Tuesday, 1 December, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




সিলেট জেলার সবচেয়ে উঁচু ‘কৈলাশ টিলা’

সাত্তার আজাদ::সিলেট জেলার সবচেয়ে উঁচু টিলা ‘কৈলাশ টিলা’। এটি গোলাপগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। কৈলাশটিলা সিলেটের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান। শাহজালাল ইয়েমেনীর ৩৬০ আওলিয়ার সফর সঙ্গী শাহ নূর এখানে আস্তানা গ্যাড়ে ছিলেন। প্রতিদিন মানুষ টিলা বেয়ে উপরে উঠে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে। এই টিলার চূড়া থেকে অনেক দূরের এলাকা দেখা যায়।
প্রায় ৪০০ ফুট উঁচু এ টিলার চূড়ায় একটি গুহা রয়েছে। আধ্যাত্মিক টিলা হিসেবে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত। সেখানে একটি ঈদগাহ তৈরি করা আছে। স্থানীয় অনেকে ঈদের নামাজ আগায় করে সেখানে। শাহ নূর ইবাদতের জন্য কৈলাশটিলার উপরে একটি গুহা নির্মাণ করেন যা আজও বিদ্যমান। তবে অযত্ন সেটি প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। গুহার উপরে একটি বিরাট পাথর রয়েছে। অনুমান করা হয় গুহার চালা হিসেবে এটি ছিল। রোদ-বৃষ্টির জন্য ছাতার মত কাজ করত এ পাথর। কৈলাশটিলা বাংলাদেশের একমাত্র খনিজ তেলক্ষেত্র হওয়ায় জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্ব ভূমিকা রাখছে। কৈলাশটিলা একইসাথে খনিজতেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, চারদিকে হালকা ঝোপঝাড়, সবুজের আচ্ছাদন। মধ্যদিয়ে পায়ে হাঁটার রাস্তা। পায়ে পায়ে এগুলেই একটি উঁচু পাহাড়। সেই পাহাড় বেয়ে উপরে উঠলেই যে কারোর চোখ ঝলসে উঠবে। চারপাশের নান্দনিক দৃশ্য, রূপ-রহস্য সবই ভেসে উঠবে চোখে। মাঠের পর মাঠ, হাওর-বিল সবই অবলোকন করা যায় পাহাড় চূড়ায় দাঁড়িয়ে। ‘কৈলাশ টিলা’ নামের এই পাহাড়টি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণে দাঁড়িয়ে আছে।
গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণ বাজার থেকে একটু সামনে এগুলেই কৈলাশ টিলা পাহাড়। প্রায় ৪০/৪৫ তলা ভবনের সমান বা প্রায় ৪০০ ফুট উঁচু কৈলাশ টিলা। পাহাড়ের চূড়ায় একটি ছোট ঈদগাহ রয়েছে। ঈদের সময় সেখানে স্থানীয় মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। ঈদগাহের পাশে একটি বড় পাথর ও একটি ছোট গুহা।
এলাকার লোকজন জানালেন, এই কৈলাশ টিলায় পীরের মাজার। গুহা সাদৃশ্য স্থানে পীর বসে ইবাদত করতেন। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুহাটি এখন অনেকটা ভরাট হয়ে গেছে। তবে দেখলে মনে হয় এটা একটা গুহা সাদৃশ্য গর্ত। গুহার উপরে রয়েছে একটা বড় পাথর। এ পাথর থেকে নাকি অনবরত পানি বের হত। কিছুদিন আগেও নাকি পানি বের হতে দেখেছেন অনেকে। বর্তমানে এমন কথার কোনো ভিত্তি না থাকলেও অনেকের আস্থা রয়েছে এ বিষয়টিতে। লোককথা আছে- পীর পরলোকগমন করলে স্থানীয় লোকজন তাঁর লাশ দেখতে আসেন। সকলে লাশ দাফনের জন্য বাঁশ-কাপড় ইত্যাদি আনতে লোকলয়ে যান এবং এসব নিয়ে ফিরে এসে দেখেন সেখানে লাশ নেই। সকলে ‘কৈ লাশ, লাশ গেল কই’ (সিলেটের আঞ্চলিক ভাষা) বলে খোঁজতে থাকেন। সেই থেকে টিলার নাম কৈলাশ টিলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সেখানকার লোজকন মনে করেন পীরের অদৃশ্য মাজার রয়েছে এই পাহাড়ে।
কিংবদন্তীর এমন কথা লোকমুখে জারি থাকলেও পক্ষান্তরে পাহাড়টি এখন দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এই পাহাড় দর্শনে প্রতিদিন শত শত লোকজন আসেন। আগন্তকদের মাঝে পিকনিককারীর চেয়ে অদৃশ্য মাজার দর্শনে আসা লোকের সংখ্যাই বেশি। এসকল লোকজন আসেন মনভাসনা পূর্ণ হবার আকাঙ্খা নিয়ে। সম্প্রতি পর্যটকরাও সেখানে ভিড় করছেন। পাহাড় চূড়ায় দাঁড়িয়ে সূর্য ডুবির দৃশ্য দেখেন। সমুদ্রতটে দাঁড়িয়ে সূর্য ডুবির দৃশ্য আর কৈলাশের চূড়ার সূর্য ডুবি দেখাÑ এ দু’টোর ভিন্নতা না দেখলে বোঝানো কঠিন।
পাখির কিচিরমিচির কলকাকলি কৈলাশ টিলার পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তুলে। চারপাশের সবুজের হাতছানি মুগ্ধ করে পর্যটকের হৃদয়। উঁচু পাহাড় হওয়াতে চূড়ায় দাঁড়িয়ে আশপাশের মাঠ, পুকুর, খাল, বিল বাসাবাড়ি অনেক কিছুই দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি উপজলার অবস্থানও লক্ষ্য করা যায়।
সিলেট শহর থেকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা হয়ে ঢাকা দক্ষিণ বাজার। সেখান থেকে ভাদেশ্বর রাস্তায় কিছুদূর এগুলেই কৈলাশ টিলা। সিলেট থেকে বাসে যাওয়া যাবে। মাইক্রোবাস, অটোরিকশা ভাড়া করেও যেতে পারেন। যাতায়াত ভাড়া ৩০০ টাকা লাগবে।

 

Developed by :