Saturday, 16 November, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




কোম্পানীগঞ্জে জঙ্গলী মহিষের তান্ডব, ১০জন গুরুতর আহত

কোম্পানীগঞ্জ:সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে মঙ্গলবার রাতে (১৫ অক্টোবর) ভারত থেকে নেমে আসা একটি জংলী মহিষের তাণ্ডবে অন্তত ২৫জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে কাঠালবাড়ি গ্রামের জামাল উদ্দিন (৩৫) নামের এক কৃষককে আশংকা জনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জংলী মহিষটি প্রথমে ভোলাগঞ্জ গ্রামে হানা দেয়। স্থানীয় জনতার ধাওয়া খেয়ে মহিষটি নোয়াগাও, শারফিন, পাড়ুয়া বাজার, বটেরতল, ভাগারপাড় গ্রাম হয়ে ভোর ৫টায় লম্বাকান্দি গ্রামে প্রবেশ করে। বিভিন্ন গ্রামের লোকজন স্থানীয় মসজিদে মাইকযোগে জঙ্গলী মহিষের আক্রমণের খবর মুহুর্তের মধ্যে উপজেলাব্যাপী ছড়ীয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েকটি গ্রামে মহিষের আক্রমণে প্রায় ১৭/১৮ জন আহত হয়।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) উপজেলার কাঁঠালবাড়ি, লম্বাকান্দি গ্রামে তাণ্ডব চালায় এই মহিষটি। মহিষের আক্রমণে ১০ জন গুরুতর আহত হয়।

পশ্চিম ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহ জামাল উদ্দিন জানান, সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে ভারতীয় একটি মহিষ। একপর্যায়ে ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন বাজার ও পাড়ুয়া এলাকার লোকজন মহিষটিকে আটকের চেষ্টা করতে গেলে অন্তত ১৭/১৮ জন আহত হয়। এরপর কাঁঠালবাড়ি ও লম্বাবাড়ি গ্রামে ঢুকে আরও ১০ জনকে আহত করে এই মহিষটি।

মহিষের আক্রমণে কাঁঠালবাড়ি ও লম্বাকান্দি গ্রামের আহতরা হলেন- জিয়াদ আলী (৭০), আব্দুল হাসিম (৫৫), জামাল উদ্দিন (৩৫), আবুল কালাম (২৫) ও আব্দুল গণি (৫৫), মাসুক মিয়া (৪০), সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নজির উদ্দিনসহ অন্ততপক্ষে ১০ জন আহত হয়।

তিনি আরও জানান, মহিষটি ধরতে উপজেলার বন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সহায়তা চাওয়া হলেও কেউ কোন সহযোগিতা করেননি। সিলেট থেকে চেতনানাশক স্প্রে এনে মহিষটাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন জানিয়েছিলেন বন কর্মকর্তারা। কিন্তু তারা তা করেননি।

এদিকে, সকাল ১০টার দিকে উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজির উদ্দিন ও পাড়ুয়া গ্রামের হাজি সিকন্দর আলি তাদের লাইসেন্সধারী বন্দুক দিয়ে মহিষটিকে গুলি করেন। কিন্তু গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া মহিষের হামলায় নজির উদ্দিন ও তার ছেলে মাসুক আহত হন।

দুপুর ১টার দিকে এলাকাবাসী দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে জঙ্গলী মহিষটিকে কুপোকাত করেন। পরে মহিষটিকে জবাই করা হয়। এই মহিষটিকে দেখতে উপজেলার কয়েক হাজার উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

 

Developed by :