Sunday, 8 December, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




বিয়ানীবাজারে আ'লীগের সম্মেলন

দলকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করতে প্রয়োজন সঠিক নেতৃত্ব – সাবেক মন্ত্রী নাহিদ

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম:  বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা একটায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে সম্মেলন ও বিকেলে একটি কমিউনিটি সেন্টারের হলরুমে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে তৃণমূলের ভোটে আতাউর রহমান খান সভাপতি ও দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

এর আগে সম্মেলনে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেন, পেছনের ভুল ত্রুটি পরিহার করে দলকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করতে সঠিক নেতৃত্বের প্রয়োজন। এজন্য তৃণমূল নেতাদের প্রত্যক্ষ ভোটে নেতা নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম পড়ালেখা করে শুধু শিক্ষিত হলে চলবে না, তাদেরকে সুশিক্ষিত হতে হবে। তাহলে আগামী দিনে অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এজন্য তিনি নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান।

বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি আব্দুল হাছিব মনিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খানের পরিচালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আহমদ হোসেন, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও অধ্যক্ষ রফিকুর রহমান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন খান, দপ্তর সম্পাদক সাইফুল আলম রুহেল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ছাদ উদ্দিন আহমদ, সহ প্রচার সম্পাদক মোস্তাক আহমদ পলাশ, সহিদুর রহমান চৌধুরী।

প্রধান বক্তা আহমদ হোসেন বলেন, যারা মনে করেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলে এ দেশ থেকে তার নাম মুছে যাবে। তাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করে আজ দেশের গন্ডি ছেড়ে বহির্বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর নাম ও তার আদর্শ জ্বলজ্বল করছে। তিনি বলেন, অন্যায়, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকলে তার স্থান আওয়ামী লীগে নেই। আওয়ামী লীগ সরকার সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করছে। বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যার দেড় মাসের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে প্রশাসন চার্জশিট দিয়ে তা প্রমাণ করেছে।

বিশেষ অতিথি এডভোকেট মিসবাহ সিরাজ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের সাধারণ মানুষ জেগে উঠেছেন। তাঁরা উন্নয়ন, অগ্রগতি ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষে ২০৪১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। এজন্য তিনি ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সাবেক মেয়র কামরান বলেন, বিয়ানীবাজার রাজনীতি সচেতন এলাকা। এখানে নতুন নেতৃত্বকে নিয়ে আগামী দিনে আমরা সকল অশুভ শক্তিকে বিতাড়িত করবো। এজন্য কাউন্সিলে তিনি আ’লীগ নেতাকর্মীদের সঠিক রায় প্রদানের আহ্বান জানান।

আলহাজ শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার দ্রুত দেশকে পাল্টে ফেলায় একের পর এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ থাকলে এদেশ থেকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূল করা সম্ভব হবে।

এডভোকেট নাসির খান বলেন, আওয়ামী লীগে গণতন্ত্র চর্চার পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানো হয়। এজন্য আমরা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করবো।

এদিকে, স্থানীয় ডাকবাংলো চত্বরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান। এ সময় কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন ও অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক কবির উদ্দিন আহমদ, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট রণজিত সরকার, জেলা সদস্য এডভোকেট আজমল আলী, সাবেক এমপি নারী নেত্রী সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরওয়ার হোসেন, সিটি কাউন্সিলর এডভোকেট ছালেহ আহমদ সেলিম, সিলেট মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি এম শাহরিয়ার কবির সেলিম, জেলা যুবলীগের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল বারী প্রমুখ।

এদিকে, কাউন্সিল অধিবেশনে তৃণমূল ভোটে আতাউর রহমান খান ২১২ ভোট পেয়ে সভাপতি এবং দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল ১৫১ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ।
৪০৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে সভাপতি পদে ৩৯৫ জন ভোট প্রদান করেন। এরমধ্যে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী হাজি আব্দুল হাছিব মনিয়া ১৬৭ ভোট ও নজমুল হোসেন ১২ ভোট পান। দু’টি ভোট বাতিল হয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক পদে ৩৯৩ জন কাউন্সিলর ভোট প্রদান করেন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৬ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে হারুনুর রশীদ দীপু ১০৩ ভোট, মোহাম্মদ জাকির হোসেন ৭৮ ভোট, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব ৫০ ভোট ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জামাল হোসেন ৫ ভোট লাভ করেন।

ভোট গণনা শেষে রাত ৭টায় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, জেলা আ’লীগের প্রচার সম্পাদক এডভোকেট মাহফুজুর রহমান, উপ দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরীসহ জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

Developed by :