Friday, 24 January, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১১ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




মহানুভব এক নেতার গল্প

স্পাইসি থেকে ফিরে –এস এম হক–

এস এম হক

আজ একটা হলুদ বিকালের কথা বলবো। বিকেলটা আমাকে বিবেকের আদালতে দাঁড় করিয়েছে অপ্রস্তুত পথভ্রষ্ট পথিকের রুপে। আমি বিবেকের আদালতে একাই বাদী, বিবাদী, উকিল, বিচারকের আসনে সমাসীন। বিকেলটা আমাকে থমকে দিয়েছিলো অদ্ভুত এক দৃশ্যপটের সম্মুখীন করে। বাদী কিংবা বিবাদী হিসেবে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিলো আমার। তবে বিকেলটি আমাকে নিসর্গশোভায় শোভিত করে বড় মনের মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়ে গেলো।

আসুন সেই হলুদ বিকেলটির গল্প বলি

বই পড়া আমার স্বভাব। প্রতি সপ্তাহের মত আজও বইয়ের সন্ধানে মুসলিম সাহিত্য সংসদে পছন্দের বই সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম। বইয়ের পেছনে ছোটা আর নতুন কিছু জানা আমার শৈশবের প্রেম।আজও কিন্তু অবিশ্বাস্য অনেক কিছু শেখেছি তবে তা কোন পৌরাণিক সভ্যতার ইতিহাস নয়, নয় কোন রহস্যময়ী কাহিনী। নিছক এক সাদামটা অকৃতজ্ঞ কর্মীর সাথে তার রাজনৈতিক অভিভাবকের নিষ্কলুষ আলিঙ্গনের মহানুভবতার চাক্ষুষ স্বাক্ষী হয়ে।

সিলেট সিটি সেন্টারের সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠছি। কাকতালীয় দেখা হয়ে যায় নাসির ভাইয়ের সাথে। আমি কিন্তু চক্ষু লজ্জায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কারন পরিস্থিতির শিকার হয়ে নাসির ভাইয়ের অবাধ্য হয়ে কাজ করেছি অনেক। তবে ব্যক্তি নাসির ভাইয়ের ব্যক্তিত্বের প্রতি আমার সবসময় অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছিলো আজও আছে ভবিষ্যতের হাজার সমীকরণ শেষেও ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা থাকবে। তবে শ্রদ্ধার মাত্রাটা আজ বেড়ে গেলো অনেক।

নাসির ভাই লিফলেটর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন সাথে মজির ভাই শান্ত দা, সুজেল ভাই। আমার চোখে চোখ পড়ে যায় শান্ত দা’র। উনি ইশারা করলেন আমিও ভয়ে ভয়ে সামনে এগুলাম। এ ভয় অনুশোচনার ভয়, এ ভয় চক্ষু লজ্জার ভয়, এ ভয় ভৎসনার ভয়। নাসির ভাইয়ের সামনে দাঁড়িয়ে সালাম দিলাম আমাকে দেখেই বুকে জড়িয়ে নিলেন। অনেকটা হারিয়ে যাওয়া মায়ার কোন মানুষকে ফিরে পেয়ে যেমন আনন্দ ঠিক তেমনই অনুভূতি ছিলো। আমি লজ্জায় তাঁর  মুখের দিকে থাকাতে পারিনি নিচের দিকে তাকিয়ে রইলাম আমার খোঁজ খবর নিলেন। আমি তাড়াহুড়ো করে চলে আসতে চাইলাম উনি বললেন চল উপরে, কথা না বাড়িয়ে উপরে উঠলাম।

জামাল চাচার অফিসে মিটিং শেষ করে উনি যখন স্পাইসি রেস্টুরেন্টে চলে যাবেন তখন আমি বিদায় নিতে চাইলাম আবার বললেন চল উপরে খেয়ে যাবে। কথা না বাড়িয়ে উপরে চলে গেলাম। সবাই যার যার মত করে ভুরিভোজে ব্যস্ত। আমিও খাচ্ছি হঠাৎ আলতো চোখে নাসির ভাইয়ের দিকে তাকালাম তাকিয়ে দেখি উনিও দরদী চোখে তাকিয়ে আছেন। চোখের ভাষায় উনি আমাকে বুঝাতে চেয়েছেন কর্মীর প্রতি অভিভাবকের রাগ হয় তবে একটা ক্ষুদ্র কর্মীও তার নেতার কাছে কথটা স্নেহের হতে পারে।

