Monday, 17 February, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




টিলাগড়ে দীপ খুন: পূজন, শংকর, সাগর ৮ দিনেও অধরা!

ছাদেক আহমদ আজাদ: নগরীর টিলাগড় এলাকায় কলেজ ছাত্র অভিষেক দে দীপ এর খুনীদের নিয়ে অন্ধকারে রয়েছে পুলিশ। একজন ব্যতীত তারা এ খুনের ৮ দিন পরও চিহ্নিত কোন অপরাধী গ্রেফতার করতে পারেনি। এ নিয়ে দীপের পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা খুনিদের গ্রেফতারের জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, সন্ত্রাসী এ হামলায় আহত শুভ কর সৌরভ এখনো ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর তার শরীরে ৬ ব্যাগ রক্ত দেয়া হলে গতকাল পর্যন্ত অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। নিহত দীপের চাচাতো ভাই বিজয় দে গতকাল হাসপাতালে সৌরভকে দেখে এসে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুরোপুরি সুস্থ হতে আরো কিছুদিন লাগবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, দীপ খুনের দু’দিন পর গত শনিবার তার পিতা দিপক দে বাদি হয়ে ৪ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ৩-৪ জনকে আসামী করে এসএমপির শাহপরান (রহ.) থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলার প্রধান আসামী টিলাগড় গোপালটিলা এলাকার সন্টু রায়ের পুত্র সমুদ্র রায় সৈকতকে (২২) ঘটনার রাতে ওসমানী হাসপাতাল এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এরপর চিকিৎসার জন্য তাকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সৈকতকে ছাড়পত্র দিলে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

এ মামলার এজাহারভুক্ত অপর তিন আসামী হলো, একই এলাকার সজল দের পুত্র সৌরভ দে (২০), রতন দেব এর পুত্র পূজন দেব (২৮) ও শংকর দের পুত্র সাগর দে (২০)।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, দীপ খুনের এজাহারভুক্ত ও সন্দেহভাজন অপর আসামীদের গ্রেফতার করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে, অপরাধীরা ঘন ঘন স্থান ত্যাগ করায় তাদের সহজে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও শিগগির তাদের আইনের আওতায় আনার জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রমতে, গত রোববার এমসি কলেজের সামনে দীপ খুনের সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে মানববন্ধন করেছে তার সহপাঠীরা। এরপরও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা সহসাই নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করার আভাস পাওয়া গেছে। এর অংশ হিসেবে দীপের পরিবার ও সহপাঠীরা পর্যায়ক্রমে স্মারকলিপি, মানববন্ধন, বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও এর মতো যুগপৎ কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গতকাল শুক্রবার রাতে নিহত দীপের পিতা দিপক দে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য আন্দোলনে যেতে পারছি না। পুত্রের খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে শিগগির আমার স্ত্রী নিয়ে আন্দোলন করবো। তার সহপাঠীরা এগিয়ে এলে খুশি হব। এজন্য তিনি গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগীতা কামনা করেন।

এ ব্যাপারে শাহপরান (রহ.) থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, হাসপাতাল থেকে হত্যা মামলার প্রধান আসামী সৈকতকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে পুরোপুরি সুস্থ হলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। তিনি বলেন, এ মামলার আসামীদের গ্রেফতার করতে আমাদের ওপর কোন চাপ নেই। আমরা দ্রæত তাদেরকে গ্রেফতারের লক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি।

জানা যায়, গত ৬ ফেব্রæয়ারি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯ টায় টিলাগড় পয়েন্ট এলাকায় রাজনৈতিক সহকর্মীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন অভিষেক দে দীপ (১৭)। সে গ্রীনহিল স্টেট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং শিবগঞ্জের সাদিপুর এলাকার ফারজানা হাউজের (বাসা নং ০২) বাসিন্দা দিপক দের একমাত্র পুত্র। তার বাড়ি জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট গ্রামে। সরস্বতী পূজার বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে।

এ ঘটনার পরদিন শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ নিহতের পিতা দিপক দে’র কাছে পুত্রের মরদেহ হস্তান্তর করে। পারিবারিক ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শেষে ঐদিন বিকেলে চালিবন্দর শ্মশানঘাটে অভিষেক দে দীপ’কে সৎকার করা হয়।

 

Developed by :