Friday, 13 December, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




জেলা আ’লীগ: কাউন্সিলরদের পছন্দ নাসির খান সাধারণ সম্পাদক

আজাদ রহমান: এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ক্লিন ইমেজের কর্মীবান্ধব আদর্শিক এক রাজনৈতিক নেতার নাম। বিগত জেলা আ’লীগের সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদকের যোগ্য ছিলেন। কিন্তু বয়োজ্যেষ্ঠতার বিবেচনায় তখন তাঁকে করা হয়েছিল জেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করায় নেতাকর্মীরা তাঁকে সফল রাজনীতিবিদ এর স্বীকৃতি দিয়েছেন।

সর্বশেষ গত মাসে জেলা আ’লীগের দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে বিয়ানীবাজার ও বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিপাহশালার পরীক্ষিত সৈনিক নাসির খান ইতোমধ্যে সিলেটবাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন কলুষিত না হয়েও কিভাবে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানো সম্ভব হয়। এজন্য তাঁর গুণের মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে জেলার ১৩টি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ পুরো বিভাগের আওয়ামী পরিবারের নেতাকর্মীর মধ্যে। তাইতো, রাজনীতির বাঁশিবাদক এডভোকেট নাসির খান বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার প্রয়োজনে যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে হুইসেল দিলেই মৌমাছির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ঝড়ো হয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেন।

পারিবারিকভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও দুঃসহ কারাগার জীবনের বর্ণনা শুনে ছোট থেকে বড় হয়েছেন নাসির উদ্দিন খান। তাঁর দৈহিক অবয়ব ইঙ্গিত করে তিনি একজন বঙ্গবন্ধুর খাঁটি সৈনিক, শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের পদধারি নেতা। এজন্য জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আসন্ন হলে সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট নাসির উদ্দিন খানের জয়গান দলীয় নেতাকর্মীর মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন কর্মীবান্ধব, আগাগোড়া ছাত্রলীগ-আ’লীগ, ক্লিন ইমেজ ও দলীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগ ব্যতীত কাউকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হবে না। এছাড়া কর্মীহীন, দুর্নীতিতে আসক্ত কোন নেতা শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নেই।

দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার চাহিদানুযায়ী এডভোকেট নাসির উদ্দিন খানের মধ্যে সকল যোগ্যতা বিদ্যমান রয়েছে। ছাত্রজীবনে তিনি অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সাথে শহর ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিমন্ডলে বেড়ে ওঠা নাসির খানের পিতা আলহাজ আলা উদ্দিন খান ছিলেন স্বাধীনতা পরবর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এমনকি তাঁর চাচা সা’দত হোসেন খান ছিলেন ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। পাশাপাশি তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক জাতীয় পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্থানীয় রাজাকার, আল বদর বাহিনীর নির্দেশে পাকিস্তানী বাহিনী তাদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। তারপরও নাসির খানের পরিবারের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধ সময়কালে সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতার পক্ষে ভূমিকা রাখেন।

সিলেটে রাজনীতি সচেতন মানুষের কাছে সা’দত খান শুধু একটি নাম নয়, রাজনৈতিক ইনস্টিটিউট-ও বটে। তারপরও সা’দত খানের ভাতিজা হিসেবে নাসির খান আওয়ামী রাজনীতিতে বাড়তি কোন সুবিধা ভোগ করেননি। স্কুল থেকেই আবেগ-অনুূভূতির জায়গা দখল করেছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। জনসমক্ষে ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করে তাঁর প্রমাণও তিনি দিয়েছেন। ফলাফল পেয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হয়ে। সেখান থেকেই বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে জেল-জুলুম হুলিয়া মাথায় নিয়ে আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদীতভাবে কাজ করেছেন। একপর্যায়ে চাচা সা’দত খানের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে আওয়ামী রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে আবিভূত হন এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, মেধা-মনন ও ক্লিন ইমেজে আকৃষ্ট হয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের আদর্শিক নেতা হিসেবে এডভোকেট নাসির উদ্দিন খানের রাজনৈতিক পদচারণা সিলেট তথা পুরা বিভাগজুড়ে বিরাজমান রয়েছে।