নাসির ভাই আমার মায়ের এলাকার মানুষ। আমি যখনই যা করি আমার মাকে বলেই করি। সিলেটে এসে যখন নাসির ভাইয়ের নেতৃত্বে আদর্শীক রাজনীতির চর্চা শুরু করি তখন মা আমাকে নাসির ভাইয়ের পরিবার সম্পর্কে আদ্যন্ত বললেন। সেই থেকে নাসির ভাইয়ের পরিবারের প্রতি আমার অন্যরকম অনুভূতি। উনার বাবা শুধু একজন চেয়ারম্যান ছিলেন না, ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন সালিশি ব্যক্তিত্ব। তবে নাসির ভাইয়ের প্রতি আমার কিছুটা অভিমান ছিল, কারন জেলা ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর সবাই যখন একে একে নাসির ভাইয়ের অফিসে গিয়ে উনার দোয়া নিচ্ছেন এবং আমিও অন্যদের মত আমার পরিচয় দিলাম এবং দোয়া চাইলাম। নাসির ভাই আমার সাথে একটু কথা বললেন এবং পরিশেষে আমাকে বললেন তুমি লেখাপড়া চালিয়ে যাও আর পদ নেওয়াটা কী এতই দরকার ছিলো।

নাসির ভাইয়ের কথায় অনেকটা হতাশ হয়ে ফিরে আসলাম। বাসায় ফিরে মা কে বললাম নাসির ভাই আমাকে মনে হয় একদম ভালোবাসেন না। মা বলললেন কেন কি হয়েছে? তখন কাহিনী খুলে বললাম। মা আমাকে বিষয়টা নানাভাবে বুঝিয়ে বললেন তবে আমার মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভ কাজ করতো সবসময়।

তবে নাসির ভাইয়ের পরিবার সম্পর্কে মায়ের কাছ থেকে শুনা ইতিহাস সেদিনের সেই হলুদ বিকেলটি আমাকে বাস্তবে দেখিয়ে দিলো। তখন মায়ের কথা আমার কাছে যথার্থই মনে হয়েছে। যখন আমার মত ক্ষুদ্র এক অকৃতজ্ঞ কর্মীকে উনি এতোটা ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরলেন শত ব্যস্ততার মাঝেও।যতক্ষণ উনি আমাকে বুকে জড়িয়ে রাখলেন ততক্ষণে আমি হাজারটা প্রশ্নের উত্তর মেলাতে থাকলাম। সকল সমীকরণের উর্ধ্বে উঠে আমার কাছে মনে হয়েছে বংশপরম্পরায় উনি একজন বড়মনের মানুষ।

চলার পথে হয়তো কখনো রাজনৈতিক সম্পর্কটা আগের মত হবে না। তবে ভালোবাসা আগের চেয়ে বহুগুন বেড়ে গেলো। ভালোবাসি যতটুকু আপনাকে, তারচেয়েও বহুগুন বেশি আপনার মহানুভবতাকে।

নাসির ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন এতে আমি খুশি হয়েছি তবে আনন্দে আত্মহারা হইনি। কারন এর চেয়েও বড় কিছু ধারণ করার যোগ্যতা তিনি রাখেন। নাসির ভাইয়ের এই প্রাপ্তিতে আমি শুধু বঙ্গবন্ধু তনয়াকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, অন্য কাউকে নয়। কারণ এ প্রাপ্তি একান্তই তাঁর  মেধা, সততা ও দলের প্রতি আনুগত্যতার জন্য পেয়েছেন।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস নাসির ভাইয়ের হাতে নিরাপদ থাকবে পিতা মুজিবের রেখে যাওয়া আমানত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিলেট জেলা শাখা। ।

লেখক: শিক্ষার্থী।  জেলা ছাত্রলীগ কর্মী।

 





সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :