Saturday, 7 December, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




দ্রুত দাম ওঠানামাকে দুষছেন ব্যবসায়ীরা

পণ্য কিনে ঠকছেন ক্রেতা!

ছাদেক আহমদ আজাদ: গত কয়েক মাস ধরে সিলেটের নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল। এই সুযোগে একেক দোকানে একেক দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। বাজার মনিটরিংয়ের জোরালো পদক্ষেপ না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। অবশ্য, সিলেট চেম্বার সভাপতি জানিয়েছেন, তারা এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে চান। এ নিয়ে চেম্বার কনফারেন্স রুমে আজ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সাথে তাদের পূর্বনির্ধারিত সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

এমনিতে পেঁয়াজের ঝাঁজে ও মরিচের ঝালে বেসামাল নিত্যপণ্যের বাজার। সবজির বাজারও প্রায় ওঠানামা করে। শুকনো মরিচের কেজি ৩০০ টাকা ছুঁয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। আবার পেঁয়াজ ২৫০ টাকার চূঁড়ায় ওঠে বর্তমানে ১২০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের বাজার গত সপ্তাহে ৫০ কেজির বস্তায় ১৫০-২০০ টাকা বাড়লেও এখন স্থিতিশীল রয়েছে। সবজির বাজার মোটামুটি ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর বন্দরবাজার থেকে মসলা জাতীয় পণ্য কিনেছেন গার্ডেন টাওয়ারের বাসিন্দা মাহমুদ হোসেন।

কথা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘৫ লিটার সয়াবিন তেল কিনেছি ৪৬০ টাকায়। পরে দেখতে পেলাম একই ব্র্যান্ডের সমান তেল পাশের দোকানে বিক্রি হচ্ছে ৪৪৮ টাকায়। একইভাবে ক্রয়কৃত পণ্যের তারতম্য ৫০০ গ্রাম গুঁড়ো দুধ ২৫০-২৬০ টাকা, ৫০০ গ্রাম গুড়ো মরিচ ১৮০-১৯০ টাকা, হলুদ ১৮৫-১৯০ টাকা, মুগডাল ১২৫-১৩৫ টাকা।’ তিনি বলেন, ‘আমরা পণ্য কিনে রীতিমতো ঠকছি। বাজার মনিটরিং নিয়মিত থাকলে এমনটি হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।’ পণ্য কিনে ঠকার এমন অভিযোগ মাহমুদের মতো আরো অনেকের। নগরীর কয়েকটি মুদি দোকান ও সবজি বাজার ঘুরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

অপরদিকে, ক্রেতা সাধারণ বেশি দামে পণ্য বিক্রির দায়ে জড়িত ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানা করার দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল খুচরা বাজারের বিভিন্ন দোকান ঘুরে কেজিপ্রতি পেঁয়াজ, মরিচ, মসলা ও চালের দামে ৪-৮ টাকা কম-বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

এ প্রসঙ্গে মুদি ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় সব পণ্যের গায়ে দাম লেখা রয়েছে। আমরা বাজার মন্দা হওয়ায় এর চেয়েও ২-৩ টাকা কমে বিক্রি করি। হয়তো এ কারণে দরের তারতম্য হতে পারে। আবার খুব দ্রুত পণ্যের দাম ওঠানামাও এর পেছনের বড় কারণ থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গতকাল সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা যায়- পেঁয়াজ কেজিপ্রতি তুর্কি ১২০-১২৫, বার্মা ১৮৫-১৯০, ভারতের এলসি পেঁয়াজ ১৭৫-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রহ্মময়ী বাজারের ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম জানান, গত দু’দিনে পেঁয়াজের দর কেজিপ্রতি গড়ে ১০ টাকা বেড়েছে। বিক্রি আগের চেয়ে বাড়েনি বরং দিন দিন কমছে।

সবজি বাজারে কেজিপ্রতি ফরাসের বিচি ১০০ টাকা, পাতাকপি ৩৫ টাকা ও ফুলকপি ৫০ টাকা, থাল বেগুন ৬০-৭০ টাকা, বেগুন ২৫ টাকা, শিম ৬০ টাকা, মুলা ২৫-৩০ টাকা, কাঁচা পেপে ২০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা, গাজর ৪৫-৫০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, শালগম ৪০ টাকা, করলা ৫০-৬০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, ক্ষিরা ৪০ টাকা ও চিচিঙ্গা ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন বলেন, শীতকাল আসায় এখন প্রচুর পরিমাণে সবজি বাজারে উঠছে। এজন্য বাজার এখন স্থিতিশীল হলেও আগামীতে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

অপরদিকে, গতকাল সোমবার নগরীতে ৫০ কেজির (বস্তা) চাল চিনিগুড়া ৩৪০০-৩৪৫০ টাকা, মিনিকেট ১৯৫০-২০০০ টাকা (আতপ), সিদ্ধ নরমাল ১৬০০-১৬৫০ টাকা ও উন্নত ২০০০ টাকা, জিরা (সিদ্ধ) উন্নত ২৬০০-২০০ টাকা ও নরমাল ২৫৫০ টাকা, হিরা (আতপ) উন্নত ১৩৮০-১৪০০ ও নরমাল ১৩০০ টাকা, মালা প্রকারভেদে ১৮০০, ১৬৫০ ও ১৩৮০ টাকা, পাইজাম (সিদ্ধ) উন্নত ১৭০০ টাকা, কাটারি সেনডালা চাল ২৫০০ টাকা দরে প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে।

লাল বাজারের চাল ব্যবসায়ী রিয়ান আহমদ জানান, গত সপ্তাহে চালের বস্তায় ১০০-১৫০ টাকা বাড়লেও দু’দিন থেকে প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। আগামীতে দাম আরো কমবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি এটিএম শুয়েব বলেন, ইতোমধ্যে চেম্বারের বাজার মনিটরিং সাব কমিটি কাজ শুরু করেছে। এ কমিটি যাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে সেজন্য আমরা জেলা প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা গুজব সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়ায়। আবার কেউ কেউ সুযোগে গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি দাম রাখে। এসব কারণে চেম্বার-প্রশাসন যৌথ মনিটরিং করলে ব্যবসায়ীরা সতর্ক হবেন। পাশাপাশি জনগণ সুফল পাবে এবং আমাদের মনিটরিংয়ের উদ্দেশ্য সফল হবে।

 

Developed by :