Saturday, 7 December, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




আলোর মুখে গোলাপগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের কমিটি, নেতৃত্বে ইকবাল-মিছবাহ!

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম: গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি চূড়ান্ত। যে কোন সময় ঘোষণা হতে পারে। এমনটি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আহমদ হোসেন।

তবে, এ কমিটি নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি’র একক চাহিদানুযায়ী, না দু’পক্ষের সমন্বয়ে করা হচ্ছে তা জানা যায়নি। এ মুহূর্তে জেলা নেতৃবৃন্দ ঢাকায় অবস্থান করছেন।

সূত্রমতে, দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে কোন ধরণের তৃণমূল ভোট ছাড়াই আপাতত ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি হচ্ছে। প্রস্তাবিত এ কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী, সিনিয়র সহ সভাপতি রফিক আহমদ, সহ সভাপতি মুবিন আহমদ জায়গীরদার, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী ফখর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মনসুর আহমদ ও মিজানুর রহমান রিংকু চৌধুরী। সর্টলিস্টে লুৎফুর রহমানসহ বিশৃঙ্খলাকারিদের কারো নাম রাখা হয়নি বলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। তারা এ কমিটিকে কোন গ্রুপের নয়, খাটি আওয়ামী লীগের কমিটি বলে দাবি করেছেন।

কিন্তু লুৎফর রহমানের সাথে ‘গণভবন’ খ্যাত এক আওয়ামী লীগ নেতা রয়েছেন। এজন্য শেষ পর্যন্ত লুৎফর রহমান কিংবা তার মতাদর্শের অনেককেই কমিটিতে দেখা যেতে পারে।

অপরদিকে, সম্ভাব্য এ কমিটির রূপরেখায় ঘোর আপত্তি জানিয়েছেন এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী। তাঁকে সভাপতি করা হলে সাধারণ সম্পাদক পদে রফিক আহমদ এর নাম তিনি প্রস্তাব করেন। এরপর পুরো দৃশ্যপট পাল্টে যায়। অনেকটা বিপাকে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। তবে, শেষ পর্যন্ত ইকবাল-মিছবাহ কমিটি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা যায়, গত ১৩ নভেম্বর বুধবার গোলাপগঞ্জ পৌরসভা প্রাঙ্গনে উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বিকেলে উপজেলা অডিটরিয়ামে কাউন্সিল অধিবেশনে কমিটি গঠন নিয়ে মতানৈক্য তৈরি হয়। এতে ‘ভোট কিংবা সমঝোতা’ এর কোন এক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আহমদ হোসেন কার্যক্রম স্থগিত করে পুলিশ প্রহরায় কাউন্সিলস্থল ত্যাগ করেন। এ নিয়ে লুৎফুর অনুসারী কতিপয় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী তাৎক্ষনিক কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষোদ্গার করে মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে। যা সরাসরি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে একদিন পর শুক্রবার ‘লুৎফুর রহমান’ বলয়কে অনুপ্রবেশ ও ষড়যন্ত্রকারি আখ্যায়িত করে আ’লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী পৌরশহরে মিছিল ও সভা করে। এ সময় নেতাকর্মী আ’লীগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারিদের বহিষ্কার ও দ্রæত কমিটি ঘোষণার দাবি জানান।

কিন্তু সম্মেলনের ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। তবে, পাইপ লাইনে থাকার খবর পাওয়া গেছে। যে কোন মুহূর্তে গোলাপগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের কমিটি আলোর মুখ দেখবে।

 

Developed by :