Saturday, 30 May, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




সিলেটের চার জেলায় বজ্রপাতে একদিনে ৯ জনের মৃত্যু

বার্তা ডেস্ক:  সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছোবল হেনেছে বাংলাদেশেও। এই ভাইরাসের ভয়ে আতঙ্কিত দেশের মানুষ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন আতঙ্ক বজ্রপাত। কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে আঘাত হানা বজ্রপাতে আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) শুধু সিলেট বিভাগেই প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। বজ্রপাতে মৃত্যুর সবগুলো ঘটনাই ঘটেছে গ্রামাঞ্চলে।

শনিবার সকালে বজ্রপাতে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সাথে বজ্রপাতে মারা গেছে ৩টি গরু। ফলে সুনামগঞ্জ জেলায় দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। করোনা আতঙ্কের সাথে বর্তমান মৌসুমী আতঙ্ক বিরাজ করছে জেলার কৃষকদের মনে। ফলে ধান পাকলেও একদিকে করোনা আতঙ্কে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে অন্যদিকে কৃষকরা বজ্রপাতের কারণে নিজেও যেতে পারছেন না ধান কাটতে।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে বজ্রপাতে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় এক কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম শঙ্কর সরকার (২২)। সকাল সাড়ে ১০ টায় তার নিজ বাড়ি থেকে শাষখাই বাজারে যাবার পথে ওই তরুণ মারা যান। তিনি উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, শঙ্কর নারায়ণপুর বাড়ি থেকে শাষখাই বাজারে যাবার পথে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তাকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিহত তরুণ একজন কৃষি শ্রমিক। নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম।

জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরে গরু চড়াতে গিয়ে শিপন (৩২) নামের এক রাখাল বজ্রপাতে মারা গেছেন। দুপুর ১২টার দিকে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। শিপন জগন্নাথপুর উপজেলার বাউধরণ গ্রামের বাসিন্দা। কাছাকাছি ঐ হাওরে কৃষক নূরুল হকের একটি গরু মারা যায়।

কেশবপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমদ মিয়া বলেন, নলুয়ার হাওরে গরুকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যাওয়ার পর এক রাখাল বজ্রপাতে নিহত হয়েছে। কাছাকাছি সময়ে বজ্রপাতে এক কৃষকের একটি গরু মারা গেছে। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করেছেন জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী।

এছাড়া সকালে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের হাওরে গরু নিয়ে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে ফরিদ মিয়া (৩৫) নামের একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার দুটি গরুও মারা যায় বলে জানিয়েছেন আমাদের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি। তার পাঠানো তথ্যমতে নিহত ফরিদ মিয়া উপজেলার পাথারিয়া ইউপির উত্তর গাজীনগর (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে গাজীর খাল নামক হাওরে ২ টি গরু নিয়ে যান ফরিদ মিয়া। এসময় ঝড়ের সাথে বজ্রপাত শুরু হলে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে ২ টি গরু সহ ফরিদ উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে দিরাই উপজেলার উদগল হাওরের চিনাউড়া নামক স্থানে তাপস মিয়া (৩৫) নামে ধানকাটার এক শ্রমিক বজ্রপাতের কবলে পরে মারা যান বলে জানিয়েছেন আমাদের দিরাই প্রতিনিধি। তিনি জানান, তাপস মিয়া হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামের মফিজ উল্লার পুত্র।

সংশ্লিষ্ট সরমঙ্গল ইউপির চেয়ারম্যান এহসান চৌধুরীর বরাত দিয়ে আমাদের প্রতিনিধি জানান, আজমিরিগঞ্জ উপজেলার জলসূখা গ্রামের নিহত তাপসসহ কয়েকজন শ্রমিক সরমঙ্গল গ্রামের ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিন ও কতুব উদ্দিনের বোরো ধান কাটার জন্য এসেছিলেন। আজ শনিবার সকালে তারা ধান কাটার জন্য হাওরে যান। সকাল ১০টার দিকে বৃষ্টি নামলে দৌড়ে সরমঙ্গল গ্রামে ফেরার পথে বজ্রপাতের কবলে পড়ে তিনি মারা যায়।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সফি উল্লাহ।

সিলেট জেলার সদর উপজেলায় বজ্রপাতে বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ইউনিয়নের পুরান কালারুকার পূর্ব উত্তরপাড়ার শমসের আলী ও তার ছেলে ছয়ফুল আহমদ।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানার ওসি অকিল উদ্দিন বলেন, কালারুকা পশ্চিম হাওরে (উনাখাওরি বিল) ধান কাটতে যান শমসের আলী ও ছয়ফুল আহমদ। এ সময় কালবৈশাখীর ঝড়ের সাথে প্রচণ্ড বজ্রপাত হতে থাকে। বজ্রপাতে বাবা ও ছেলে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে আমরা মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছি।

জেলার ওসামনীনগরে বজ্রপাতে রাহি আহমেদ (১৬) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলা দয়ামীর ইউনিয়নের খাইদ্যর গ্রামের আনছার আলীর ছেলে। শনিবার সকাল ১১টার দিকে মাঠে ধান কাটতে গেলে বজ্রাঘাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।

ওসমানীনগর থানার ওসি রাশেদ মোবারক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে।

সিলেটের জকিগঞ্জে বজ্রপাতে ইসলাম উদ্দিন বলই (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের দরগাবাহারপুর গ্রামের আতাই মিয়ার ছেলে ও কালিগঞ্জ বাজারের তানিশা বস্ত্র বিতানের মালিক। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে বজ্রাঘাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। একই সাথে মারা যায় তার সাথে থাকা গরুটিও।

জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মো. আব্দুন নাসের বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হবে।

হবিগঞ্জের মাধবপুরে হাওরে গরু চড়াতে গিয়ে লালু মিয়া (৩৯) নামের এক গরু ব্যবসায়ী বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের মুরাদপুর হাওরে এ ঘটনা ঘটে। লালু মিয়া ওই গ্রামের অলি ইসলামের ছেলে।

গ্রামের বাসিন্দা ফকির কাউছার আহমেদ জানান, লালু মিয়া একজন গরু ব্যবসায়ী। তিনি সকালে পার্শ্ববর্তী হাওরে গরু চড়াতে যান। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রপাত হলে লালু মিয়া বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্বজনরা মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাধবপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এ এইচ এম ইশতাক মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

Developed by :