Wednesday, 2 December, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




ব্রেকিং নিউজ: বিয়ানীবাজারে বড় ভাইয়ের খুনি শিবিরকর্মী তানভীর আটক

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম: মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুবাইয়ে যাওয়া হলো না ফাস্টফুড শপের কর্মচারি কামরুল ইসলামের (২৪)। তার আগে আপন ছোট ভাই শিবিরকর্মী তানভীর আহমদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তার জীবন প্রদীপ নিভে যায়। অত্যন্ত বেদনাবিধূর ও নৃশংস এ ঘটনাটি ঘটে গতকাল বুুধবার দিবাগত রাত ৩ টায় উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের কোনাগ্রামে।

আজ সন্ধ্যা সোয়া ৬ টায় ঘাতক তানভীরকে (১৭) বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর বিছরাবন্দ এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে থাকা বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. জাহিদুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে নিহত কামরুলের জানাজার নামাজ গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব কোনাগ্রাম জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। নিহত কামরুল বিয়ানীবাজার পৌরশহরের ফাস্ট ফুড শপ ‘মধুবন’ এ চাকরি করতেন।

জানা যায়, অভাবের সংসারে নিজেদের মধ্যে প্রায় ঝগড়া লেগে থাকত। প্রতিবেশিরা অনেকবার তা সমাধানও করে দিয়েছেন। সম্প্রতি কামরুল প্রবাসে যেতে উদ্যত হলে টাকা-পয়সা জোগাড় করা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে ফের স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়। এরই জের ধরে বুধবার গভীর রাতে অপন ভাইদের সাথে কামরুলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছোট ভাই তানভীর আহমদদের (১৭) ধারালো দা’র কোপে বড় ভাই কামরুল ইসলামের বুকের মধ্যখান এবং মুখের দু’পাশে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অনেকের ধারণা, এসব স্থান দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়। সন্ধ্যায় তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই সন্ধ্যা সোয়া ৬ টা পর্যন্ত শিবির কর্মী তানভীর পলাতক ছিল। তবে, শেষ রক্ষা হয়নি তার। অবেশেষে তিনি পুলিশের খাচায় বন্দী হলেন।

এলাকাবাসী সূত্রমতে, চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় পাস করে ঘাতক তানভীর আহমদ। সে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সক্রিয় সদস্য হিসেবে দলের সকল সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করে। এমনকি ঐ বাড়ির সবাই বিএনপি ও জামায়াত-শিবির রাজনীতির সাথে জড়িত। তাদের পিতা-মাতা অনেক আগেই মারা গেছেন। নিহতরা ৫ ভাই ও বোনের মধ্যে এক ভাই প্রবাসে থাকেন।

 




সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :