Friday, 4 December, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




এমসি কলেজে ধর্ষণ: দায় স্বীকার করলেন রাজন-রনি-আইনুলও

সিলেট: এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, আইনুল হোসেন ও মো. রাজন।

শনিবার (৩ অক্টো্র) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন তারা। শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে রাজন, মহানগর হাকিম সাইফুর রহমানের আদালতে আইনুল ও মহানগর হাকিম শারমিন খানম নীলার আদালতে রণি দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশমনার অমূল কুমার চৌধুরী বলেন, আজ (শনিবার) এই মামলার তিন আসামি দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এরআগে গত শুক্রবার আরও তিনজন জবানবন্দি দিয়েছিলেন। এ নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ৮ আসামির মধ্যে ৬ জনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এরআগে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে দিয়ে রাজন, রনি ও আইনুল কে আদালত প্রাঙ্গণে হাজির করে শাহপরান থানা পুলিশ।

সন্ধ্যায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত। এরপর তাদের কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।

শুক্রবার এই মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান এবং আরও দুই আসামি অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এদিকে, মামলার অপর দুই আসামি তারেকুল ইসলাম তারেক ও মাহফুজুর রহমানকে শনিবার দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজির করে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তারা দুজনই ৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। রোববার তাদের আদালতে হাজির করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন এক তরুণী। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই তরুণীকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, এমসি কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাসুম, অর্জুন লস্কর, বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল ইসলাম এবং তারেকুল ইসলাম তারেক। মামলায় অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। এজাহারভূক্ত ছয় আসামিসহ রাজন ও আইনুলসহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে প্রত্যেককে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 




Developed by :