Friday, 24 January, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১১ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




শিলংয়ে তিন দিনের কারফিউঃ তামাবিলে আটকা তিন শতাধিক বাংলাদেশী পর্যটক

ভারত: ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং জুড়ে তিনদিনের কারফিউ জারী করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ফলে শুক্রবার সকাল থেকে শিলংমুখী  বাংলাদেশী তিন শতাধিক পর্যটককে ডাউকী ইমিগ্রেশন থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে ভারতের কর্তৃপক্ষ।

তামাবিলে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন তাদের ভারতে ঢোকার অনুমতি দিলেও ডাউকী  তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে কোন ধরনের নোটিশ না দিয়েই ভারত তাদের আকস্মিকভাবে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়।

গোয়াহাটিতে বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন জানিয়েছেন, শিলংয়ে তিনদিন পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকতে পারে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তা আরো বাড়তে পারে। যাতায়াত বন্ধ করে দেয়ায় বাংলাদেশি পর্যটকরা বিপাকে পড়েছেন।

সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে বাংলাদেশিদের  ঢুকতে দিচ্ছে না সে দেশের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। ভারতের নাগরিকত্ব বিল নিয়ে উত্তেজনার পর মেঘালয় রাজ্যে কারফিউ জারির কারণে বাংলাদেশিদের সে দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়া আচমকা এই বাধায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি পর্যটকেরা। আগে থেকে না জানায় শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে অনেক পর্যটক তামাবিলে জড়ো হন।
বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও ভারতীয় ইমিগ্রেশন আটকে দেয়। ফলে ভারতের ডাউকি থেকে ফিরে আসতে হয় তাদের।

সিলেটের তামাবিল দিয়ে ডাউকি হয়ে সাধারণতঃ ভারতের মেঘালয় রাজ্যে বেড়াতে যান বাংলাদেশিরা। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় পর্যটকদের ভিড়ও ছিল তুলনামূলক বেশি। তবে বৃ্হহস্পতিবার বিকেল থেকে মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে কারফিউ জারি করা হয়।

সিলেটের তামাবিল কাস্টমসের উপ-পুলিশ পরিদর্শক রমজান মিয়া জানান, সকাল ১১টা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আমরা শতাধিক যাত্রীকে ভারতে ছাড়ি। তবে কিচ্ছুক্ষণ পরই তারা ভারতের কাস্টমস থেকে ফিরে আসেন। তাদেরকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান তারা।

রমজান বলেন, এর কিচ্ছুক্ষণ পর ভারতীয় কাস্টমসের একজন কর্মকর্তা এসে মেঘালয়ের অস্থিরতার কারণে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান এবং আজকে আর যাত্রী না ছাড়তে আমাদের অনুরোধ করেন।

শিলংয়ে বেড়াতে যাওয়ার জন্যে শুক্রবার সকালেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তামাবিলে হাজির হন কুমিল্লার সাদ উদ্দিন। তিনি বলেন, ডাউকিতে অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখার পর ভারতীয় কাস্টমস কর্মকর্তারা আমাদের দেশে ফিরিয়ে দেন। এ ব্যাপারে তারা আগে থেকে কিছু জানায়নি। ফলে আমাদের মতো অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ভারতের ডাউকি কাস্টমস অফিসের কাস্টমস কর্মকর্তা ডেকলিন রেনজা বলেন, কারফিউর কারণে শিলংয়ে হোটেল-দোকানপাট সব বন্ধ আছে। পর্যটকদের দুর্ভোগ আর নিরাপত্তার কথা ভেবেই তাদের যেতে দিচ্ছি না। পরিস্থিতি শান্ত হলে আবার বাংলাদেশি পর্যটকরা যেতে পরবেন।

এদিকে আজ শুক্রবার তামাবিল দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও ভারতে যাওয়ার কথা ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এ সফর বাতিল করেন।

 





সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :