Sunday, 26 January, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের একই গ্রুপে সংঘর্ষ, মামলা দায়ের

বিয়ানীবাজার: বিয়ানীবাজার ইনার কলেজ রোডে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে ২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজনকে সিলেট প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় পাল্টা পাল্টি এজাহার দাখিল করা হয়েছে।

পুলিশ গতকাল রাতে লাল বাউরভাগের আহত মুসার পক্ষের মামলা রেকর্ড করেছে। তবে, সাইদুর-নাজিম-সাব্বির বলয় জানিয়েছে, তাদের মামলা রেকর্ড না হলে তারা আদালতের শরণাপন্ন হবেন।

জানা যায়, গত কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দেয়। এ নিয়ে নেতাকর্মী দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এর জের ধরে গতকাল সোমবার বিকেলে পৌর এলাকার ইনার কলেজ রোডে দু’পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের ছাত্র ইকবাল মাহমুদ মুসা এবং সাইদুর-নাজিম-সাব্বির গ্রুপের আবু হানিফ রক্তাক্ত জখম হয়। এ ঘটনার একপর্যায়ে সিনিয়র নেতারাও দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।

পরে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে আহত হানিফকে সিলেট প্রেরণ করা হয়েছে বলে মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় রাতে মুসার চাচাতো ভাই রাহেল আহমদ বাদি হয়ে পাল্টা গ্রুপের নেতা নাজিম উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, সাব্বির আহমদসহ ৮ জনের নামোল্লেখ করে বিয়ানীবাজার থানায় এজাহার দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই এজাহার মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। মামলা নং ০৭, তারিখ ০৬/০১/২০২০।

অপরদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হানিফের বড় ভাই ঘুঙ্গাদিয়া গ্রামের সাইফুল আলম সুমন বাদি হয়ে ঐ রাতেই মুসা, এমাদ, ফয়েজসহ ৭ জনের নামোল্লেখ করে বিয়ানীবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঐ এজাহারে তিনি পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে রক্তাক্ত জখম করার কথা উল্লেখ করেন।

পুলিশ সুমনের অভিযোগ রাখলেও মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি।

এ নিয়ে দু’পক্ষে মৃদু উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় ফের সংঘাত-সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, ছাত্রলীগের একই গ্রুপে ভাংগনের খবরে পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপগ্রুপের সৃষ্টি এবং ভাংগন স্থায়ী করতে আওয়ামী পরিবারের দু’এক নেতা নেপথ্য কলকাঠি নাড়ছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

পাল্টা গ্রুপের নেতা সাইদুর রহমান জানান, আমরা একসময় পল্লব গ্রুপে ছিলাম, এখন নেই। এ কারণে পল্লব গ্রুপের সন্ত্রাসীরা আমাদের কর্মী আবু হানিফকে রক্তাক্ত জখম করেছে। আমরা থানায়  লিখিত অভিযোগ  দিয়েছি। রেকর্ড না হলে আদালতে যাব।

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ অবনী শংকর কর বলেন, আহত মুসার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামী গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আরেকটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 





সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :