Sunday, 8 December, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




পর্যটন খাতের উন্নয়নে একাধিক প্রস্তাবনা পাঠালো সিলেট চেম্বার

প্রস্তাবনায় যে বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে তা হলো- ‘সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে স্যানিটেশন ও পোশাক পরিবর্তন কক্ষ নির্মাণের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকগুলো পর্যটন কেন্দ্র বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যু, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে বিধায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে সেগুলোতে উন্নয়নমূলক কাজ করা যাচ্ছে না। তাই এ ব্যাপারে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের সাথে সমন্বয় করে এবং সিলেট চেম্বারকে সমৃক্ত রেখে বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পাদনের প্রস্তাব জানানো হয়েছে। এছাড়াও পর্যটন খাতের উন্নয়নে সকল ক্ষমতা জেলা প্রশাসককে প্রদান, পর্যটন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও প্রতিটি ট্যুরিস্ট স্পটে দর্শনার্থীদের জন্য প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মীর ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরো উল্লেখ করা হয়েছে- ‘সিলেটের রাতারগুল, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর, জাফলং, লালাখাল, হামহাম ইত্যাদি ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই নাজুক। এসব স্পটে যাতায়াতের রাস্তা ও স্পটগুলোর অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন একান্ত জরুরী। পর্যটন স্পটগুলোতে কৃত্রিম বিনোদনের ব্যবস্থা, পর্যটন পুলিশ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদারকরণ, স্পটগুলোতে মেডিকেল সেন্টার স্থাপন, দুর্গম এবং অনগ্রসর এলাকায় পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সিলেটের পর্যটনের বড় একটি আকর্ষণ হচ্ছে টাঙ্গুয়ার হাওর। দেশের বৃহত্তম এ জলাধার মৎস্য উৎপাদনের এক বিশাল ভান্ডার। টাঙ্গুয়ার হাওরের যাতায়াত ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারলে এটি দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ট্যুরিস্ট স্পটে পরিণত হবে এবং আয়ের এক বিশাল উৎস হয়ে দাঁড়াবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়াও সিলেটের যেসব দৃষ্টিনন্দন স্থান এখনো পর্যটন স্পটের স্বীকৃতি পায়নি যেমন- জৈন্তাপুরের বুজিরবন, সুনামগঞ্জের যাদু কাটা নদী ও শিমুল বাগান, কানাইঘাটের কাঁঠালবাড়ি ইত্যাদি দর্শণীয় স্থানগুলোর উন্নয়ন করে সেগুলো পর্যটন স্পটে পরিণত করার জন্য সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবনায় আরো উল্লেখ করা হয়- বাংলাদেশের দুইটি সমুদ্রবন্দরের মধ্যে একটি চট্টগ্রামে অবস্থিত এবং চট্টগ্রামে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার জন্য সিলেটের ব্যবসায়ীদের প্রায়ই চট্টগ্রামে যাতায়াত করতে হয়। এছাড়াও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে কারণে চট্টগ্রাম পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। তাই সিলেটের ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে সপ্তাহে অন্তত দুইদিন বিমানের ফ্লাইট চালুর জন্য সিলেট চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে প্রস্তাব জানানো হয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পর্যটন খাতে সিলেট কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন সিলেট চেম্বার নেতৃবৃন্দ।

 

Developed by :