Wednesday, 13 November, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




গোলাপগঞ্জের পথে প্রান্তরে সবজি বাজার

আব্দুল আহাদ: গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পথে পথে বসছে সবজির বাজার। কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকহারে সবজির উৎপাদন পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিগত সপ্তাহের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে শাক সবজির কিছুটা ক্ষতি হলেও অন্য দিকে সবজি উৎপাদনে বেশ ভালো হয়েছে বলে অনেকের অভিমত। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে উৎপাদিত সবজি বিক্রির জন্য সিলেট জকিগঞ্জ সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রেতারা রাস্তার পাশে ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে বসে বিক্রি করতে দেখা যায়। গোলাপগঞ্জে দিন দিন সবজির উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শীতকালে নদী তীরবর্তী এলাকা ও বেলে দোঁআশ মাটির এলাকাগুলোতে ব্যাপক হারে নানা জাতের সবজি উৎপাদিত হয়। শীতের আগমনি বার্তা পেয়ে সবজি চাষীরা সকল প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে কাজ করতে দেখা যায়। এই মুহূর্তে আগাম শীত কালীন বিভিন্ন সবজিতে গ্রামীণ বাজার গুলো ভরে উঠছে। তুলনামূলক মূল্য বেশী হওয়ায় ক্রেতারা সন্তুষ্ট না হলেও বিক্রেতারা সন্তুষ্ট আছেন।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা একটি বৈচিত্রময় এলাকা। এখানে যেভাবে ছোট বড় কয়েক হাজার টিলা রয়েছে ঠিক তেমনি সমতল, পলিবেষ্টিত নদী তীরবর্তী হাজার হাজার একর জমি শাক সবজি চাষের উপযোগী আছে। টিলাগুলোতে বারো মাসই নানা জাতের শাক সবজি উৎপাদিত হয়ে থাকে। তার মধ্যে রয়েছে বরবটি, যা স্থানীয়ভাবে লুবিউরি নামে পরিচিত। গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় টিলার ঢালুতে বর্ষাকালে ব্যাপক হারে এ জাতীয় সবজি উৎপাদিত হয়। ফলে গোলাপগঞ্জের বরবটি (লুবিউরি) গোলাপগঞ্জ ছাড়াও বাহিরে সরবরাহ করতে দেখা যায়।

শীতকালে উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই শীতকালীন সবজি উৎপাদিত হয়ে থাকে। বিশেষ করে নদীর তীরে ও পার্শ^বর্তী জমিগুলোতে ব্যাপক হারে লাউ (কদু), মুলা, শীম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ঝিঙ্গা, লাইশাক, লাল শাক, পুঁই শাক, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, বেগুনসহ নানা জাতের সবজি ফলানো হয়। সেই সঙ্গে মাঠের পর মাঠ জুড়ে সরিষা চাষ করা হয়ে থাকে। গোলাপগঞ্জের হাকালুকি হাওর তীরবর্তী এলাকা শরিফগঞ্জ ইউনিয়ন ও বাদেপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে শীতকালে উল্লেখযোগ্য হারে শীতকালীন সবজি উৎপাদিত হয়। যা গোলাপগঞ্জের চাহিদা মিটিয়ে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। গোলাপগঞ্জের শীম (উরি)’র চাহিদা ও কদর রয়েছে দেশে-বিদেশে। একটি বিশেষ জাতের শীম গোলাপগঞ্জের নির্দিষ্ট এলাকায় শীতকালেই উৎপাদিত হয়ে থাকে।

বিশেষ করে উপজেলার লক্ষীপাশা, লক্ষনাবন্দ ও ঢাকাদক্ষিন ইউনিয়নে এ জাতীয় শীম ব্যাপক হারে উৎপাদিত হয় বলে অতি আগ্রহে কৃষকরাও তা উৎপাদন করে থাকেন। এ শীমের একটি বড় বাজার রয়েছে লন্ডন সহ ইউরোপ আমেরিকায়। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার শীম বিদেশে রপ্তানী করা হয়। এবারও ওইসব এলাকায় কৃষকরা এ জাতীয় শীমের চাষ শুরু করেছেন। অগ্রহায়ন মাসের প্রথম সপ্তাহে এ জাতীয় শীম বাজারে আসার সম্ভবনা রয়েছে। এই মুহূর্তে গোলাপগঞ্জের উপজেলা সদর ছাড়াও মফস্বল এলাকার বিভিন্ন স্থানে ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের শাক সবজি নিয়ে বিক্রেতারা বসতে দেখা যায়। ওইসব স্থানে ক্রেতাদেরও অভাব নেই। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে পুরুষের চেয়ে মহিলারা গ্রামীণ পর্যায়ে শাক সবজি ক্রয় করতে বেশ আগ্রহ বোধ করছেন।

 





সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :