Sunday, 5 July, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ২১ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




শেওলায় অটোরিক্সা চালক নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা, আসামীরা পলাতক

বিয়ানীবাজার: বিয়ানীবাজারের শেওলায় অটোরিক্সা চালক কয়েছ আহমদ (৫০) নিহতের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ছেলে সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে । আসামীরা সবাই পলাতক রয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবণী শংকর কর বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত উদ্ধার, ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি এবং এলাকাবাসীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েছ নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের ঢেউনগর গ্রামে আপন ভাই-বোন মিলে কয়েছ আহমদকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ দাফন করা হয়।

নিহতের ছেলে সাইদুল ইসলাম (১৮) বলেন, আমার দুই চাচা, চাচাতো ভাইরা, ফুফুগণ এবং ফুফাতো ভাই মিলে আমার বাবাকে পিটিয়ে মেরেছে। ঘটনার সময় আমি আর্তচিৎকার শুনে ঘুম থেকে ওঠে আমার বাবাকে মাটিয়ে শুইয়ে মারধর করা হচ্ছে বলে দেখতে পাই। তারা আমার ঘরের দরজা এবং বেড়ায় দা দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ করে। এ সময় আমি ও আমার ভাই নাবিদুল ইসলামকে মারধর করে হামলাকারীরা। আমি যখন নিথর বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে দৌড়াদৌড়ি করছিলাম তখনও তারা আমার বাবা অভিনয় করছেন বলে হাসাহাসি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানায়, দীর্ঘদিন থেকে তিনভাইয়ের মধ্যে পারবারিক বিরোধ রয়েছে। এসব বিরোধে তাদের বিবাহিত বোনেরাও অপর ভাইদের পক্ষ নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হন। বৃহস্পতিবার জসিম উদ্দীন নামের এক ভাইয়ের সাথে অপর ভাইয়ের ঘরের চাল খোলা নিয়ে বিরোধ ঘটে। এক পর্যায়ে স্থানীয় মুরব্বিদের হস্তক্ষেপে এ বিরোধ মিমাংসা হয়। রাতে নিহত কয়েছ আহমদ বাড়ি ফিরলে তাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বড় ভাই ও ভাতিজারা কয়েছের উপর হামলা করলে তিনি নিজ ঘরে আশ্রয় নেন। এ সময় তাকে মারতে যাওয়া ভাই ভাতিজারা ঘরের দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। এর এক পর্যায়ে ঘরের ভেতর কয়েছ আহমদ জ্ঞান হারালে স্ত্রী সন্তানরা তাকে অচেতন অবস্থায় বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

Developed by :