেরা বিবেক বন্ধক রে‌খে কিন‌ছেন সু‌বিধা। ইতিহাস-কে ধর্ষন আর পরিহাস করার এ সময়ে, নিমোর্হ ইতিহাস যাদেঁর নখদর্পনে; তাঁরা এখন নিরব। কেননা ,প্রকৃত সত্য এখন এক অর্থে যেমন আক্রান্ত,তেমনি নির্মোহ সত্যকে স্মরন করলে স্বার্থকে সংবরন করতে হয়।

৯০ এর পর থে‌কে গনত‌ন্ত্রের না‌মে রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বত্র নগ্ন দলীয়করনে আর ক্ষমতার চাকর বানানোর সংস্কৃতিতে; বিভেদের ভগ্নাংশে আজ বিভাজিত আমাদের মুক্ত‌ চিন্তা আর চেতনার আকাশ। দে‌শের আর সব পেশাজী‌বি‌দের ম‌তো সাংবা‌দিকতাও এখন আক্রান্ত,বিভা‌জিত দলবা‌জির সংস্কৃ‌তি‌তে। দলীয় মার্কার জা‌র্সি গা‌য়ে বড়োর ম‌তো দেখা‌নো সাংবাদিকরা সাংবা‌দিকতার ন‌সিহত দেন। ছোট‌দের তারা পথ চেনাবার বদ‌লে শেখ‌ান অবজ্ঞা। আর হাউ‌সগু‌লোর চেয়‌া‌রে থাকা বড় ম‌্যা‌নেজার বাবু‌দের কা‌ছে মফস্ব‌লের সংবাদকর্মী‌রা যেন অনুগ্রহে বাচাঁ প্রানী।

জেলা উপ‌জেলায় শতকরা ৯৫ ভাগ সংবাদকর্মী বেতন বেতন পান না। পাচঁ ছয়‌টি হাউ‌সের কর্মীরা সামান‌্য পে‌লেও সেখা‌নেও ক‌য়েক‌টি‌তে ক‌রোনাকালে অ‌নিয়‌মিত।

সু‌বিধাবাদের চল‌তি সংস্কৃ‌তি‌তে আর চেতনার বানিজ্যিকায়নে, সংবাদ রে‌খে সাংবা‌দিকতা‌কে বে‌ঁ‌চে খাবার মুক্তবাজার পন্যনীতিতে দলবাজ, চাটুকারদের আগ্রাসনে যাদেঁর যেখানে থাকবার কথা ছিলো…তারাঁ সেখানে নেই।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সারাজীবন রাজনীতি করে আসা রাজনীতিবিদরা আজ ম্লান রাজনীতি-জীবিদের কাছে, টাকার কা‌ছে।

তেম‌নি সাংবাদিকতায়,সাহিত্যে যাদেঁর হাতে দ্যুতি ছিলো,আছে- সু্বিধাবাদীদের দাপটে তারাঁ এখন অভিমানে, টিকতে না পারার হতাশায় চলে গেছেন পর্দার অন্তরালে।

তারপরও কিছু ব্যাতিক্রম এসব অন্ধকারকে অতিক্রম করে উঠে আসছেন না,সেটি নয়। ঢাকার সাংবা‌দিকতায় দুলাল আহ‌মেদ চৌধুরী এরকমই সি‌লে‌টের এক‌টি গ্রাম থে‌কে উঠে আসা একজন সেলফ মেড ব‌্যতিক্রমের নাম।

দুলাল ভাই‌য়ের সা‌থে ২০০৫ বা ছয় সা‌লে সা‌বেক এআই‌জি‌পি সৈয়দ বজলুল করিম চাচার মাধ‌্যমে প‌রিচয়। তার প‌রের অন্তত ১১ বছর কাজ ক‌রে‌ছি তার সা‌থেই। হাউস বদ‌লে‌ছে বস বদলান নি। গত সা‌ড়ে তিন বছর আ‌ছি বাংলা ট্রিবিউ‌নে। এখা‌নেও কিছুকাল তা‌কে পে‌য়ে‌ছি‌।

দুলাল ভাই আমার সাংবা‌দিকতার গুরু,আ‌মি তার শিষ‌্য এটা ঢাকার গ‌ন্ডি ছা‌পি‌য়ে লন্ড‌নের সংবাদপত্র পাড়ার মানুষজনও জা‌নেন। গত ১৫ বছ‌রে তার সা‌থে সম্প‌র্কের সু‌তো আমার মা,ভাই,বোন সবার সা‌থে কিভা‌বে আ‌ষ্টেপৃ‌ষ্টে জ‌ড়ি‌য়ে প‌ড়ে‌ছে তার কিছু গল্প ব‌লি।

বেল‌জিয়া‌মে অধ‌্যয়নরত একমাত্র বোন ঢাকায় কোন কাগজপ‌ত্রের ব‌্যাপা‌রে দরকার থাক‌লে আমা‌কে না জা‌নি‌য়ে দুলাল ভাই‌কে জানায়। দুলাল ভাই কাজটা ক‌রে দেন। হয়ত মাস ছ‌য়েক প‌রে একদিন তা‌দের দুজ‌নের কেউ একজন কথা প্রসং‌গে ব‌্যাপারটা আমা‌কে ব‌লেন,তখন ব‌্যাপারটা আমার জানা হয়। আবার দুলাল ভাই ইউ‌রো‌পে গে‌লে আমার আগে জা‌নে আমার ছোটভাই।

সাংবাদিক দুলাল আহমদ চৌধুরীর সাথে লেখক

গত ফেব্রুয়ারী‌তে দুলাল ভাই‌কে ব‌লে‌ছিলাম ভাই মা‌র্চে দেশ থে‌কে ওমরাহ‌তে যা‌বো। লন্ডন থে‌কে ঢাকায় নে‌মে আমার আর আম্মার পাস‌পোর্ট বিমানবন্দ‌রে উনার হা‌তে দি‌য়ে দিই। প‌রে উ‌নি ম‌্যা‌সেঞ্জা‌রে ফ্লাই‌টের সব‌কিছু জা‌নি‌য়ে দি‌লেন। নির্ধা‌রিত সম‌য়ে এয়ার‌পো‌র্টে এলাম,তি‌নি উ‌ঠি‌য়ে দি‌লেন। মক্বায়,ম‌দিনায় কয় শুক্রবার পা‌বো,সব তি‌নিই ঠিক ক‌রে দি‌লেন। আলহামদু‌লিল্লাহ, ঠিকঠাক ম‌তো ওমরাহ ক‌রে এলাম।

জন্ম‌দি‌নে সমা‌জের প্রতি‌ষ্ঠিত ম‌ানুষজ‌নের গুনকীর্তন লি‌খে, তার সা‌থে ব‌্যা‌ক্তিগত সম্পর্ক কতটা ভা‌লো সেটা ছ‌বিসহ দে‌খি‌য়ে শুভকামনার বি‌কি‌কি‌নি এখনকার চল‌তি সংস্কৃ‌তি।

গত ১৫ বছ‌রে র‌ক্তের সম্প‌র্কের স্বজন‌দের বাই‌রে ভাই‌য়ের সা‌থে একটা সম্পর্ক গ‌ড়ে উ‌ঠে‌ছে পথ চলবার। ১১ তা‌রিখ তার জন্ম‌দিন। প‌থচলায় বা‌কে কা‌ছে ও দু‌রে থে‌কে দেখবার সু‌ত্রে আজ তার কিছু ব‌্যর্থতার কথা বরং লি‌খি। অন‌্যরা না হয় লিখ‌বেন সাফল‌্যগাথা।

ঢাকা শহ‌রে পেশাদার সাংবা‌দিকতা ক‌রেন অন্তত ২৫ বছর ধ‌রে। তার সামান‌্য আ‌গের – প‌রের অ‌নে‌কে ঢাকা শহ‌রে শুধু সাংবা‌দিকতা ক‌রে বাড়ী গা‌ড়ির মা‌লিক হ‌য়ে‌ছেন। অ‌নেক নয়,বহুজ‌নের সন্তানরা বি‌দে‌শে প‌ড়ে। অ‌নে‌কে সরকারী কোটায় প্লট,ফ্ল‌্যাট পে‌য়ে‌ছেন।

আর আমার দুলাল ভাই? মাতৃভুম‌ি, আমা‌দের সময়, আমা‌দের অর্থনী‌তি, বর্তমান, বাংলা ট্রিবিউন, জাগরন হ‌য়ে এখন মানবক‌ন্ঠের সম্পাদক।

