Tuesday, 12 November, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




কখন কে ধরা পড়বে এটা তো বলা যায় না : প্রধানমন্ত্রী

সিলেট: বাংলাদেশে যেখানে এক হাজারের বেশি সংবাদপত্র প্রকাশিত হচ্ছে, ৩২টির বেশি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চলছে, বাংলাদেশে এভাবে ক্যাসিনো বসিয়ে জুয়ার আসর চলার খবর কেন কেউ আগে প্রকাশ করল না- সেই প্রশ্ন রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনের অভিজ্ঞতা জানাতে মঙ্গলবার গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এই প্রশ্ন রাখেন সরকারপ্রধান।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সামনে রেখে তিনি বলেন, “আপনারা এত খবর রাখেন, তো এইরকম আধুনিক আধুনিক সমস্ত যন্ত্রপাতি এসে গেছে, এত কিছু হল, আপনারা কেউ খবর রাখলেন না? কেউ খবর পেলেন না? কোনোদিন কেউ তো নিউজ করলেন না। কীভাবে হয়?

যুবলীগের নেতাদের চাঁদাবাজি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার অসন্তোষ প্রকাশ পাওয়ার পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। সেই অভিযানে ক্লাবগুলোতে মদ ও জুয়ার বিপুল আয়োজন পাওয়া যায়।

দেশের বিভিন্ন ক্লাবে অবৈধভাবে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে। তবে বাংলাদেশেও যে স্লট মেশিন, রুলেট টেবিলের মত সরঞ্জাম নিয়ে পুরোদত্তর ক্যাসিনো চলে, সে খবর ছিল সাধারণ মানুষের কাছে নতুন।

ওই অভিযানে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবেও ক্যাসিনো পাওয়া যায়। নামি ওই ক্লাবের অন্যতম পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে পরে তার বাসা থেকে মদসহ গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরও (বিসিবি) পরিচালক।

ক্রিকেটারদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করতে গিয়ে লোকমানের প্রসঙ্গ টেনে একজন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বোর্ডে একজন ‘ক্যাসিনোবাজ’ ঢুকে পড়েছেন, এখনও বহাল তবিয়তে আছেন। বোর্ড ‘প্রপারলি ফাংশন’ করছে কি না সেই প্রশ্ন উঠেছে।

উত্তর দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রিকেটারদের আন্দোলনের সঙ্গে ক্যাসিনো টেনে আনা ঠিক হচ্ছে না।

“এই কাসিনো খেলার সাথে কে কি জড়িত এটা তো ক্রিকেট বোর্ডের বিষয় না। হয়ত এখানে একজন ছিল। সে রকম তো আপনাদের সাংবাদিক মহলেও যদি খোঁজ করা যায়, অনেককে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। ভবিষ্যতে যদি খুঁজে পাওয়া যায় তো কী করব আমি? সেটাও তো আপনাদের ভাবতে হবে।”

শেখ হাসিনা বলেন, ক্যাসিনোকাণ্ডের সেই পরিচালক ধরা পড়েছে। সে বহাল তবিয়তে আছে- তাও নয়।

“তাকে তো ধরা হয়েছে। এটা কিন্তু আপনারা কেউ কখনও নিউজ করেননি। কোনো সাংবাদিক, কোনো সংবাদপত্রে কিন্তু একটা নিউজও আসে নাই যে বাংলাদেশে এরকম ক্যাসিনো খেলা হয়।”

এ সময় সাংবাদিকরা কিছু বলার চেষ্টা করলে তাদের থামিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “নো, নো, কোথাও আমি নিউজ পাইনি, এটা বলে লাভ নাই। ক্যাসিনো সম্পর্কে কেউ কোনো নিউজ দেননি।

“এটা ধরার দায়িত্ব আমি নিয়েছিলাম। আমি খুঁজে পেয়েছিলাম, আমিই করিয়েছি, এতে কোনো সন্দেহ নেই।আমার কাছে যে কোনোভাবে হোক খবর যখন এসেছে, সাথে সাথে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, যাকে দিয়ে করলে যথাযথভাবে হবে, তাকে দিয়ে করিয়েছি।

সংবাদমাধ্যম কেন সেই খবর আগে দিল না- আবারও সেই প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এরকম একটা বিষয় বাংলাদেশে ঘটে যাচ্ছে নীরবে, বাংলাদেশে সব থেকে বেশি সংবাদপত্র, কয়েক হাজার সংবাদপত্র, বেসরকারি চ্যানেল বাংলাদেশে আগে তো একটাই ছিল। আমিই তো সব ওপেন করে দিলাম। ৪৪টা চ্যানেলকে আমরা পারমিশন দিয়েছি, তার মধ্যে ৩২টার মত চালু।

“কোনো একটা চ্যানেল থেকে কেনো দিন এই নিউজটা কেন দিতে পারলেন না, এই জবাবটা কী জাতির কাছে দিতে পারবেন? পারবেন না। তাহলে আপনারা কাকে দোষ দেবেন?”

উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ধরব আমরা, আর এ ব্যাপারে আমাদেরই প্রশ্ন করবেন, এটা তো হয় না। এখন আরেকটু সাহায্য করেন, খুঁজে বের করেন কোথায় কী পাওয়া যায়।

“আমার তো প্রশ্ন, এরকম একটা ঘটনা বাংলাদেশে ঘটে যাচ্ছে, অথচ কেউ জানে না, সবাই নীরব! হোয়াই? কী কারণে? কারণটা কী?… সেজন্য বললাম, কখন কে কোথায় কী কারণে ধরা পড়ে এটা তো বলা যায় না “

 

Developed by :