Sunday, 7 June, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




দুই নেতা হত্যার প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

ঢাকা: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ কর্মী রাকিব ও কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাদীউজ্জামান রাসেল হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

এ সময় ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী-মৌলবাদী জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ ও ছাত্রলীগ কর্মী রাকিব ও রাসেলের হত্যাকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

সোমবার রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন হল ইউনিটের নেতা-কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, যখন বাংলাদেশে রাজনীতিতে এক ধরনের শান্তি বিরাজ করছে তখন একাত্তরের প্রেতাত্মারা আমাদের ভাইদের ওপর হামলা করে তাদের হত্যা করছে। আমরা দিন-রাত তাদের প্রতিহত করতে আন্দোলন করে যাবো। ছাত্রলীগ বসে থাকবে না, দুর্বার আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এ সময় আগামীকাল নেতাকর্মীদের দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তিনি।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, একাত্তরের কুচক্রী মহল দিনে দুপুরে চায়ের দোকানে ছাত্রলীগের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। সেখানে আমাদের তিনজন কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। একজন আজ ইন্তেকাল করেছেন। আমরা এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। বাংলাদেশে ছাত্রশিবিরের কোনো স্থান হবে না। আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে আমরা জঙ্গিবাদের উত্থান হতে দেব না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘রক্ত দিয়ে রক্তের বদলা নিতে হবে। জামাত-শিবিরকে আর সহ্য করা হবে না। তিনি নেতাকর্মীদের বলেন, যেখানে জামাত-শিবির দেখবেন সেখানেই আঘাত করবেন। প্রথম আঘাত আমি করতে চাই।’

ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা যখন ব্রিটিশদের উপনিবেশবাদ বিরোধী আন্দোলন করেছি তখনও জামায়াত-শিবিরের প্রেতাত্মারা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে। যখন ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ অর্জন করেছি সেদিনও জামায়াত-শিবির স্বাধীনতা বিরোধী হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করেছে। এ সময় তিনি সাংবিধানিকভাবে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ চান।’

রোববার রাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমান উল্লাহ বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন ছাত্রলীগের হাবিব, রনি, মনু, রায়হান ও রাকিব। এসময় তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় শিবির কর্মীরা। এতে রাকিব ও রায়হান গুলিবিদ্ধসহ আহত হন অন্যরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে রাকিবের মৃত্যু হয়।

অপরদিকে খুলনার কয়রায় ছাত্রলীগের উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাদিউজ্জামানের উপর আরেক হামলা হয়। এতে হাদীউজ্জামান রাসেলসহ ছাত্রলীগ কর্মী ইয়াছিন আরাফাত, রাজু, আব্দুল্লাহ, আবুল হাসান ও সেলিম আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত উপজেলা রাসেলকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পথে সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

 




Developed by :