Friday, 13 December, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




পেঁয়াজের বাজার চড়া

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম:  সিলেটে পেঁয়াজের উত্তাপে বাজার অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দাম প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। এ নিয়ে একাধারে তিনদিন পেঁয়াজের দাম বেড়েছে গড়ে ৩০ টাকা। যদিও এর আগে পেঁয়াজের দাম কমে ১২০ টাকায় এসে ঠাঁই নিয়েছিল।

গতকাল শনিবার খুচরা বাজারে পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১৮০ ও সর্বনিম্ন ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা না গেলেও তারা অবিলম্বে পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, জেলার বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় মিশরীয় পেঁয়াজ নিম্ন কেজিপ্রতি ১৫০ টাকায় বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।

স্কুল শিক্ষক মনসুর আলম অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেঁয়াজের যে অবস্থা চলছে, তাতে মনে হয় না সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের জবাবদিহীতা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর পেঁয়াজের দাম একটু নেমেছিল। কিন্তু সহনীয় পর্যায়ে আসবে ভেবে অতিরিক্ত পেঁয়াজ ক্রয় করিনি। এখন পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছি। সময় নষ্ট করে প্রতিদিন কম কম পেঁয়াজ কিনছি। তিনি আরো বলেন, পেঁয়াজ ব্যতীত নিত্যপণ্যের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। এজন্য আমার মতো চাকুরিজীবীদের কাঁচাবাজার করতে তেমন একটা বেগ পেতে হচ্ছে না।

জানা যায়, বিগত তিন মাস ধরে পেঁয়াজের দাম উঠা-নামার মধ্যে রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পুরোপুরি সরগরম। কেউ বিয়ের অনুষ্ঠানে গিফট হিসেবে পেঁয়াজ, আবার অনেকেই পেঁয়াজ না খেতে হাত তুলে শপথ করে সংবাদের শিরোনাম হতে দেখা গেছে। রাজনৈতিকভাবে বিএনপি পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে সরকার দলের সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে বারবার অভিযোগ করে আসছে।

তবে, আওয়ামী লীগ তাদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দ্রæত পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল হওয়ার কথা জানিয়েছে। পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলাকালে গত সপ্তাহের প্রথম ৪দিন ক্রমাগতভাবে পেঁয়াজের দাম পড়েছিল। কিন্তু এ সপ্তাহের পরবর্তী তিনদিন দামের ঊর্ধ্বগতি ভাব পরিলক্ষিত হয়।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেজিপ্রতি ভারতীয় পেঁয়াজ ১৭০, বার্মিজ ১৮০ এবং মিশরীয় ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গণি নামের এক ক্রেতা প্রত্যেক দেশীয় পেঁয়াজ ৫০০ গ্রাম করে এক ব্যাগে দেড় কেজি ক্রয় করেন। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘মহিলাদের কাছে দাম বেশ-কম কিংবা দেশি-বিদেশি বলতে কিছু নেই। তারা যা পায় তা দিয়ে রান্না করে। এজন্য তিনপদের পেঁয়াজ একত্রে কিনলাম। এতে দাম কিছুটা সহনীয় হয়েছে।’

গতকাল শনিবার পর্যন্ত পেঁয়াজের ঊর্ধ্বমুখী বাজার এসে ঠেকে কেজিপ্রতি ১৮০ টাকায়। এ ধারা অব্যাহত থাকলে পেঁয়াজের পূর্বের বাজারদর ২৫০ টাকা অতিক্রম করবে কি-না, তা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা সন্দিহান রয়েছেন। তবে, বিভিন্ন দেশ থেকে উড়োজাহাজে করে সরকার ঘোষিত পেঁয়াজ দেশে পৌঁছলেই বাজার স্থিতিশীল এবং ক্রমাগতভাবে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনটাই জানালেন পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন। এজন্য তিনি ক্রেতাদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্ববান জানিয়েছেন।

এদিকে, গতকাল শনিবার রাতে এ প্রতিবেদকের সাথে সেলফোনে আলাপকালে বিয়ানীবাজার কলেজ রোড এর ‘কে.জে স্টোর’র ম্যানেজার বিদ্যুৎ চন্দ্র দাশ জানান, ‘আমরা গত কয়েকদিন থেকে মিশরীয় পেঁয়াজ ১৪৫-১৭০ টাকায় বিক্রি করছি। এরপরও ক্রেতারা পেঁয়াজ কিনতে সাহস দেখাচ্ছেন না। তারা পেঁয়াজের দাম ৭০-৮০ টাকার অপেক্ষায় থাকায় এজন্য ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি কিনছেন।’

 

Developed by :