Saturday, 4 February, 2023 খ্রীষ্টাব্দ | ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




বিয়ানীবাজারে বাড়ছে করোনা পজেটিভ, নমুনা সংগ্রহে ‘সোয়াব স্টিক’ সহায়তা

আক্রান্ত ২৪, সুস্থ ৫।। দু’জনের মৃত্যু

ছাদেক আহমদ আজাদ:  বিয়ানীবাজারে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ক্রমশই বেড়ে চলছে। প্রতিদিন গড়ে ২-৩ জন আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। এরপরও পৌরশহরে মানুষের ভীড় কমছেই না।

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যে যার মতো চলাফেরা করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে আতংক, আর স্বাস্থ্য বিভাগ করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বেশ উদ্বিগ্ন।

সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপিসহ জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিভিন্ন মাধ্যমে বারবার জনগণকে ঘরে থাকার অনুরোধ করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রমতে, বিয়ানীবাজারে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে ইতিমধ্যে দু’জন মারা গেছেন এবং মুক্তিযোদ্ধাসহ আরো দু’জন উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া, একদিনে সর্বোচ্চ ৫ জনসহ এ পর্যন্ত ২৪ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ব্যবসায়ী, ব্যাংক কর্মকর্তা রয়েছেন।

করোনা সংক্রমণের পর সোমবার (০৮ জুন) পর্যন্ত ৪০১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট ও ঢাকায় ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেছে মোট ২৭৩ জনের। এরমধ্যে পুরুষ, মহিলা ও শিশু মিলে ২৩ জনের শরীরে পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে।এছাড়া, ১৫২ জনের ফলাফল এখনো অপেক্ষমান রয়েছে।

আজ সোমবার আলীনগর ইউনিয়নে ৭০ বছরের বৃদ্ধার করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। তিনি ওসমানী মেডিকেল থেকে নমুনা দিয়েছিলেন। উপজেেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন পাঁচজন। অপর আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ জন হাসপাতাল কোয়ারেন্টাইন ও অন্যদের প্রত্যেককেই হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউন করেছে প্রশাসন।

এদিকে, করোনা ভাইরাস পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহে ব্যবহৃত সোয়াব স্টিকের সরকারি সরবরাহ অপ্রতুল। এজন্য নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রমে অনেকটা ব্যাঘাত ঘটছে বলে দায়িত্বশীলরা জানান।

এমন খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. আব্দুস শুকুর, বিয়ানীবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবাদ আহমদের শিশুপুত্র সাদাত এবাদ ও উপজেলা যুবলীগ নেতা জহিরুল হক রাজু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬শ’ সোয়াব স্টিক প্রদান করেন। উল্লেখ্য, সাদাত এবাদ তার মাটির ব্যাংক ভেঙ্গে তিন বছরের জমানো টাকা দিয়ে দু’শটি সোয়াব স্টিক ক্রয় করে।

এদিকে, চলমান করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সোয়াব স্টিক সহযোগিতার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ কাজে আরো মহৎপ্রাণ ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে তিনি অনুরোধ করেছেন।

জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। স্বর্ণের দোকানের কারিগর আকরব হোসেন (৩৮) পৌর এলাকার নয়াগ্রামে ভাড়া বাসায় থাকতেন। এ রোগ ধরা পড়ার কয়েকদিন পূর্বে লকডাউনের মধ্যে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে টাঙ্গাইল থেকে বিয়ানীবাজার ফিরেন। আক্রান্ত আকবর হোসেন শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন।

এদিকে, প্রথম করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসায় বাসার কেয়ারটেকার আক্রান্ত হন। তিনিও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এদিকে, গত ২০ মে বুধবার রাত ১০ টায় তিলপাড়া ইউনিয়নের মাটিজুরা (মালোপাড়া) গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও পল্লীচিকিৎসক আবুল কাশেম (৪৫) সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হন। এর সাড়ে ৩ ঘন্টা পর ঐদিন রাত দেড়টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন তাঁকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ বাড়ির পাশে জানাজা ও দাফন করা হয়। স্থানীয় আছিরগঞ্জ বাজারে তাঁর ফার্মেসী ব্যবসা ছিল এবং সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

অপরজন, মুড়িয়া ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের তমছির আলী গত ৩১ মে সকালে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ঐদিন বিকেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁর জানাজা ও দাফন করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্যসেবী দলের সদস্যরা করোনায় মৃত এ দু’ব্যক্তির ধর্মীয় কার্যটি সম্পাদন করেন।

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু ইসহাক আজাদ জানান, করোনা আক্রান্ত খাসাড়ীপাড়ার ব্যবসায়ী আলী আহমদ কুনু মিয়া আগের চেয়ে বেশ ভালো বোধ করছেন। এছাড়া ফতেহপুর, মোল্লাপুর, নালবহর, খাসা ও নয়াগ্রামের রোগীরা ভাল আছেন। তিনি জানান, চারখাই আদিনাবাদের একজন শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি সুস্থ আছেন।

ডা. আবু ইসহাক বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউনসহ তাদেরকে হাসপাতাল ও হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তিনি আবারও জনগণকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ করেন।

পাশাপাশি (জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যাথা) উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালের হটলাইনে ফোন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান ডা. আজাদ। তিনি অন্যজেলা থেকে কোন লোক আসলে সাথে সাথে জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগকে জানাতে অনুরোধ করেছেন।

 

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :