Tuesday, 12 November, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




পাঠদান বাড়ির আঙ্গিনায়, পরীক্ষা মসজিদে

আরিফ উর রহমান টগর, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে বাড়ির আঙ্গিনায় খোলা আকাশের নিচে। আর গত ২৮ অক্টোবর শেষ হওয়া ওই বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত মডেল টেস্ট পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে একটি মসজিদে। দুই বছর আগের বন্যায় স্কুল ভবন নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলার নাগরপুরে ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০০৪ সালে প্রথম ধলেশ্বরী নদীতে বিদ্যালয়ের ভবন বিলীন হয়ে যায়। ২০১৭ সালের বন্যায় একই নদীগর্ভে দ্বিতীয় দফায় বিলীন হয় ওই বিদ্যালয় ভবন। এরপর থেকেই একটি বাড়ির আঙ্গিনা আর খোলা আকাশের নিচে চলছে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। চারজন শিক্ষক তাদের পাঠদান করছেন। এর মধ্যে তিনটি শ্রেণির পাঠদান একই স্থানে হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেউই ভালোভাবে কারো কথা শুনতে পারে না। একটু বৃষ্টি হলেই ক্লাস ছুটি দিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা।

তারা জানান, এ অবস্থায় নতুন স্কুলের জন্য ২৫ শতাংশ জমি দান করেছেন স্থানীয় লোকজন। আর বিদ্যালয়ের দুরাবস্থার খবর পেয়ে কর্তৃপক্ষ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু ওই টাকা মাটি ভরাটেই ব্যয় হয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

স্থানীয় অভিভাবক মোতালেব, রহিম, সুরুজ মিয়া, সফদের আলী জানান, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা খোলা আকাশের নিচে আর অন্যের বাড়ির আঙ্গিনায় পড়ালেখা করছে, এটা খুবই কষ্টের। স্কুলের কোনো ঘর নেই, নেই বসার জায়গাও। এ অবস্থায়ই ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে। তারা দ্রুত একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, ‘আমি ভাল স্কুলে ভর্তি হব, এই স্কুলে খোলা আকাশের নিচে পড়তে ভাল লাগে না। কিন্তু ভাল স্কুলে ভর্তি হলে দূরে যেতে হবে। এ স্কুলটি বাড়ির কাছে, তাই বাধ্য হয়ে এখানেই পড়ছি’।

Tangail-School-

শিক্ষকরা জানান, প্রতিষ্ঠার পরই বিদ্যালয়টি দফায় দফায় নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। বেশ কয়েকবার বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয়। তবে ২০১৭ সালে ভাঙনের পর বিদ্যালয়টি পুনঃনির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় বিমুখ হয়ে পড়ছে। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে এ অঞ্চলের শিক্ষাক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

এ নিয়ে গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আজম আলী জানান, বৃষ্টির কারণে দক্ষিণ বেটুয়াজানী জামে মসজিদে চূড়ান্ত মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। আগামী বছরের আগেই এ ভবন নির্মাণ না হলে শিক্ষার্থী সঙ্কটে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

নাগরপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টির জন্য একটি টিনের ঘর নির্মাণে কর্তৃপক্ষ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ওখানকার কিছু লোক ২৫শতাংশ জমিও দিয়েছেন। সেখানে মাটি ভরাট করা হয়েছে। খুব শিগগিরই বিদ্যালয়ের জন্য একটি অস্থায়ী টিনের ঘর নির্মাণ করা হবে। নতুন বছরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন ঘরে উঠতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের এমপি আহসানুল হক টিটু মুঠোফোনে জানান, এ বিদ্যালয়ের বিষয়ে তাকে কেউ কিছু জানায়নি। তবে সরেজমিনে দেখে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

 

Developed by :