Tuesday, 29 November, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




সিলেট অঞ্চলে বন্যায় ৫০ কোটি টাকার ফসলহানীর আশংকা

ছবি ক্যাপশন: বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তৃর্ণ এলাকার ধানক্ষেত। এ সময়ে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমির ক্ষেতে পোকামাকড় দমনে কীটনাশক স্প্রে করছেন এক কৃষক। সম্প্রতি ছবিটি বিয়ানীবাজার উপজেলার গাংকুল পশ্চিমবন্দ থেকে তোলা

ছাদেক আহমদ আজাদ:  

সিলেট অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সম্প্রতি দু’দফা বন্যায় এ অঞ্চলে ২৭৬০ হেক্টর আউশ ধান, ১১৬ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা এবং ৫৬ হেক্টর জমির শাক-সবজীসহ মোট ২৯৩১ হেক্টর জমি পুরোপুরি বিনষ্ট হয়েছে। যার চূড়ান্ত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ কোটি টাকা। এতে ২১ হাজার ৮৫৭ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া গতকাল রোববার পর্যন্ত চলমান বন্যায় আরো ২৮১৫ হেক্টর আউশ ও বীজতলা পানির নীচে রয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবার আশংকা রয়েছে।

আবার, সরকার বন্যায় চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৬৮০টি বীজতলা প্রণোদনা দিয়েছে। তবে, করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তাসহ কৃষিক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রণোদনা দেয়ার দাবী জানিয়েছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্যানুসারে, তৃতীয় দফা বন্যায় গতকাল রোববার পর্যন্ত আরো ২৬৭৫ হেক্টর আউশ ধান ও ১৪০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা নিমজ্জিত রয়েছে। পানি কমতে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত বন্যায় সিলেট অঞ্চলে ফসলের ৫০ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত মাসের মধ্য সময় থেকে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেট অঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। এতে সাধারণ কৃষক আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েন। গত ২৫ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত প্রথম দফা বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বেশিরভাগ এলাকা নিমজ্জিত হয়। যার ফলে ১৫৫৯ হেক্টর আউশ ধান, ১০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা এবং ৫৬ হেক্টর জমির শাক-সবজী পুরোপুরি বিনষ্ট হয়। এতে ১১ হাজার ৯০ জন কৃষকের ১৫ কোটি ৭৩ লক্ষ ৯ হাজার টাকার ফসলের ক্ষতি হয়। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৯৫৩ হেক্টর আউশ, ১০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা নষ্ট হয়। একই সময়ে সুনামগঞ্জ জেলায় ৬০৬ হেক্টর আউশ ও ৫৬ হেক্টর জমির শাক-সবজী পুরোপুরি বিনষ্ট হয়েছে।

একইভাবে, গত ১০ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত দ্বিতীয় দফা বন্যায় আবারও সিলেট এবং সুনামগঞ্জ জেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে নতুন করে আরো ১২শ’ ২৫ হেক্টর আউশ ও ১০৬ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়। যার ফলে ১০ হাজার ৭৬৭ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ পর্যায়ে বন্যায় আরো ১১ কোটি ৯৯ লক্ষ ৩২ হাজার টাকার ফসলহানী ঘটে।

দ্বিতীয় দফা বন্যায় সিলেট জেলায় ৯৮০ হেক্টর আউশ, ৪৭ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা এবং সুনামগঞ্জ জেলায় ২২০.২৫ হেক্টর আউশ ও ৫৯ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে।

অপরদিকে, গতকাল রোববার পর্যন্ত কৃষি বিভাগের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, তৃতীয় দফা চলমান বন্যায় সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলায় আরো ২৬৭৫ হেক্টর আউশ ও ১৪০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা নিমজ্জিত রয়েছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে সিলেট জেলায় ২০৪০ হেক্টর আউশ ও ৯৫ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা এবং হবিগঞ্জ জেলায় ৬৩৫ হেক্টর আউশ ও ৪৫ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা নিমজ্জিত আছে। বন্যার পানি দ্রুত নেমে গেলে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ কমবে। নতুবা ফসলের ক্ষয়ক্ষতি সবমিলিয়ে ৫০ কোটি টাকার উপরে হতে পারে বলে কৃষক ও কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্টরা আশংকা প্রকাশ করেছেন।

অপরদিকে, ইতিমধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রদর্শনী হিসেবে সিলেট অঞ্চলে ৬৮০টি ভাসমান বীজতলা প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার সরকার নির্ধারিত বরাদ্দ হওয়া এসব বীজতলার মধ্যে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় ১৬০টি করে মোট ৪৮০ এবং সুনামগঞ্জ জেলায় ২০০ জনসহ মোট ৬৮০ জন কৃষককে বীজতলা প্রদান করা হবে। এছাড়া, অতীতের মতো এবারও কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় সাধারণ ও প্রান্তিক কৃষকদের আরো প্রণোদনা দেওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সে আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের উপপরিচালক কৃষিবিদ মজুমদার মো. ইলিয়াস বলেন, গত এক মাসে এ অঞ্চলে দু’দফায় বন্যায় ফসলের প্রায় ২৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছি।

তিনি বলেন, সরকার প্রদর্শনীর জন্য আমাদের ৬৮০টি ভাসমান বীজতলা দিয়েছে। আমরা সহসাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বীজতলা তৈরির নির্দেশনা প্রদান করবো। এক প্রশ্নের জবাবে উপপরিচালক মজুমদার মো. ইলিয়াস বলেন, বন্যা শেষ হলে ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা, না কমবেশি হয়েছে তার সঠিক হিসেব বলা যাবে। সূত্র: দৈনিক সিলেটের ডাক

 

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :