Friday, 3 April, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ২০ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




মধ্যপ্রাচ্যের যাত্রীদের ভিড় না করার আহ্বান

লন্ডনের টিকেট যেন ‘সোনার হরিণ’

মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম

ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাবার আশঙ্কায় বাংলাদেশ বিমানের সিলেট অফিসে লন্ডন প্রবাসী যাত্রীদের ভিড় বেড়ে গেছে। টিকেটের জন্য প্রতিদিন সেখানে ভিড় করছেন কয়েক সহ¯্রাধিক প্রবাসী। যাত্রীদের সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বিমান কর্তৃপক্ষও।

মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি রুটে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেলেও এখনো সিলেট-ঢাকা-লন্ডন এবং সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু রয়েছে। কাজেই, এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাচ্ছেন না প্রবাসীরা। এ কারণে মজুমদারীস্থ বিমান অফিসে তারা প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি টিকেটের জন্য ভিড় করছেন।

আব্দুল ওয়াদুদ নামের একজন লন্ডন প্রবাসী যাত্রী জানান, পারিবারিক কাজে তিনি মাসখানেক পূর্বে দেশে আসেন। দেশে তার কয়েক মাস থাকার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু, করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যেতে যাচ্ছেন। তিনি আরো জানান, তার স্ত্রী-পুত্র-কন্যারা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। এ পরিস্থিতিতে তাদেরকে সেখানে ফেলে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করতে পারেন না। তাই, তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু, টিকেটের সংকটের কারণে তিনি যুক্তরাজ্যে যেতে পারবেন কিনা এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ বিমানের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক শাহনেওয়াজ মজুমদার জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বিমান অফিসে লন্ডন প্রবাসী যাত্রীদের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। প্রতিদিন ২/৩ সহ¯্রাধিকেরও বেশি যাত্রী ভিড় করছেন বিমান অফিসে। এ অবস্থায় তারা অনেকটা গলদগর্ম। বিমান অফিসে যাত্রীদের কোনভাবে নিয়ন্ত্রণও করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। সিলেট থেকে সপ্তাহে সিলেট-ঢাকা-লন্ডন ৫টি এবং সিলেট-ঢাকা-ম্যানচেস্টার তিনটি ফ্লাইট অপারেট হচ্ছে। প্রতিটি ফ্লাইটের ধারণ ক্ষমতা ২৯৮। অনেকেই লন্ডন থেকে রিটার্ন ফ্লাইট বুক্ড করে এসেছেন। কিছু সিট খালি থাকলেও এ সিট নিয়ে যাত্রীদের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় তারা অনেকটা চাপে রয়েছেন বলে জানান তিনি।

হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সিলেট চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি ও লতিফ ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী জহিরুল কবির চৌধুরী শিরু জানান, কেবল লন্ডন ও আমেরিকা প্রবাসীদের কারণে বর্তমানে তাদের অফিস খুলতে হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক প্রবাসী টিকেটের জন্য তার প্রতিষ্ঠানে এসে ভিড় করছেন। চাহিদা বেশী থাকায় কোনভাবেই টিকেটের বিষয়টি সংকুলান করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, দেশে আসা অনেক প্রবাসী করোনা আতঙ্কে তাদের স্বজনদের কাছে ফিরে যেতে চাচ্ছেন।

সিলেট ওভারসিজ সেন্টারের তথ্য মতে, যুক্তরাজ্যে প্রায় ৬ লক্ষাধিক সিলেটী প্রবাসী রয়েছেন। দেশে অবস্থানকারী স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করতে তারা প্রায়শ দেশে আসেন। এবারও বিপুল সংখ্যক প্রবাসী দেশে আসেন। কিন্তু, সারাবিশ্বে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে দেশের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরাও রয়েছেন চরম উৎকণ্ঠায়।

মধ্যপ্রাচ্যের যাত্রীদের বিমান অফিসে ভিড় না করার আহ্বান ॥ ফ্লাইট বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের বিমান অফিসে অযথা ভিড় না করতে বিমানের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিমানের জেলা ব্যবস্থাপক জানান, এমনিতে তারা লন্ডন প্রবাসী যাত্রীদের টিকেটের চাহিদা মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। তার ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যাত্রীদের কারণে বিমান অফিসে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইট চালুর বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জানিয়ে দেবেন। এমনকি গণমাধ্যমের মাধ্যমেও বিষয়টি জানা যাবে বলে জানান এ বিমান কর্মকর্তা।

ওসমানী বিমানবন্দরে আসা দুই প্রবাসীকে আজ ডিপোর্ট করা হচ্ছে

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল বৃহস্পতিবার বিমানযোগে আসা এক ফ্রান্স ও এক পর্তুগাল প্রবাসীকে ডিপোর্ট (ফেরত পাঠানো) করা হচ্ছে। বিমান সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে যুক্তরাজ্য থেকে বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটে করে এ দুই যাত্রী সিলেট আসেন। এদের মধ্যে একজন পর্তুগাল এবং অন্যজন ফ্রান্সের পাসপোর্টধারী।

বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিমান অবতরণের পর এ দুই যাত্রীকে ইমিগ্রেশন থেকেই ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়। ঢাকা তাদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।

বিমানের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক শাহনেওয়াজ মজুমদার জানান, এ দুই যাত্রী ইউরোপ থেকে সড়কপথে লন্ডন হয়ে সিলেটে আসছিলেন। আজ শুক্রবার সকালের ফ্লাইটে তাদেরকে ডিপোর্ট করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

Developed by :