Friday, 13 December, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




চালের বাজারও উর্ধ্বমুখী

মরিচে ঝাল, পেঁয়াজে ঝাঁজ

ছাদেক আহমদ আজাদ

  সুস্বাদু রান্নায় মসলার অত্যাবশ্যকীয় উপাদান পেঁয়াজ এবং মরিচ। কিছুদিন থেকে পেঁয়াজের আকাশচুম্বী দামের উঠা-নামা রীতিমতো আতংক ছড়িয়েছে, গড়েছে ইতিহাস। গত ১০ দিনে পেঁয়াজের দাম গড়ে ১০০ টাকা উঠানামা করেছে। এখন পেঁয়াজের খুচরা মূল্য কেজিপ্রতি ২শ’ টাকা অতিক্রম করছে। আবার একই সময়ে কেজিপ্রতি মরিচ বেড়েছে গড়ে ১০০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। যা সিলেটের নিত্যপণ্যের বাজারে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া, চাল, তেল, ডাল, দুধ, হলুদসহ অপরাপর ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। কিছুতেই এসব দ্রব্যের উর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। যা সাধারণ মানুষকে রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে।

অন্যদিকে, গত সপ্তাহে লবণের দাম গুজব ছড়িয়ে বাড়িয়ে অসৎ ব্যবসায়ীরা ২৪ ঘন্টায় মোটা অংকের টাকা হাতিয়েছে। এ নিয়ে সারা দেশে লঙ্কাকা- ঘটেছে। যদিও কম সময়ের মধ্যে প্রশাসন তা কঠোর হস্তে দমন করতে সক্ষম হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল সোমবার সিলেটে কেজিপ্রতি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৭০-২০০ টাকায়। যা গত ২৪ ঘন্টায় গড়ে বেড়েছে ২০ টাকা। গত বছর একই সময়ে ৫ কেজির মূল্যে এখন এক কেজি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।

আবার, গত এক সপ্তাহে নিত্যপণের দাম পেঁয়াজের মতো না হলেও কিছুটা বেড়েছে। চাল প্রতিবস্তায় গড়ে বেড়েছে ১৫০-২০০ টাকা। এছাড়া, প্রতি লিটার তেল ৫ টাকা, প্রতি কেজি দুধ ২০ টাকা, মুগডাল ১০ টাকা, গুড়ো মরিচ ৮০ টাকা, শুকনো মরিচ ৯০ টাকা ও হলুদ ২০ টাকা বেড়েছে। নিত্যপণ্যের অপর উপাদানগুলোর দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

গতকাল সোমবার নগরীর বিভিন্ন পেঁয়াজের খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজিপ্রতি তুর্কি ১৭০, পাকিস্তানী ২০০, বার্মিজ ২০০, এলসি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৯০ টাকায়। এছাড়া, এক সপ্তাহে ২০ টাকা বেড়ে ৫ লিটার তেল ৪৬৫, ১০ টাকা বেড়ে এক কেজি দুধ ৫১০ টাকা, ১০ টাকা বেড়ে এক কেজি মুগডাইল ১৩০ টাকা, ৪০ টাকা বেড়ে ৫০০ গ্রাম গুড়ো মরিচ ১৯০ টাকা, হলুদ ১০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত ১০ দিনে শুকনো মরিচ কেজিপ্রতি ২০০ টাকার স্থলে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। এমন তথ্য জানিয়েছেন, নগরীর ত্রিদেবী স্টোরের ম্যানেজার কাজল রায়। তিনি জানান, সাধারণ মানুষ শুধুমাত্র পেঁয়াজের দাম বাড়ায় চিৎকার করছে। কিন্তু পেঁয়াজের আড়ালে মরিচের দাম লাফিয়ে বাড়লেও কারো মাথাব্যথা নেই। এ নিয়ে তেমন কেউ প্রশ্নও করে না, রাগও দেখায় না।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আলী আহমদ বলেন, দাম বাড়ায় ক্রেতাদের যেমন ভিড় নেই। তেমনি তুলনামূলক বিক্রি ৫ ভাগের একভাগে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা ছেড়ে শ্রমিকের কাজে যোগ দিতে হবে। চলতি সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কমার কোন লক্ষণ নেই বলেও তিনি জানান।

এদিকে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর কয়েকটি চালের দোকান ঘুরে দেখা যায়, ৫০ কেজির (বস্তা) চাল চিনিগুড়া ৩৫০০ টাকা, মিনিকেট ২০০০ টাকা (আতপ), সিদ্ধ নরমাল ১৬৫০ টাকা ও উন্নত ২০০০ টাকা, জিরা (সিদ্ধ) উন্নত ২৭০০ ও নরমাল ২৬০০ টাকা, হিরা (আতপ) উন্নত ১৪০০ ও নরমাল ১৩০০ টাকা, মালা প্রকারভেদে ১৮৫০, ১৬০০ ও ১৪০০ টাকা, পাইজন (সিদ্ধ) উন্নত ১৮০০ টাকা, কাটারি সেনডালা চাল ২৬০০ টাকা দরে প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোন কোন দোকানে প্রতিবস্তায় ১০০-১৫০ টাকা বিক্রয়মূল্যের তারতম্য লক্ষ করা গেছে।

এর কারণ হিসেবে নগরীর বন্দর বাজার এলাকার সিকন্দর আলী এন্ড সন্স এর ম্যানেজার মো. রিয়ান আহমদ বলেন, পাইকারি বাজারে চালের দাম বাড়ায় আমরা বাড়তি দামে বিক্রি করছি। তবে, কারো গুদামে আগের চাল থাকলে হয়তো সেসব ব্যবসায়ী একটু কম দামে চাল বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, কোন কারণ ছাড়াই প্রতিবস্তায় ন্যূনতম ২০০ টাকা বেড়েছে।’

নগরীর লালবাজারের সুফিয়ান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আবু সুফিয়ান সিলেটের ডাক’কে জানান, ‘গত কিছুদিন থেকে চালের বাজার উর্ধ্বমুখী থাকলেও আমরা আগের দামেই চাল বিক্রি করছি। তিনি জানান, দাম বাড়লেও চাল বিক্রির উপর কোন প্রভাব পড়েনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, গত অক্টোবরে ৩২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। সে সময় প্রতিকেজি পেঁয়াজের আমদানি মূল্য ছিল ৫২ থেকে ৫৮ টাকায়। কিন্তু সেই পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। ক্রয় আর বিক্রয়মূল্যের মাঝে যে অস্বাভাবিক ব্যবধান। সেই ব্যবধানের বদৌলতে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। পেঁয়াজের মূল্যে কারসাজির এ বিষয়টি এখন খতিয়ে দেখছে সরকার।

সূত্র আরো জানায়, পেঁয়াজের লাগামছাড়া দাম নিয়ন্ত্রণ-তৎপরতার অংশ হিসেবে সারাদেশ থেকে আড়াই হাজার খুচরা ব্যবসায়ীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু যারা উপর মহলের কারবারি, তারা ছিল দৃষ্টিসীমা ছাড়িয়ে। এখন তাদেরই ধরার চেষ্টা করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৮ টন।

এদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিমানে ও জাহাজে করে পেঁয়াজ আমদানি করছে। আগামী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এ সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। -সিলেটের ডাক

 

Developed by :