Tuesday, 19 November, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




আন্দোলনের প্রস্তুতি

লাউতায় সম্মেলন, না কাউন্সিলর তালিকা বাদ?

আব্দুল হান্নান: বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন লাউতা ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ ৪ বছরে আহ্বায়ক কমিটি সম্মেলন করতে না পারায় নেতাকর্মী তাদের পদত্যাগ দাবি করেছেন। নতুবা শিগগির সম্মেলনের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের জোর দাবি জানিয়ে আসছে লাউতা ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ড আ’লীগের দায়িত্বশীলরা। এলক্ষ্যে নেতৃবৃন্দ বেশ কিছুদিন আগে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি ও উপজেলা আ’লীগকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

সর্বশেষ গত ৫ অক্টোবর উপজেলা আ’লীগের বর্ধিত সভায় জেলা সভাপতি সম্মেলনের নির্দেশ দিলেও এক পক্ষ তা আমলে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় লাউতা ইউনিয়নের নেতাকর্মী চরম ক্ষুব্ধ। শিগগির সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা না হলে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, অবরোধ, কুশপুত্তলিকা দাহসহ নানা কর্মসূচি পালন করবেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দলের দায়িত্বশীল অপর একটি বিশ^স্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, লাউতায় সম্মেলন না হলে কাউন্সিলর তালিকা নিয়ে মতানৈক্য দেখা দিবে। উত্তপ্ত হয়ে উঠবে পুরো উপজেলা। সার্বিক পরিস্থিতি অনুকুলে রাখতে শেষ পর্যন্ত লাউতাকে বাদ দিয়ে উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তখন যারা সম্মেলনের বিরুদ্ধে তাদের লাভ না ক্ষতি হবে তা নিরূপণ করার সময় এসেছে। এমনকি শত বিরোধীতার পর, কোন কারণে সম্মেলন হলে যে নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে তা কার পক্ষে যাবে, বিষয়টি দূরদৃষ্টি দিয়ে দেখতে হবে। লাউতা ইউনিয়ন সম্মেলনের ওপর নির্ভর করছে উপজেলা আ’লীগের দু’এক প্রার্থীর ভাগ্য।

বিষয়টি এখন স্থানীয় পর্যায় পাড়ি দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের দরবারে এসে হাজির হয়েছে। তাদের দূরদর্শী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে উপজেলা আ’লীগের ৫ নভেম্বরের শতভাগ সফল, সার্থক ও সুষ্ঠু সম্মেলন। নতুবা অজানা আতঙ্ক, চাপা ক্ষোভ-বিক্ষোভ, পাওয়া-না পাওয়ার বেদনা থেকে হয়তো বড়ধরণের রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হতে পারে।

যা উপজেলা সম্মেলনের উৎসবমুখরতাকে ম্লান করে দিতে পারে। যদি এমনটি হয়, তাহলে এর সমূহ দায়ভার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ জেলা ও উপজেলা আ’লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের নিতে হবে। এমনটি প্রায় প্রকাশ্যে হূশিয়ারি দিচ্ছেন লাউতা ইউনিয়ন আ’লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা। তাদের সাথে রয়েছে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ।

ইতোমধ্যে তারা ফেসবুকে তীর্যক কথাবার্তা শুরু করেছেন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এর মাত্রাও বৃদ্ধি পাবে। বেশক’জন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দায়িত্বশীল নেতাদের সাথে পৃথক পৃথক বৈঠক করেছেন লাউতা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আ’লীগের নেতৃবৃন্দ। জেলা সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমানের সাথে আলাপকালে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, লাউতায় সম্মেলন না হলে ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম আন্দোলন-সংগ্রামের সূচনা হবে। যেখানে এমপি নাহিদের ভাবমূর্তি জড়িত, এ কারণে তারা সেপথে যেতে চাননা। বাধ্য করলে, এমন কর্মকান্ড করা হবে, যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত গড়াবে। শেষ পর্যন্ত এসবের দায়ভার সংশ্লিষ্ট নেতাদের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। লাউতার ৭নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি হাজী আব্দুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ জানান, সম্মেলন দিতে হবে, নতুবা লাউতাকে মাইনাস করে উপজেলা সম্মেলন হবে। এ দু’টি অপশনের বাইরে বিকল্প কোন চিন্তা করলে লাউতা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি জানান, আন্দোলনের গতিবেগ এমন হবে, হয়তো এখান থেকেই বিয়ানীবাজারের শুদ্ধি অভিযান শুরু হবে।

সূত্রমতে, জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে বৈঠককালে উপস্থিত ছিলেন, লাউতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা: পিএম পাল, ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ, ২নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক বদরুল হোসেন, ৪নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল মতিন ও সাধারণ সম্পাদক মুহিবুর রহমান, ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি আছার উদ্দীন, ৭নং ওয়ার্ড সভাপতি হাজী আব্দুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মানিক লাল পুরকায়স্থ, ৯নং সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, খালেদ আহমদ, অজয় বাবু, মুকিত আহমদ প্রমুখ।

জেলা আওয়ামী লীগের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, লাউতা ইউনিয়ন আ’লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী সম্মেলনের পক্ষে। তবে, কনে উপজেলা আ’লীগ সম্মেলন করতে অনীহা তা আমাদেও বোধগম্য নয়। সূত্রটি আরো বলেছে, শেষ পর্যন্ত সম্মেলন না হলে লাউতায় কাউকে কাউন্সিলর করা হবে না।

 

Developed by :