Wednesday, 27 May, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




বড়লেখার চান্দগ্রামে কল করলে মিলছে ‘ওয়াহিদের উপহার’, ব্যাপক সাড়া

ছাদেক আহমদ আজাদ: 

সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকেই তিনি সমাজের অসহায় দুঃস্থ মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কখনো নিজের কায়িক শ্রমে অর্জিত অর্থ দিয়ে দুর্গতদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। আবার কখনো সামষ্টিকভাবে দাঁড়াচ্ছেন তাদের পাশে। একই সাথে কোরআন শিক্ষায় নিয়োজিত কয়েকজন এতিম শিশুর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছেই।

দেশের এই করোনাভাইরাস মহাদুর্যোগে নিঃসার্থভাবে মহতি এসব কাজ করে যাচ্ছেন রোটারিয়ান ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ। তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজসেবামূলক সংগঠনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সিলেটের পাঠকনন্দিত দৈনিক সিলেটের ডাক এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন করছেন।

সূত্রমতে, একজন আপাদমস্তক পরোপকারি সমাজকর্মী ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ। তিনি প্রতিনিয়ত মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রেখেই চলছেন। এর মধ্যেই তিনি বেঁচে থাকার প্রকৃত সুখ খুঁজে পান। এজন্য সহজ সরল ও হাসিখুশি মনের অধিকারী এই ব্যক্তিত্ব ইতিমধ্যে ‘ওয়াহিদ ভাই’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

জানা যায়, ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ সম্প্রতি সিলেটের খাদিমপাড়া ইউনিয়নসহ নগরীর বিভিন্ন পাড়ায় ইতিমধ্যে দুই সহস্রাধিক অসহায়, দুঃস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষ ও চাকুরীজীবিদের মধ্যে নগদ টাকা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। এমনকি তাঁর জন্মভূমি বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রামে কয়েক দফায় ত্রাণ বিতরণ করছেন এবং তা অব্যাহত রয়েছে।

করোনাভাইরারে সমস্যা জর্জরিত হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার মধ্যবিত্ত পরিবারের বেশকিছু মানুষ। তারা প্রকাশ্যে ত্রাণ সাহায্য নিতে কুণ্ঠাবোধ করলেও অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন খবর পেয়ে দানশীল ব্যক্তিত্ব ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। উপকারভোগীদের তথ্য গোপন রাখা হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে একটি মোবাইল ফোন নাম্বার উল্লেখ করে ব্যানার টাঙিয়েছেন। এতে লেখা রয়েছে (০১৩১২-৪৬৮৫৯৮) এই নাম্বারে কল করলে আপনার বাড়িতে অনায়াসে পৌছে যাবে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী।

প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সাহায্যপ্রার্থীদের জন্য ফোনকলের এই অভিনবপন্থা এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। এ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৮০ টি কল আসছে এবং সাথে সাথে তাদের বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌচ্ছে দেয়া হচ্ছে। এ কাজে এলাকার বিশিষ্টজনের সমন্বয়ে একটি তদারক কমিটি কাজ করছে বলেও জানা গেছে।

ব্যবসায়ী ওয়াহিদের গ্রামের বাড়িতে প্রতিনিয়ত শতাধিক প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী ও নগদ টাকা মজুদ রাখা হয়। যাতে কল করার পর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পেতে উপকারভোগীদের বিলম্ব কিংবা কোন ধরণের সমস্যা দেখা না দেয়।

এ ব্যাপারে নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলাল আহমদ বলেন, ব্যবসায়ী, স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষক কিংবা সমাজের অনেক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ এ দুর্যোগে কারো কাছে হাত পাততে (করুণা) পারছেন না। আবার তাদের সাহায্যের খুবই প্রয়োজন। কল করলে বাড়িতে সাহায্য পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা পাওয়ায় তারা এখন নির্দ্বিধায় সাড়া দিচ্ছেন। তাঁর মতে, পরোপকারী ওয়াহিদের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এতে অনেক মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। তিনি পুরো দুর্যোগকালে এ ব্যবস্থা ত্রাণ বিতরণ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

পেশায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী এক উপকারভোগী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে এ প্রতিবেদককে বলেন, সারা জীবন ব্যবসা করে পরিবার চালিয়েছি। এখন রেস্টুরেন্ট বন্ধ হওয়াতে ছেলেমেয়ে নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছি। শেষ পর্যন্ত কল করে ওয়াহিদ ভাইয়ের কাছ থেকে খাদ্যসামগ্রী পেয়েছি। এতে আমার চাহিদা যেমন পূরণ হয়েছে তেমনিভাবে আমার সম্মানও অক্ষুন্ন রয়েছে। কঠিন এ দুঃসময়ে নিরবে পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি ওয়াহিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ বলেন, করোনাভাইরাস বিশ্ব মহামারিতে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় কে বাঁঁচবে আর কে মরবে তা বলা মুশকিল। তিনি বলেন, যদি মানুষ মানুষের জন্য হয়, তাহলে এ মুহূর্তে সামর্থবানদের উচিত এলাকার করোনাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

শিক্ষানুরাগী ওয়াহিদ আরো বলেন, যারা প্রকৃত অভাবগ্রস্থ তাদেরকে সরকার খাদ্যসামগ্রী দিচ্ছে। কিন্তু যারা কখনো অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়নি, নিজে কোনমতে সংসার চালাতে পারছে। তারাও এখন অন্যের সাহায্য ছাড়া সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু চোখ-লজ্জায় হাত বাড়াতে পারছে না। মূলতঃ এ চিন্তা থেকেই চান্দগ্রামে ‘কল করলে বাড়িতে পৌছে যাবে সাহায্যসামগ্রী’ ব্যবস্থা চালু করেছি। তিনি বলেন, এ পন্থায় খুব সাড়া পাচ্ছি। যতদিন সম্ভব মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবো। এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 

Developed by :