Friday, 13 December, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে সভাপতি-সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা

সিলেট: সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটি ঘোষণা করা হয় ২০১১ সালের নভেম্বরে। তিন বছর মেয়াদের এ কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ৫বছর আগে। এ ৮ বছরে অনেকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে সম্ভব হয়নি সম্মেলন-কাউন্সিলের। তবে শেষপর্যন্ত সম্মেলনের হাওয়া লেগেছে মহানগর আওয়ামী পরিবারে। সম্মেলন-কাউন্সিলের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে।  ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কাঙ্খিত এ সম্মেলন।

তারিখ ঘোষণার পর থেকেই মহানগর আওয়ামী পরিবারের চাঙ্গাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন কেন্দ্রঘোষিত গুটি কয়েক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ছাড়া যাদের মাঠে তেমন একটা দেখা যায়নি তারাও গড় হাজির থাকছেন ওয়ার্ড সম্মেলনে। ব্যবসা-বাণিজ্য ফেলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। কারণে-অকারণে তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব পদ প্রত্যাশীদের কর্মী, সমর্থকরা। নিজেদের ছবি যুক্ত করে নিজ নিজ নেতার প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে রঙিন, ব্যানার আর ফেস্টুন সাটচ্ছেন নগরজুড়ে।

দীর্ঘদিন নেতাকর্মীরাও আসন্ন সম্মেলন-কাউন্সিল ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানামুখি তৎপরতা বেশ ভালোভাবেই উপভোগ করছেন। সব মিলিয়ে মহানগর আওয়ামী পরিবার এখন চাঙ্গা। সম্মেলন ও কাউন্সিলের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় মহানগর আ’লীগের নেতৃত্বে কারা আসছেন (?)-এ নিয়েও সবখানে চলছে সরব আলোচনা।

নেতাকর্মীদের কেউ কেউ বলছেন, সম্মেলনে মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসবে মহানগর আওয়ামী লীগে। আবার পুরনোদের শীর্ষপদে রেখে নতুন-পুরাতনদের নিয়ে ব্যালেন্স কমিটি আসার সম্ভাবনার কথাও বলছেন অনেকেই। তবে, নতুন কমিটির শীর্ষ বা শুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিতদের জায়গা হচ্ছে না-এমনটি মনে করছেন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী।  এতসব আলোচনার পর মহানগর আওয়ামী লীগের কান্ডারি চূড়ান্ত করার বিষয়টি নির্ভর করছে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর। কারণ তার টেবিলেই রয়েছে সব আওয়ামী লীগ নেতার আমলনামা।

মন্ত্রী, এমপি ও শীর্ষ নেতাদের আশির্বাদ বা লবিং-তদ্বিরে নয়, আমলনামা দেখেই এবার যোগ্যদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হবে-এমন প্রত্যাশা তৃণমূল নেতাকর্মীদের। আর একারণে শীর্ষ পদ প্রত্যাশি বিতর্কিত নেতা ও তাদের কর্মী সমর্থক চরম আতঙ্কে রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন কেউ কেউ।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট রাজ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মফুর আলী ও আবদুল খালিক, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলাওর। আর সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, অধ্যাপক জাকির হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র, বন ও পরিবেশ সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র দাস, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল, কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ সেলিম।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগে হাতেখড়ি। দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। মহানগর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক পদেও দায়িত্ব পালিন করেছি। মহানগর আওয়ামী লীগের আগের কমিটিরও বন ও পরিবেশ সম্পাদক ছিলাম। সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকাবস্থায় কখনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা জখলবাজির সঙ্গে জড়াইনি। সব সময়ই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা মাথায় রেখেছি বলেই ভুল পথে পা মাড়াইনি। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম। আর এ কারণে বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে অসংখ্যবার দমনপীড়নের শিকার হয়েছি। জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় আক্রান্ত হয়েছি।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হলে অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড আরও জোরদার করবেন বলেও জানান তিনি।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরী বলেন, আমি তৃণমূল থেকে দলে এসেছি। ছাত্রলীগ যুবলীগ করে ৮ বছর ধরে বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সাধারণ সম্পাদক হলে বর্তমান কমিটি থেকে দলের কার্যক্রম ১০ গুণ বেশী গতিশীল করব।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, নেতাকর্মীরা আমাকে সভাপতি হিসেবে চান। তবে সবকিছু নির্ভর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। তিনি দায়িত্ব দিলে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, দলের যে দায়িত্ব দেওয়া হবে সেই দায়িত্ব মেনে নিয়েই কাজ করব। দলের জন্যে আমি সবসময়ই প্রস্তুত। পদ প্রত্যাশী হলেই যে পদ পাওয়া যাবে-তা কিন্তু নয়। আমাদের সভানেত্রী আমাদের ব্যাপারে ভালো জানেন। তিনি ভালো করে জানেন, কে কি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

তিনি বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল আয়োজনে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপ-কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সম্মেলন সফলে দলের নেতাকর্মীদের সবাই নিরলসভাবে কাজ করছেন। -শ্যামল সিলেট

 

Developed by :