Saturday, 4 April, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ২১ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




বড়লেখায় ১০ দিনেও উদ্ঘাটন হয়নি তরুণীর মৃত্যু রহস্য

মৌলভীবাজার: বড়লেখায় এক লন্ডন প্রবাসীর বাড়ি থেকে সাহিদা বেগম নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধারের ১০দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো মৃত্যু রহস্য উদঘাটন হয়নি। তবে পুলিশ বলছে, তারা ওই তরুণীর মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত করছে। এদিকে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা তা এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। কিন্তু একটি মহল ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার দাসেরবাজার ইউপির পানিশাইল গ্রামের লন্ডন প্রবাসী জয়নাল উদ্দিনের দ্বিতলবিশিষ্ট বাংলো বাড়ির একটি কক্ষের ভেতর থেকে ওই তরুণীর লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর জয়নাল উদ্দিন দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। যার কারণে এই ঘটনায় জয়নাল উদ্দিন জড়িত কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। তবে লন্ডন প্রবাসী জয়নাল উদ্দিন দাবি করছেন, সাহিদা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

এদিকে এই ঘটনার পাঁচদিন পর গত ০৩ মার্চ নিহত সাহিদার বাবা রব্বান মিয়া মেয়েকে হত্যার অভিযোগ তুলে লন্ডন প্রবাসী জয়নাল উদ্দিনসহ ৫ জনকে আসামি করে বড়লেখা থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-০১) দায়ের করেন।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দাসেরবাজার ইউপির পানিশাইল গ্রামে লন্ডন প্রবাসী জয়নাল উদ্দিনের (৬০) দ্বিতলবিশিষ্ট একটি বাংলো বাড়ি রয়েছে। জয়নাল উদ্দিন দেশে এলে মাঝেমধ্যে ওই বাড়িতেই থাকতেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জয়নালের এক প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে পুলিশ ওই বাড়িতে যায়। পুলিশ বাড়ির ওপর তলার একটি কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে নারীর মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। পুলিশ পরদিন শুক্রবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মর্গে পাঠায়। ঘটনার আগে প্রবাসী জয়নাল উদ্দিন ওই বাড়িতে ছিলেন। কিন্তু ঘটনার পর তিনি গাঁ ঢাকা দেন। পরে জানা যায় জয়নাল উদ্দিন দেশ ছেড়ে লন্ডনে চলে গেছেন।

লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ জানিয়েছিল, নিহত সাহিদা বেগমের (৩০) বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার রাইয়াপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের রব্বান মিয়ার মেয়ে। জয়নাল উদ্দিনের সঙ্গে সাহিদার মুঠোফোনে পরিচয় হয়। এরপর জয়নাল সাহিদাকে বিয়ে করেন।

এদিকে এই ঘটনার বিষয়ে  জয়নাল উদ্দিন বলেন, সাহিদার সঙ্গে তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। তবে সাহিদা আত্মহত্যা করেছেন। তাকে হত্যা করা হয়নি।

আপনি পুলিশকে না জানিয়ে দেশ ছেড়ে পালালেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে আমার অনেক শত্রু রয়েছে। পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের ভয়ে দেশ ছেড়ে এসেছি।

এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফ উদ্দিন বলেন, সাহিদার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা এখনও বলা যাচ্ছে না। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

 

Developed by :