Wednesday, 20 November, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




সিলেটে আ’লীগের ৪ উপজেলা সম্মেলনের সময়সূচি পুনঃনির্ধারণ

‘বিদ্রোহীদের প্রার্থী হতে বিধি-নিষেধ নেই’

ছাদেক আহমদ আজাদ   

সিলেটে রবীন্দ্র শতবর্ষ স্মরণোৎসবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগদানের বিষয়টি অনিশ্চিত হলেও সিলেটের পূর্ব ঘোষিত সবক’টি উপজেলায় নির্ধারিত তারিখে আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে না। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সমন্বয় করে জেলা আওয়ামী লীগ ৪ উপজেলায় নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে। অপর দুই উপজেলা সম্মেলনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এরই মধ্যে বালাগঞ্জ উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের বিদ্রোহীরা ‘ক্ষমা’ পাওয়ায় আসন্ন সম্মেলনেও তাঁরা প্রার্থী হতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্র জানায়, সিলেটের ৬ উপজেলায় এখনো সম্মেলন বাকী রয়েছে। এর মধ্যে চারটির পুনঃনির্ধারণ ও দু’টির তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। উপজেলা সম্মেলনের পুনঃনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ৫ নভেম্বরের স্থলে ৯ নভেম্বর, কানাইঘাটে ১০ নভেম্বরের স্থলে ১১ নভেম্বর, গোলাপগঞ্জে ১৪ নভেম্বরের স্থলে ১৩ নভেম্বর ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় ৭ নভেম্বরের স্থলে আগামী ১৪ নভেম্বর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া, সিলেট সদরে গত পহেলা নভেম্বর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত হয়নি। আর দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় আগামী ৯ নভেম্বর সম্মেলন হচ্ছে না। এ দু’উপজেলায় শিগগির তারিখ পুনঃনির্ধারণ করা হবে। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, সিলেটে গত ১৬ বছরে বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি। এজন্য গত ৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরি কমিটির সভায় ৭ উপজেলায় সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়। মূলতঃ এরপর থেকেই তৃণমূল নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেন। তাদের বেশিরভাগের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।

তবে, উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী হওয়ার কারণে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী গুটিকয়েক নেতার মধ্যে অজানা আতংক ও নানা শঙ্কা কাজ করছিল। তাঁদের প্রার্থী হওয়া অনেকটা অনিশ্চিত ছিল। কিন্তু, গত ২৮ অক্টোবর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে কৃষক লীগের সাথে বৈঠক শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে যারা গত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সেই বিদ্রোহীরাও আগামী সম্মেলনে প্রার্থী হতে পারবেন, কোনও বিধি-নিষেধ নেই।’

সূত্র মতে, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সিলেট জেলায় আওয়ামী লীগের ১০ প্রার্থী বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। এর মধ্যে ৫ জন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ দলের বিদ্রোহীদের ব্যাপারে কঠোর মনোভাব পোষণ এবং তাদেরকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীরা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে শোকজ এর জবাব দেওয়ায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ক্ষমা করেন।

গত ২১ অক্টোবর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিতপত্র বিদ্রোহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। দলীয় প্রধানের ‘ক্ষমা’র চিঠি হাতে পেয়েই উপজেলার এসব শীর্ষ পদপ্রত্যাশী অনেকটা প্রাণ ফিরে পান। এরপর থেকেই বিদ্রোহীদের অনেকেই স্ব স্ব উপজেলায় দলের সম্মেলনে প্রার্থী হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন।

দলীয় সূত্রমতে, গতমাসে সিলেটের একাধিক উপজেলায় ৭ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেসব ইউনিয়নে সমঝোতা না হওয়ায় প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়েছে। এমনকি গত শুক্রবার বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষে কাউন্সিল অধিবেশনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর সভাপতি ও বোয়ালজুড় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনহার মিয়া সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। অন্যান্য উপজেলায় একইভাবে সম্মেলন শেষে কাউন্সিল অধিবেশনে প্রত্যক্ষ ভোট হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে উপজেলা সম্মেলনের তারিখ পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এসব উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে সম্মেলনের জন্য প্রস্তুতি কমিটি গঠনসহ একাধিক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রত্যেক উপজেলায় গঠনতন্ত্রের আলোকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হবে। এখানে জেলা আওয়ামী লীগ কোন হস্তক্ষেপ করবে না। তিনি সম্মেলন সফল ও সার্থক করতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। -সিলেটের ডাক

 

Developed by :