Wednesday, 3 June, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




১০ দিনের মধ্যে জেলা জাপার আহ্বায়ক কমিটি

বিয়ানীবাজারের সন্তান তাজ রহমান ফের জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য

ছাদেক আহমদ আজাদ: জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় সম্মেলনের ৯ দিন পর প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের ৪১ জনের মধ্যে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কৃতিসন্তান এ টি ইউ তাজ রহমানসহ ৩৭ প্রেসিডিয়াম সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। একই সাথে তাজ রহমানকে সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত মহাসচিব নিয়োগ করা হয়েছে।

জাপার কেন্দ্রীয় কমিটিতে এখন পর্যন্ত প্রেসিডিয়াম হিসেবে তাজ রহমান অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সাবেক দু’এমপি সেলিম উদ্দিন ও ইয়াহইয়া চৌধুরীর পদ-পদবি নিয়ে তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা সরব রয়েছেন। তাঁরা পুরনো পদে বহাল থাকবেন, নাকি অন্য পদে তাদের পদায়ন হবে-এ নিয়ে চলছে বিভিন্ন ধরণের আলোচনা।

গতকাল সোমবার রাতে এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জাপার নবনির্বাচিত প্রেসিডিয়াম সদস্য এ টি ইউ তাজ রহমান বলেন, ‘পার্টির চেয়ারম্যান প্রত্যেকের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রেসিডিয়ামের নাম ঘোষণা করেছেন। কমিটিতে তাকে মূল্যায়ন করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখন পার্টির চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী দলকে এগিয়ে নিতে আমি প্রাণপন চেষ্টা করবো।’

তিনি বলেন, কিছুদিনের মধ্যে দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। যারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ও দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয়-তাদেরকে অবশ্যই দল মূল্যায়ণ করবে। তিনি এও বলেন, পার্টির প্রেসিডেন্ট জিএম কাদেরের সিদ্ধান্তের ওপর তাদের পদ-পদবী প্রাপ্তির বিষয়টি নির্ভর করছে।

তিনি আরো বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে সিলেট জেলা জাপার সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি শিগগিরই সম্মেলনের আয়োজন করবে। দলীয় নেতাকর্মীদের এ ব্যাপারে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি ইয়াহইয়া চৌধুরী বলেন, দলীয় পদ-পদবি পাবার চেয়ে আগে দলের একজন ভালো কর্মী হতে চাই। দল আমাকে যে দায়িত্ব দিবে তা যথাযথভাবে পালনের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, এখন যাচাই-বাছাই চলছে। আগামী ১০ জানুয়ারির পর কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হবে। সেখানে সিলেটের অনেকের নাম থাকবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সিলেটের রাজনীতিতে তাজ রহমান এক পক্ষ এবং ইয়াহইয়া চৌধুরী ও সেলিম উদ্দিনের অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন।

দলে আধিপত্য নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তাজ রহমানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ দল থেকে সেলিম উদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। কিছুদিন পর সেলিমের অভিযোগে তাজকে পাল্টা বহিষ্কার করেন এরশাদ। দু’নেতাকে নিয়ে ‘ভানুমতি’র খেলা শুরু হলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন এবং অনেকে পার্টি চেয়ারম্যানের ওপর চরম ক্ষিপ্ত হন। দলের উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত দু’জনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

তখন থেকে সিলেট জেলা জাতীয় পার্টিতে বিশৃংখল অবস্থা বিরাজ করছে। সেলিম-তাজ দ্বন্দ্বে নেতাকর্মী দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে জাপাকে চাঙ্গা করতে এ টি ইউ তাজ রহমানকে সিলেট জেলা আহ্বায়কের দায়িত্ব দেন পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ। তিনি দীর্ঘদিন থেকে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করলেও নানাবিধ কারণে সম্মেলন করতে পারেননি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে পরাজিত হন আলহাজ মো. সেলিম উদ্দিন। মূলতঃ এরপর থেকে তিনি দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান। যদিও এরশাদের অসুস্থতার খবর পেয়ে দেশে আসেন সেলিম উদ্দিন। তিনি এরশাদের জানাজায়ও উপস্থিত ছিলেন। তবে, পার্টির নবম কাউন্সিলে অনুপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি সেলিম উদ্দিন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে নানা নাটকীয়তা শুরুর প্রায় সাড়ে ৫ মাস পর ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয় পার্টির নবম কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শেখ সিরাজুল ইসলাম জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রওশন এরশাদ এর নাম ঘোষণা করেন। এরপর দলীয় গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের মহাসচিব পদে মসিউর রহমান রাঙ্গার নাম ঘোষণা করেন।

পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর এটাই ছিল জাতীয় পার্টির প্রথম সম্মেলন। দলের এই নবম কাউন্সিল অনুষ্ঠানে আসেননি রওশন এরশাদ ও তার ছেলে রাহগির আল মাহী সাদ এরশাদ। তখন দলের নেতারা জানিয়েছিলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে রওশন অনুষ্ঠানস্থলে আসতে পারেননি।

সূত্রমতে, নবম কাউন্সিলে জাতীয় পার্টিতে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছাড়াও সৃজন করা হয়েছে অতিরিক্ত মহাসচিবের পদ। দেশের আটটি বিভাগে আটজন অতিরিক্ত মহাসচিব নির্বাচিত হবেন। এছাড়াও কো-চেয়ারম্যান পদে ৫ নেতাকে রাখা হবে।

 

Developed by :