Saturday, 7 December, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




সিলেট-জকিগঞ্জ-বারইগ্রাম সড়কে

ডিসেম্বরে চলাচল বন্ধ হচ্ছে নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিক্সা

আব্দুল আহাদ, গোলাপগঞ্জ: গোলাপগঞ্জের নম্বর বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা চালক ও মালিকদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী নভেম্বরের পর থেকে নম্বরবিহীন কোন সিএনজি অটোরিক্সা সিলেট জকিগঞ্জ বারই গ্রাম সড়কে চলতে দেয়া হবে না।

সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে গোলাপগঞ্জের কয়েক হাজার চালক বেকার হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হবেন মালিক পক্ষ।

সিলেটের পুলিশ সুপার ইতিমধ্যে গোলাপগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে জানিয়ে দিয়েছেন আগামী মাসের প্রথম দিন থেকে নম্বর বিহীন কোন সিএনজি অটোরিক্সা হাইওয়ে রোডে চালানো যাবে না। পুলিশ সুপারের বক্তব্যের পর থেকে চালক ও মালিকদের মধ্যে অনেকটা ভীতি কাজ করছে। অনেককেই বিকল্প চিন্তা করতে দেখা যায়।

সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল উপজেলাগুলোর মধ্যে গোলাপগঞ্জ অন্যতম। গোলাপগঞ্জের মধ্য ভাগ দিয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম যোগাযোগ পথ সিলেট-জকিগঞ্জ বারই গ্রাম, সুতারকান্দি সড়ক চলে যাওয়ায় সড়ক পথটির গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানকার মানুষের জীবন যাত্রার মান অনেকটা উন্নত হওয়ায় মধ্যবিত্ত, নি¤œ মধ্যবিত্তসহ সব শ্রেণির মানুষ এখন সিএনজিকে প্রাইভেট বাহন হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যায়। সিএনজি অটোরিক্সা সহজলভ্য হওয়ায় প্রায় সবাই চলাচলে সিএনজি অটোরিক্সা ভাড়া নিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। দিন দিন সিএনজি অটোরিক্সার ব্যবহার যেন বৃদ্ধিই পাচ্ছে। এতে অনেকেই বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সিএনজি অটোরিক্সার মালিক হয়েছেন। মাস শেষ হলেই ঋণের কিস্তি দিতে হয় তাদের। অনেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রবাস জীবন থেকে ফিরে সিএনজি অটোরিক্সা কিনে কেউ নিজে চালাচ্ছেন আবার কখনো চালকের হাতে তুলে দিচ্ছেন। একাধিক চালক ও মালিকের সঙ্গে আলাপ কালে জানা যায়, নতুন একটি সিএনজি অটোরিক্সা ক্রয় করতে চার লক্ষ টাকা লাগে। এক্ষেত্রে ৮/১০ বছরের পুরনো নম্বর যুক্ত সিএনজি অটোরিক্সার মূল্য নতুনের চেয়ে বেশী।

দেখা যায় পুরনো এ জাতীয় বাহন ক্রয় করতে হলে ৫ লক্ষ টাকা লাগে। যার ফলে বিগত ৩/৪ বছরে গোলাপগঞ্জে কয়েক হাজার নম্বর বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা এসেছে। বলতে গেলে উপজেলা সদর থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিটি সড়ক পথই নম্বর বিহীন সিএনজি অটোরিক্সার দখলে। প্রতিদিন মালিক পক্ষ নম্বর যুক্ত বা নম্বর বিহীন অটোরিক্সা থেকে ৩/৪ শত টাকা পেয়ে থাকেন। হঠাৎ করে প্রশাসন এ ব্যাপারে কঠোর হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গোলাপগঞ্জের প্রায় তিন হাজার নম্বরবিহীন অটোরিক্সার চালক ও মালিক।

এদিকে গত ৭ নভেম্বর গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীতে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেছেন, ডিসেম্বরের শুরু থেকে হাইওয়ে রোডে কোন ধরনের নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল করতে পারবে না। এতে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন সিলেটের অন্যতম যোগাযোগ পথ সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কসহ প্রধান সড়কগুলো দিয়ে এ জাতীয় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। শুধু গ্রামীন রাস্তাগুলো দিয়ে তারা যান বাহন চালাতে পারবেন। গ্যাস সংগ্রহের জন্য বিশেষ ক্ষেত্রে মূল সড়ক ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডিসেম্বর মাস থেকে যদি নম্বর বিহীন সিএনজি অটোরিক্সার চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয় তাহলে হাজার হাজার চালক ও মালিক বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হবেন বলে আশংকা করা হচ্ছে। যারা ব্যাংক বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অটোরিক্সা ক্রয় করেছেন তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হবেন। এতে যানবাহন সংকট সৃষ্টি হয়ে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তিও বৃদ্ধি পাবে।

মানবিক কারনে নম্বর বিহীন সিএনজি অটোরিক্সাগুলোকে রেজিষ্ট্রেশন ভুক্ত করে নম্বর প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নম্বর বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা চালক ও মালিকসহ সর্ব সাধারণের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে আবেদন জানানো হচ্ছে।

 

Developed by :