Sunday, 26 January, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




জেলা ও মহানগর আ'লীগের আলোচনায় বক্তারা

বঙ্গবন্ধুর ‘আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ পড়ার আহ্বান

সিলেট: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বক্তারা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও বাঙালি একই সূত্রে গাঁথা। স্বাধীনতা পরবর্তী বন্দিদশা থেকে বঙ্গবন্ধু স্বদেশে ফিরে এসে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।

কিন্তু ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট তাঁকে স্বপরিবারের হত্যা করে দেশ নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। সে সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করে জাতির সাথে তামাশা করা হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়ে পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সন্নিবেশিত করেছেন। এজন্য বঙ্গবন্ধু নতুন প্রজন্মের কাছে স্বমহীমায় আবির্ভূত হয়েছেন।

বক্তারা আরো বলেন, আওয়ামী পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে কমপক্ষে বঙ্গবন্ধুর ‘আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থ দু’টি পড়া উচিত। তাহলে বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম, রাজনৈতিক প্রাজ্ঞতা ও দূরদর্শীতা এবং সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হবে।

গতকাল শুক্রবার বেলা ৩ টায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মো. লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগারের সভাপতি লেখক ও সাংবাদিক আল আজাদ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুল আলম।

প্রধান আলোচক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। আমরা সার্বভৌম বাংলাদেশ পেতাম না। বাঙালি জাতির নির্দিষ্ট মানচিত্রও তৈরি হতো না। আজকে আমরা বাংলাদেশ পরিচয়ে বিদেশের দূতাবাসে, জাতি পরিচয়ে কর্মযজ্ঞ চালাতে পারতাম না। তাই বঙ্গবন্ধুর এ ঋণ কোনোদিন শোধ করা যাবে না।

সাংবাদিক আল আজাদ বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা নন, তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালিও। স্বাধীনতা-উত্তর আন্তর্জাতিক পরিণ্ডলে বাংলাদেশের জন্য স্বীকৃতি আদায়ে তাঁর প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতি তাঁকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতার মর্যাদায় আসীন করেছে।

ড. সৈয়দ সামসুল আলম বলেন, বঙ্গবন্ধু রাজনীতির মহানায়ক থেকে হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রতিক। প্রাগৈতিহাসিক আমল থেকেই বাঙালি জাতি যার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন তিনি হলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতিকে একটি পতাকা বা মানচিত্রই দেননি, তাদেরকে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন এর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন খান।

অনুষ্ঠানে এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আর বেশি দূর নয়। তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালে আমরা উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবো। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য পূরণ হবে না। এ কারণে আওয়ামী পরিবারের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়ন মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দিয়ে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান মিসবাহ সিরাজ।

পরে আওয়ামী লীগ নেতারা নগরীর শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।

 





সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :