Monday, 17 February, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




তলব করা হচ্ছে আয়কর নথি ॥ শো রুমকে চিঠি দেয়া হবে

বাবুলের প্রাডো’র সন্ধানে আয়কর বিভাগ

সিলেট: জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের নেতা ও ফিজা এন্ড কোং এর স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বাবুলের সেই টয়োটা প্রাডো গাড়ির বিষয়ে অনুসন্ধানে নামছে আয়কর বিভাগ। রেজিস্ট্রেশন বিহীন এই বিলাসবহুল গাড়িটি বাবুলের আয়কর নথিতে রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিলেট আয়কর বিভাগের উপ-কর কমিশনার কাজল সিংহ সিলেটের ডাককে জানিয়েছেন, দামী এই গাড়ির বিষয়ে আমরা অনুসন্ধান চালাবো। বাবুলের আয়কর নথিতে এই প্রাডো না থাকলে এর মূল্য যে পরিমাণ হবে-সেই পরিমাণে অর্থ ‘ব্ল্যাক মানি’ (কালো টাকা) হিসেবে ইনকাম (আয়) ধরা হবে।

এদিকে সিলেটের ডাক-এ এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রাডো গাড়িটি সিলেট থেকে গোপনে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। আয়কর বিভাগ, পুলিশসহ প্রশাসনের কবল থেকে রক্ষা পেতেই গাড়িটি গোপনে পাঠানো হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগ অনুসন্ধান করছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সিলেট মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফিজা এন্ড কোং এর স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বাবুল রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিলাসবহুল দেড় কোটি টাকা মূল্যের টয়োটা প্রাডো চালাচ্ছেন মর্মে সিলেটের ডাক-এ একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি খোঁজ নেয় আয়কর বিভাগ। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগও সড়কে নজরদারী বৃদ্ধি করে। বিষয়টি টের পেয়ে প্রাডোর মালিক তাঁতী দলের নেতা নজরুল ইসলাম বাবুল গত বৃহস্পতিবার সকালে গোপনে গাড়িটি সিলেট থেকে সরিয়ে ফেলেন।

একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার এ নিয়ে সিলেটের ডাক-এ সংবাদ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক তৎপর হন বাবুল। তিনি বিশ্বস্ত চালককে দিয়ে প্রথমে গোপনে সকাল বেলায় গাড়িটি নগরী থেকে সরিয়ে নেন। এরপর কৌশলে গাড়িটি ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে গাড়িটি ঢাকায় রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় ৩ বছর আগে রাজধানী ঢাকার কাকরাইলের (১০৬/১) নিউ অটো গ্যালাক্সি থেকে টয়োটা প্রাডো গাড়ি ক্রয় করেন বাবুল। বিআরটিএর দেয়া গ্যারেজ টোকেন (ঢাকা-৪৬৭/ম) দিয়ে গাড়িটি ঢাকা থেকে সিলেটে নিয়ে আসা হলেও রেজিস্ট্রেশন না করে গ্যারেজ টোকেন দিয়েই অবৈধভাবে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন নজরুল ইসলাম বাবুল। এর ফলে রেজিস্ট্রেশন ও ট্যাক্স বাবদ সরকারকে প্রায় ৪ লাখ টাকা ফাঁকি দেন। এছাড়াও প্রতি বছর ট্যাক্স ও নবায়ন ফির অর্থও ফাঁকি দিচ্ছিলেন বাবুল। অভিযোগ পেলে বিষয়টির অনুসন্ধানে নামে সিলেটের ডাক। সিলেটের ডাক এর অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য বেরিয়ে আসে।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, পোর্ট থেকে গ্যারেজে আনার জন্যে বিআরটিএ একটি সাময়িক টোকেন দেয়। গ্যারেজ টোকেন দিয়ে শোরুমগুলো এভাবে পোর্ট থেকে গাড়িগুলো নিয়ে আসে। কিন্তু বিক্রয়ের পর কয়েকমাস ব্যবহৃত হলেও পরে রেজিস্ট্রেশন হলে গ্যারেজ টোকেন ফেলে দেয়া হয়। কিন্তু, ৩ বছরেও বাবুল এই গাড়ি রেজিস্ট্রেশন না করেই গ্যারেজ টোকেন দিয়েই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা জানান, রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় গাড়িটি অবৈধভাবে চলছে বলে ধরে নিতে হবে।

নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার ফয়সল মাহমুদ বলেন, ‘গাড়িটি রাস্তায় পেলে আমরা ধরবো। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। রেজিস্ট্রেশন বিহীন গাড়ির ব্যাপারে পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

সিলেট আয়কর বিভাগের উপ-কর কমিশনার কাজল সিংহ বলেন, সিলেটের ডাক এ সংবাদটি দেখেই আমাদের নজরে বিষয়টি এসেছে। বাবুলের আয়কর নথিতে এই প্রাডো আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি এই প্রাডো তার নথিতে না পাওয়া যায়-তাহলে বোঝা যাবে এটা ‘ব্ল্যাক মানি’। আয়কর নথিতে এই গাড়ির উল্লেখ থাকলে তো আর সমস্যা নেই। গাড়িটিকে ইতোমধ্যে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে এমন দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, কাকরাইলের ঐ শোরুমে আমরা চিঠি দেবো। কবে, কখন, কত টাকায় তারা বাবুলের নিকট এই প্রাডো বিক্রি করেছিল তা আয়কর বিভাগকে জানাতে হবে। -সিলেটের ডাক, প্রকাশ ১৮ জানুুয়ারি ২০২০

 

Developed by :