Monday, 18 November, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




বিয়ানীবাজারে আওয়ামী লীগের সম্মেলন

নানামুখি ষড়যন্ত্র: জয় হবে কাউন্সিলরদের

বিশেষ প্রতিনিধি: বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের বহু প্রতীক্ষিত ও  কাঙ্ক্ষিত সম্মেলন আগামী ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এলক্ষে প্রত্যেক ইউনিটে ৩১ জনের কাউন্সিলর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে, বিয়ানীবাজার পৌরসভা ও লাউতা ইউনিয়নের তালিকা নিয়ে দ্ব›দ্ব, মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। উপজেলা আ’লীগ কিভাবে বিষয়টি সমাধান করে, তা এখন দেখার বিষয়।

আবার প্রত্যক্ষ ভোটের পরিবর্তে ভেতরে ভেতরে সমঝোতার একটি মিশন চালানোর খবর পাওয়া গেছে। ঐ চক্র আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদের নাম ভাঙিয়ে কৌশলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের শিকার করতে চাচ্ছে। যদিও রূপ ও পদের বাহাদূরি এবার দলীয় প্রার্থীদের কাছে ঠেকবে না। বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে ঐ চক্রের একজনের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ না হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

একাধিক সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী একটি স্বচ্ছ ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করতে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হতে কাউন্সিলরদের বাসা-বাড়িতে যাতায়াত করছেন। নিজেদের যোগ্যতার মাপকাঠি তাদের কাছে তুলে ধরছেন। এ অবস্থায় গত কয়েকদিন পূর্বে সাবেক ছাত্রনেতারা পৌরশহরে জমায়েত হয়েছিলেন। তাদের মধ্য থেকেই আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদ ধরে রাখার আলোচনা হয়েছে। তবে এ সভায় ফলপ্রসূ কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে, বিগত ২০ বছর ধরে যারা বিয়ানীবাজারে আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব কিংবা অগ্রভাগে ছিলেন তাদের অনেকইে ঐ সভায় ডাক পাননি। আবার আওয়ামী লীগের দুঃসময় কিংবা নির্বাচনে নৌকা বিরোধীতা করাই যাদের পেশা এবং নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে এ সভায় তাদের অনেকের উপস্থিতি জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। দলের নিবেদিত অনেকেই, সাবেক ছাত্রনেতাদের নাম দিয়ে আয়োজিত এ সভাকে ‘ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। যদিও এ সভায় দু’তিনজন ব্যতীত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন।

আসন্ন সম্মেলন ও কাউন্সিলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রত্যক্ষ ভোটে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রকারিদের মুখোশ উন্মোচন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এক্ষেত্রে ক্লিন ইমেজের নেতা নুরুল ইসলাম নাহিদের নাম ব্যবহার করে কেউ ফায়দা লুটার চষ্টা করলে তাকেও প্রতিহত করা হবে। কাউন্সিলরদের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। তারা এও বলেছেন, সাবেক মন্ত্রী নাহিদ সরল বিশ্বাসে যাদের যেখানে বসিয়েছেন, তাদের সেখানেই সেই পদ নিয়ে থাকা শ্রেয়। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা হওয়ার চেষ্টা করলে তা বরং বুমেরাং হবে। এক্ষেত্রে বিতর্কের ছোঁয়াযুক্ত অপেক্ষাকৃত তরুণ এক নেতা কাউন্সিলরদের কিছুটা অনুকম্পা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হতে পারেন।

একাধিক সূত্রমতে, ইদানিং আওয়ামী সমর্থক দু’একজন পুরো বিয়ানীবাজারকে নিজেদের হাতের মুঠে নেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মী তাদের ঐ চেষ্টাকে ‘ব্রাক্ষণ হয়ে চাঁদে হাত দেয়া’র মতো দেখছেন। এজন্য দলের নিবেদিত নেতাকর্মী ও কাউন্সিলররা এবার সোচ্চার। তাঁরা বিয়ানীবাজারের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে ‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল’ রাখার চেষ্টা করবেন। অর্থাৎ আধিপত্যবাদের চেষ্টা, ষড়যন্ত্রকারি, দলবিরোধী, নৌকাবিরোধী কোন নেতাকে এবার মসনদে বসতে দেবেন না বলেও ত্যাগী নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ। তবে, ষড়যন্ত্রকারিদের রোষানলে পড়ে ‘একবার ভুল’ হওয়া এমন এক নেতা বিশেষ ক্ষমা পেতেও পারেন। তার প্রতি কাউন্সিলরদের যথেষ্ট সহানুভুতি থাকার আভাস পাওয়া গেছে।

এদিকে, সম্মেলন আসন্ন হলেও এখন পর্যন্ত প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়নি। সভাপতি হাজি আব্দুল হাছিব মনিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খান দু’জনই কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি নজমুল হোসেন সাবেক ছাত্রনেতাদের অনুকম্পা নিয়ে তিনিও সভাপতি প্রার্থী। এ তিনজনের মধ্যে আওয়ামী লীগের সুসময়, দুঃসময়, রাজপথে, সভা-সমাবেশে যিনি অগ্রণী ভ‚মিকা রেখেছেন, নেতাকর্মী সুখে-দুঃখে যাকে সহজেই কাছে পেয়েছে; কাউন্সিলররা নিশ্চয়ই তাঁকে বেছে নিবে।

আর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী অনেক হওয়াতে ষড়যন্ত্রের পথ খোলা রয়েছে। এ পদে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশনাও কাজ করবে। এক্ষেত্রে একজন হেভিওয়েট প্রার্থী শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে পারবেন কি-না যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তিনি নির্বাচন করলে একরকম, আর না করলে অন্যরকম মেজাজ নিয়ে কাউন্সিলররা সামনে অগ্রসর হচ্ছেন বলেও প্রতিয়মান হয়েছে।

সূত্রমতে, লাউতা ইউনিয়নে দীর্ঘ ৪ বছরে আহ্বায়ক কমিটি সম্মেলন করতে পারেনি। এ অবস্থায় শিগগির সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছেন তৃণমূল নেতাকর্মী। তাঁরা বেশ আগেই দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি ও উপজেলা আ’লীগকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানালেও রহস্যজনক কারণে গুরুত্ব পাচ্ছে না। তবে, এ ইউনিয়নে শেষ পর্যন্ত সম্মেলন না হলে আহ্বায়ক কমিটি ও ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং দলের নিবেদিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কাউন্সিলর তালিকা প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতেও ব্যক্তি স্বার্থে কেউ বিরোধীতা করলে লাউতাকে বাদ দিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, এমনটাই খবর পাওয়া গেছে।

 

Developed by :