তবে একটি বিষয় লক্ষনীয়, সরকার দলের কোন কোন নেতার আর্শিবাদপুষ্ট হয়ে সিলেটে অনেক সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজের জন্ম হয়েছে। তাদের অনেকেই জেলও খাটছেন। কিন্তু এডভোকেট নাসির খানের কোন কর্মীকে এসব নোংরা কাজে কখনো দেখা যায়নি। তিনি তা সমর্থন কিংবা প্রশ্রয় দেন না বলে জানা গেছে। এজন্য নাসির উদ্দিন খান সিলেটের আওয়ামী রাজনীতির ‘আইকন’ বা ‘আইডল’ হিসেবে সর্বমহলে সু-খ্যাতি অর্জন করেন।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ‘সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’ নির্বাচন সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান। প্রশাসন কিংবা সরকারি কোনো সংস্থার হস্তক্ষেপ ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিদ্ব›দ্বীতাপূর্ণ নির্বাচন হয়। নাসির খানের যোগ্যতা, দক্ষতা, আন্তরিকতা ও বিশ^স্ততা এতই প্রকট ছিল, নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর উভয় পক্ষই জয়-পরাজয় হাসিমুখে মেনে নিয়েছে। যা চেম্বার নির্বাচনের ইতিহাসে মাইল ফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

রাজনীতির সাথে চেম্বারের তুলনা না হলেও রাজনৈতিক সচেতন সিলেটবাসীর অনেকেই তখন এডভোকেট নাসির উদ্দিন খানকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের যোগ্যতম দাবিদার বলে ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তখন এসব ঘোষণা ভাইরাল হয়।

আগামী ৫ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। হাজার হাজার নেতাকর্মীর সামনে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে জেলা আ’লীগের নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করবেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি।

জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির ৩ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক ও এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান। গত দু’দিন থেকে সুজাত আলী রফিকের নানা অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির বিষয় গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। এজন্য আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে তিনি আর এ পদের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন না।

এডভোকেট নিজাম উদ্দিন আপাদমস্তক একজন ভালো মানুষ এবং সৎ রাজনীতিবিদ। তাঁর নামে কোন অপবাদ এখনো প্রচার হয়নি। তবে, রহস্যজনক কারণে তিনি একাকী রাজনীতি করেন। কর্মীবান্ধব নেতার খ্যাতি তাঁর ঝুঁলিতে এখনো জমা হয়নি। তাছাড়া আ’লীগের মতো একটি বিশাল দল চালানোর মতো সার্বিক ক্ষমতা দেখাতে তিনি অনেকটা পিছিয়ে রয়েছেন। এসব বিষয় গোয়েন্দা জরিপে নিশ্চয় দলীয় সভানেত্রীর কাছে ইতোমধ্যে পৌছে গেছে।

আর সত্তরের দশকে জন্ম নেওয়া এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান পারিবারিকভাবে ধনে-জনে বলিয়ান। ছাত্ররাজনীতি থেকে গণরাজনীতি সব জায়গায় নেতা ও নেতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। কখনো পেছনে থাকাতে হয়নি, দুর্বার গতিতে এগিয়েছেন আওয়ামী রাজনীতিতে। মানুষের মন জয় করে কর্মী থেকে জননেতায় পরিণত হয়েছেন। ১/১১ এর সময় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ৫ মাস জেল খেটেছেন আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান। তাছাড়া স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে একজন ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে কারাবরণ করেছেন। ১৯৯১-১৯৯৬ সালে বিএনপি শাসনামলে মিথ্যা মামলায় কারান্তরিণ ছিলেন। এমনকি সিলেট সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক পরীক্ষা চলাকালে ছাত্রদল সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক নাসির খানকে বের করে দেয়। এ কারণে পড়ালেখায় একবছর তাকে পেছনে পড়তে হয়েছে।

সিলেটে ক্লিন ইমেজের আওয়ামী রাজনীতির আইডল কর্মীবান্ধব নেতা এডভোকেট নাসির খান। তিনি ইলেকশন কিংবা সিলেকশন এ দু’ক্ষেত্রে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন। এমনটাই মনে করছেন ১৩ উপজেলার আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক কাউন্সিলর ও ডেলিগেট। তাঁরা অধীর আগ্রহে সেই কাঙ্ক্ষিত শুভদিনের প্রত্যাশায় রয়েছেন।

 

Developed by :