Saturday, 1 October, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




আজ কোম্পানীগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে বর্ধিত সভা

‘আ’লীগে বিদ্রোহীদের প্রার্থীতা নির্ভর করছে শোকজ-জবাবের ওপর’

যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সন্তানদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি ॥ আহমদ হোসেন

ছাদেক আহমদ আজাদ।।  সিলেটে ৭ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে ঘিরে উৎফুল্ল ও তৎপর হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। দল ক্ষমতায় থাকায় অনেকটা উৎসবমুখর পরিবেশে এসব উপজেলায় সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের জানান দিচ্ছেন। কৌশলে চলছে ভোট দেয়া-নেয়ার হিসেব-নিকেশ। জেলা আওয়ামী লীগ অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে উপজেলা সম্মেলন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। এ লক্ষে আজ কোম্পানীগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা আ’লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, যুদ্ধাপরাধী ও তাদের পরিবারের সন্তানেরা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে শীর্ষ দু’পদে প্রার্থী হতে পারবে কি-না, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সন্তান আখ্যা দিয়ে অনেক সৎ, যোগ্য ও ত্যাগী প্রার্থীদের নানাভাবে ঘায়েলের চেষ্টা চলছে। অনেক ক্ষেত্রে ঐসব নেতার পিতা যে যুদ্ধাপরাধী ছিলেন তার শতভাগ নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। দলীয়ভাবে এসব বিষয়ের চূড়ান্ত সুরাহা না হওয়ায় প্রার্থীরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আহমদ হোসেন বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিএনপি, জামায়াত, যুদ্ধাপরাধী ও তাদের পরিবারের সন্তানদের স্থান আওয়ামী লীগে নেই। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিগত উপজেলা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহীদের শোকজ করা হয়েছে। তাদের জবাব দেখেই আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী বোর্ড সিদ্ধান্ত নিবে। আহমদ হোসেন বলেন, যদি বিদ্রোহীদের জবাব পজেটিভ হয় তাহলে হয়তো-বা তারা দলের সম্মেলনে প্রার্থী হতে পারবে। এজন্য দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আগামী ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে দীর্ঘদিন থেকে আটকে থাকা তাদের আওতাধীন ৭ উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন ও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব উপজেলা সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণসহ বর্ধিত সভা আহ্বানের জোর প্রস্তুতি চলছে। বেশিরভাগ উপজেলায় পুরনোরা এ দু’পদের একটিতে আবারও থাকতে চাইছেন। আবার সাধারণ সম্পাদক পদে নবীন মুখের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে।

দলের বহুকাক্সিক্ষত এসব উপজেলা সম্মেলনে কাউন্সিলররা প্রত্যক্ষ ভোটে নেতা নির্বাচিত করতে উন্মুখ হয়ে আছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ভোটে এবং আলোচনার মাধ্যমে এ দু’প্রক্রিয়ার মিশেলে স্থানভেদে কমিটি হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ কমিটি গঠন করবে। এ হিসেবে এমপি’র কাছের লোকজন শীর্ষ দু’পদে আসীন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি অনেকটা আঁচ করতে পেরে এমপি বিরোধীরাও বিকল্প পথে অগ্রসর হওয়ার আভাস মিলেছে। তাঁরা প্রত্যক্ষ ভোটে নেতা নির্বাচনের জন্য জেলা আ’লীগকে চাপ দিচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সম্মেলনের আওতাভুক্ত ৭ উপজেলার মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলন। অপর ৫ উপজেলায় নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হন।

এদিকে, সম্মেলনকে সামনে রেখে আজ কোম্পানীগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে জেলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে। এ দু’উপজেলার মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ ৫ নভেম্বর ও বিয়ানীবাজার ৭ নভেম্বর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। চলতি সপ্তাহে বালাগঞ্জ, সদর, দক্ষিণ সুরমা, কানাইঘাট উপজেলায় বর্ধিত সভা হবে। এসব সভায় জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত থেকে নীতিনির্ধারণী বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

দলীয় সূত্র মতে, সম্মেলনের তালিকায় থাকা ৭ উপজেলার মধ্যে দু’এক উপজেলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মতানৈক্য থাকায় বর্ধিত সভা করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা আ’লীগ এসব উপজেলার রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল দূর করতে জেলা আওয়ামী লীগ স্থানীয় দু’পক্ষকে নিয়ে আগামীকাল জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বসার কথা রয়েছে। সভায় কোন্দল নিরসনসহ বর্ধিত সভার তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। দলের সভাপতি হাজি সাইফুল আলম এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে আমাদের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। জেলা আ’লীগ আমাদের ডেকেছেন। আশা করি সকল সমস্যার সমাধান হবে। এ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আগামী ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

একইভাবে, গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দু’মেরুতে অবস্থান করলেও সম্মেলনের ব্যাপারে তাঁরা আন্তরিক। ইতোমধ্যে উপজেলার ৫ ইউনিয়নে আ’লীগের সম্মেলন করতে দায়িত্বশীল নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। অপর দু’ইউনিয়নের তারিখ সহসাই হবে। এসব ইউনিয়নের সম্মেলন শেষ হলেই শিগগির বর্ধিত সভা আহ্বান করা হবে। এমন তথ্য জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ।

সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন পয়লা নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রধান অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এর সুবিধার্থে এ তারিখ কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। দলের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন সিলেটের ডাক’কে বলেন, দু’ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর সুবিধাজনক সময়ে আমরা বর্ধিত সভা করেই সম্মেলন সফলের দিকে অগ্রসর হবো।

বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি আব্দুল হাছিব মনিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খান অভিন্ন কণ্ঠে বলেন, আজ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বর্ধিত সভায় জেলা নেতৃবৃন্দ যে নির্দেশনা দিবেন আমরা সেভাবে কাজ করবো। তাঁরা বলেন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি’র ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্মেলন হবে। এলক্ষ্যে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এভাবে, বালাগঞ্জ উপজেলা ৩১ অক্টোবর ও কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন ১০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আলহাজ শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন কমিটিগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য উপজেলা আ’লীগকে নির্দেশ দিয়েছি। তারপর দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তিনি বলেন, ৭ উপজেলা সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা আশাবাদি, অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবং নতুন নেতৃত্ব নেতাকর্মীর আশার প্রতিফলন ঘটাবে। এজন্য তিনি আওয়ামী পরিবারের সকল নেতাকর্মীর সহযোগিতা কামনা করেন।

(এ রিপোর্ট শনিবারের দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকায় প্রকাাশ)

 

Developed by :