Tuesday, 2 June, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




নিহতের খবরে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান

ফলোআপ: পর্তুগালে বাংলাদেশি দুই গ্রুপে সংঘর্ষে ৪জন আহত

বার্তা ডেস্ক: পর্তুগালে ব্যাক্তিগত পূর্ব শক্রতার জের ধরে বাংলাদেশি দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে  অন্তত ৪জন প্রবাসী বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ১৮ জানুয়ারী  শনিবার  দেশটির রাজধানী লিসবনে এ ঘটনাটি ঘটে ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, লিসবনের বাংলাদেশি পাড়া খ্যাত বেনফোরমসো রোডের মার্তিম মনিজে শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে দা-চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি  সংঘর্ষে  জড়ায় পর্তুগালের বাংলাদেশি সিনিয়র অভিবাসী মো.ফরহাদ  মিয়া এবং অলি উদ্দিন ও  তাদের  গ্রুপ।

এসময়  সংঘর্ষ স্থলে অন্তত ৪ জন বাংলাদেশি আহত হন ।পরে স্থানীয় বাংলাদেশিরা আহতদের উদ্ধার করে লিসবনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে রোববার রাত থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযানে নেমেছে পর্তুগিজ পুলিশ ।এ ঘটনায় বাঙ্গালী পাড়া  লিসবনের মার্তিমনিজ  এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী ও পুলিশী তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে ১জন বাংলাদেশীর মৃত্যর খবরটি সঠিক নয়। এঘটনার সংবাদ জানতে  বাংলাদেশ এবং বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা  উদ্ভিগ্ন হয়ে  পরিচিতজনদের  সাথে যোগাযোগ করছেন।  বিভ্রান্তিমূলক এই সংবাদ পরিবেশন নিয়ে লিসবন বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও  ক্ষোভ বিরাজ করছে।

লিসবনে বসবাসরত বাংলাদেশী সংবাদকর্মী রনি মোহাম্মদ এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর সংবাদটি গুজব। তবে আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

লিসবনে বাংলাদেশী রেষ্টুরেন্ট- স্পাইসী রেস্টুরেন্ট এর সত্বাধিকারী দেলওয়ার হোসেন জানিয়েছেন, এই ঘটনাটি কোন রাজনৈতিক দ্বন্ধ বা কমিউনিটি সার্থ সংশ্লিষ্ট নয়। এটা দুই পক্ষের ব্যক্তিগত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হয়েছে বলে সকলেই বিশ্বাস করছেন।

উল্লেখ্য মো.ফরহাদ মিয়া পর্তুগাল আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং তার দেশের বাড়ি সিলেটের ওসমানি নগর উপজেলার পশ্চিম কৈলনপুর ইউনিয়নে এবং অলউর  রহমান পর্তুগাল বিএনপির সভাপতি ও তার দেশের বাড়ি সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নে।

এ ঘটনায় লিসবনের বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এবং লিসবনের মূলধারার রাজনীতিবিদ – রানা তাসলিম উদ্দিন গতকাল রবিবার মাগরিবের নামাজের পর লিসবনের জামে মসজিদে এক বিবৃতিতে জানান, এ ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অনলাইন কিছু পত্রিকায়  বিভিন্নভাবে ভুল ব্যাখ্য দেয়া হচ্ছে । যার সাথে ঘটনার সত্যতা নেই। কেউ কেউ রাজনৈতিক বা কেউ কেউ মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে বলে প্রচার করেছেন। আসলে ঘটনাটি তাদের দুই গ্রুপের একান্ত ব্যক্তিগত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হয়েছে।

প্রবীণ এ নেতা লিসবনে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্ক থেকে প্রতিবাদ করে যাওয়ার জন্য আহবান জানান। যাতে করে এই

দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যক্তিগত সমস্যাকে কেউ রাজনৈতীক বা ধর্মীয় ঘটনা হিসেবে প্রভাবিত করতে যেন না পারে। যা ইতিমধ্যে লিসবনে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে একটি নেতিবাচক উদাহরণ হয়েছে।

 

Developed by :