২২ বছর আ‌গে ব‌্যা‌চেলার অবস্থায় ধানম‌ন্ডি সেন্ট্রাল রো‌ডের অন্তত ৪০ বছ‌রের পু‌রো‌নো যে ভাড়াবা‌ড়ি‌তে থাক‌তেন, এখ‌নো স্ত্রী সন্তান‌দের নি‌য়ে সেই বাড়ী‌তেই ভাড়া থা‌কেন। একটা জাতীয় দৈ‌নি‌কের সম্পাদক হ‌য়েও একটা প্লট, ফ্লাট ব‌া কোথাও এক টুক‌রো জ‌মি কিছুই নেই। একবার পুর্বাচ‌লে ৩ কাঠার জন‌্য আ‌বেদন কর‌তে ব‌লে‌ছিলাম, বল‌লেন ফর‌মের সা‌থে জমা দেবার টাকা নাই। স্থাবর সম্পদ বল‌তে সি‌লে‌টের পৈ‌ত্রিক সু‌ত্রে পাওয়া বাড়ি। আর অস্থাবর সম্পদ বল‌তে পুর‌নো একটা ব‌্যাংক ঋনের গাড়‌ি। উনা‌কে প্রথম গাড়‌ীর মা‌লিক বা‌নি‌য়ে‌ছি‌লেন আম‌ার সাংবা‌দিকতার গুরু শ্রদ্বেয় নাঈমুল ইসলাম খান।

অ‌র্ধেকের বে‌শি জীবন দে‌শের সাংবা‌দিকতার কে‌ন্দ্রে থে‌কেও আ‌র্থিকভা‌বে তার কিছু কর‌তে না পারার অ‌নেক ব‌্যার্থতার গল্পগু‌লি অ‌নে‌কেই জা‌নেন না। তার আ‌র্থিক সততা জ‌নিত এই ব‌্যর্থতার গল্প শৈশ‌বে আমা‌কে প্রেরনা দি‌য়ে‌ছিল,এখ‌নো দেয়। তার ম‌তো আরো কিছু অগ্রজ এখ‌নো আ‌ছেন ব‌লেই এ পেশায় এখনো নিঃশ্বাস নিই।

গত দুই দশ‌কে দে‌শের মুলধারায় সাংবাদিকতায় অসংখ‌্য তরুন সংবাদকর্মী গড়বার দীক্ষা নাঈমুল ইসলাম খ‌ান তা‌কে দি‌য়ে‌ছি‌লেন। দুলাল ভাই সেই প‌থের আ‌লো দে‌খি‌য়ে‌ছেন আমা‌দের।

গত ১৫ বছরে আম‌ার বয়স বে‌ড়ে‌ছে,ছে‌লে এখন স্কু‌লে যায়। ১৫ বছর আ‌গে যে সু‌রে,যতটা জো‌রে ভাই আমা‌কে ধমকা‌তেন,এখনও তেমনই ধমকান। আ‌গে নিউজ,লেখা‌লে‌খি নি‌য়ে ধমকা‌তেন,এখন তার ধম‌কের বিষয় ব‌্যা‌ক্তিগত পা‌রিবা‌রিক বিষয়।

গত ১৫ বছ‌রে উনার চে‌া‌খে যেমন আম‌ার বয়স বাড়ে‌নি,আর আমি বাড়া‌তে চাই নি,চাই না স‌চেতনভা‌বেই।

এখনকার স‌াংবা‌দিকতায় সবখা‌নে নতুন আগন্তুকরা মুহু‌র্তেই রাতারা‌তি অর্থ, খ‌্যা‌তি চান।

পেশার প্রতি সাধনার, আত্ব‌নি‌বেদ‌নের জায়গাটা প্রায় হা‌রি‌য়ে গে‌ছে। পথ দেখা‌নো মানুষ‌গু‌লোকে পথের প্রয়োজন ফুরা‌লে আমরা ভু‌লে যাই। লেখা‌লে‌খি, শিল্প সংস্কৃ‌তি চর্চায় আমরা যারা মুক্তমনা দা‌বি করি,লিখি; সংকীর্নতা আর আমিত্ব তা‌দের কতটা গ্রাস ক‌রে,কা‌ছে থে‌কে দেখ‌লে তার বিভৎসতা টের মে‌লে।

অথচ, দ‌ু‌নিয়ায় সব‌চে‌য়ে বড় ইবা‌দতের নাম কৃতজ্ঞতা।

লেখক: সাংবাদিক। যুক্তরাজ্য প্রবাসী।

 

Developed by :