Saturday, 7 December, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




কাজের কাজী’ নাসির খান, সাধারণ সম্পাদকের যোগ্য দাবিদার

এস এম হক:

ভূরি ভূরি নেতা আছেন-কিন্তু নেতৃত্ব নেই। প্রতিশ্রুতি আছে, কিন্তু কাজ নেই। তার পরও হতাশ হওয়া যাবেনা, হাজার নেতার ভিড়ে খুঁজে নিতে হবে ‘কাজের কাজী’ একজন নেতাকে। আর তিনি হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান।

কমিটি আসলেই অনেকেই পদ পেয়ে নেতা হতে চান। অথচ নেতার জন্ম হয় নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে, আর নেতৃত্বের জন্ম হয় দীর্ঘ সময় ধরে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে। আমি মনে করি একজন ভালো নেতা হতে হলে প্রথমে তাকে একজন ভালো মানুষ হতে হবে। তার মধ্যে দায়িত্বশীলতা, দায়বদ্ধতা ও সততা থাকতে হবে। তার প্রতিশ্রুতি, ইতিবাচক মনোভাব, অনুপ্রেরণা, সহানুভূতি ও সৃজনশীলতার গুণাগুণের সঙ্গে থাকতে হবে প্রতিনিধিত্ব এবং সংগঠনের তৃণমূলের নেতা কর্মীদের প্রতি অগাধ আস্থা।

এসব গুণাবলি খুবই দরকার একজন ভালো নেতার জন্য। আজ এমন একজন নেতার কথা তুলে ধরবো, যিনি সময়ের প্রয়োজনে নেতৃত্ব দিয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী পরিবারকে, বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্নভাবে আন্দোলিত করেছেন সিলেটের রাজপথ তথা প্রত্যন্ত অঞ্চলের নেতা কর্মীদের তিনি হলেন সিলেটের মাটি ও মানুষের নাড়ি চেড়া ধন স্বপ্নের দীপ্তিময় প্রবাদ পুরুষ এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান।

তার পিতা আলা উদ্দিন খান ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বপ্রথম নির্বাচিত শেওলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান,আর চাচা সাহাদত খান ছিলেন ভাষা সৈনিক এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি সুতরাং রক্ত ও অস্তিমজ্জার টানে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনীতিতে পদার্পণ। একজন স্বচ্ছ ও পরিশ্রমী নেতা হিসেবে যার রয়েছে সুপরিচিতি।

তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে সিলেটের ১৩টি উপজেলায় চষে বেড়িয়েছেন বাঙালির হাজার বছরের আরাধনার স্বপ্ন পুরুষ পিতা মুজিবের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে। মূলত ছাত্রলীগের এই নেতার দায়িত্ব কালে সিলেটের অলি গলি জয় বাংলা স্লোগানে প্রকম্পিত হয়েছিল।

অত্যন্ত মেধাবী এই ছাত্রনেতা সিলেট “ল” কলেজ কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এল এল বি ও বার কাউন্সিল পরীক্ষা দিয়ে এডভোকেটশীপ ডিগ্রী অর্জন করার পরও আইন পেশার লোভনীয় সুযোগ ত্যাগ করে আবেগ ভালোবাসার ছাত্ররাজনীতি থেকে তিনি যোগ দেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। প্রথমে তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বনও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

বিগত জামাত বি এন পির আমলে অনেক চড়াই উতরাই পাড়ি দেন এই নেতা। তিনি ১/১১ এর সময় দীর্ঘ পাঁচ মাস কারা নির্যাতিত হন।সাবেক মেধাবী এই ছাত্র নেতা অসাধারণ দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পেয়ে দলকে সু সংগঠিত করার জন্য, এবং বিদ্যানন্দিনী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের বার্তা বাহক হিসেবে মানুষের দ্বারে দ্বারে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরছেন।

বিগত সিটি নির্বাচন গুলোতে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তিনি যথেষ্ট সচেষ্ট ছিলেন তা সর্ব মহলের জানা। জাতীয় নির্বাচনে সিলেটের প্রত্যেকটি আসনে নৌকার প্রতি গণজাগরণ সৃষ্টিতে তিনি ছিলেন অগ্রসৈনিক। শুধু নির্বাচনকালীন সময় নয় তিনি সিলেটের প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দলকে সু সংগঠিত করার জন্য।সদালাপী এই মানুষটি ইতিমধ্যে শুধু সংগঠন নয় সিলেটের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তার নেতৃত্বসুলভ আচরণে।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যেমন তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে তেমনি দলমত নির্বিশেষ সাধারণ মানুষও স্বপ্ন দেখে এমন নির্লোভ মানুষটিকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসালে রাজনীতি ও সংগঠন যেমন নিরপরাধ থাকবে তেমনি সাধারণ মানুষ সংগঠনের প্রতি আকৃষ্ট হবে।

আমার বিশ্বাস সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের আসন্ন কমিটিতে যদি সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদকে মূল্যায়ন করা হয় তবে এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান অবশ্যই সাধারণ সম্পাদক পদের যথার্থ দাবিদার।

লেখক: জেলা ছাত্রলীগ কর্মী।

 

Developed by :