Wednesday, 3 June, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




আব্দুস সামাদ আজাদের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

সিলেট: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল সোমবার।

আব্দুস সামাদ আজাদ ১৯২২ সালের ১৫ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ভুরাখালি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪০ সালে সুনামগঞ্জ জেলা মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৪৬ সালে একই সংগঠনের অবিভক্ত আসামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট থেকে এমএলএ নির্বাচিত হন এবং আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং সর্বদলীয় রাজনৈতিক জোট এনডিএফ এর দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭০ এর নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে এমএনএ নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠকের একজন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ৭৫ পরবর্তী আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন এবং জীবনের শেষমূহুর্ত পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ছিলেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ মন্ত্রিসভায় সফল পররাষ্টমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের শেষ নির্বাচনে দল হারলেও আব্দুস সামাদ আজাদ সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হন। ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল বার্ধ্যকজনীত কারণে তিনি রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

এদিকে, জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

এক বার্তায় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় রাজনীতিতে আব্দুস সামাদ আজাদ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে তিনি সফলতার সাথে দেশের অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। বাঙালি জাতি তাঁর অবদান চিরদিন মনে রাখবে। আমরা তার বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

এদিকে, জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও আব্দুস সামাদ আজাদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে সীমিত পরিসরে আগামীকাল সোমবার মসজিদ ও মন্দিরে বিশেষ প্রার্থণা ও তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে রাজধানীর কলাবাগানস্থ বাসভবনে কোরআনখানি, বনানী কবরস্থানে কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং লেকসার্কাস লেকভিউ জামে মসজিদে সীমিত পরিসরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

 

Developed by :