Tuesday, 22 October, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




বিয়ানীবাজারে আ’লীগের সম্মেলন: সভাপতি-সম্পাদক প্রার্থী নিয়ে ধুম্রজাল!

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম: বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ হওয়ার পর থেকেই শীর্ষ দু’পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা পুরোদস্তুর ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। গণমাধ্যম, কাউন্সিলর, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে তাঁরা নানান ফন্দি-ফিকির করছেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক প্রচারণার অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কেউ কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন, আবার দু’একজন ভেতরে ভেতরে প্রার্থী হওয়ায় ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে। সবমিলিয়ে আগামী ৭ নভেম্বরের সম্মেলন অগ্নিপরীক্ষা হওয়াতেই এমপি নাহিদের দিকে তাকিয়ে আছেন নেতাকর্মী।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে মূলত: সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের দিকে সবার দৃষ্টি নিবন্ধিত হচ্ছে। পাশাপাশি সাংগঠনিক সম্পাদক ও অন্যান্য পদ পেতে ইচ্ছুক প্রার্থীরাও তাদের আগমনের ইচ্ছা নানাভাবে জানান দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত সভাপতি পদে পুরনো দু’শীর্ষ নেতা হাজি আব্দুল হাছিব মনিয়া ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খানের নাম শোনা যাচ্ছে। এ দু’জনের পক্ষে-বিপক্ষে দু’টি বলয় গড়ে উঠেছে। সভাপতি পদে দু’জনই পারফেক্ট হলেও সাধারণ সম্পাদক ইস্যুতে নানা টানাপড়েন চলছে।

একাধিক সূত্রমতে, তৃণমূল আওয়ামী লীগ এবার প্রত্যক্ষ ভোটের সুযোগ পেলে ‘আঞ্চলিকতা ও খলিফা’ লীগের অপমৃত্যু ঘটাতে তৎপর রয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগের সরলতাকে পুঁজি করে যিনি বিয়ানীবাজারের ‘অধিপতি’ সাজার চেষ্টায় মত্ত সেই প্রবাসী কথিত জনবান্ধব ইয়াং নেতাকেও তারা লাল কার্ড দেখাতে বদ্ধ পরিকর। অবস্থা আঁচ করতে পেরে হয়তো তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী না-ও হতে পারেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরি কমিটি ও তৃণমূল কাউন্সিলরদের অধিকাংশের মতে, শীর্ষ দু’পদ ঠিক রেখে কার্যকরি কমিটি পুনঃগঠন করা উত্তম হবে। তাতে দলের ভাংগন রোধ এবং আগাছা-পরগাছা তাড়ানো সম্ভব হবে। নতুবা কাচা টাকা, পেশিশক্তি এবং সুবিধাভোগি শত্রæ-মিত্র চক্র এক হয়ে নৌকাবিরোধী একটি অস্বাভাবিক কমিটি গঠন হওয়ার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে এর নেপথ্য হিসেবে খলিফা চক্রের তথাকথিত ঐ প্রবাসী নেতা কাজ শুরু করার আভাস পাওয়া গেছে।

এদিকে, বিগত উপজেলা নির্বাচনের পর থেকেই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি’র হাতছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে নৌকাবিরোধী চক্রের সাথে এমপি নাহিদ ঘনিষ্টতা রক্ষা করায় দলের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খান ও নৌকার পক্ষের লোকজন প্রকাশ্যে নাহিদের সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। কথিত নৌকাবিরোধীদের সাথে আলোচনায় বসতে এমপি নাহিদ একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও তা ভেস্তে গেছে। এ অবস্থায় আসন্ন সম্মেলন ও কাউন্সিল স্থানীয় সংসদ সদস্যের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। ‘ক‚ল রাখি না, শ্যাম রাখি’ এ অবস্থায় পড়তে যাচ্ছেন এমপি নাহিদ। তবে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মতে, নুুরুল ইসলাম নাহিদ খলিফা চক্রের বাহন না হয়ে সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে তিনি অগ্রসর হলে শীর্ষ দু’পদে আবারও আসীন হবেন দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত দু’নেতা। এক্ষেত্রে আগাছা-পরগাছা দূর করে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে। এজন্য এমপি নাহিদকে আগে থেকেই ‘দুষ্ট খলিফা চক্র’ ব্যতীত, দলের একান্তই নিবেদিত এবং গত ১০ বছরে সুযোগ-সুবিধা থেকে অনেক দূরে থাকা নেতাকর্মীদের কাজে লাগাতে হবে। তাদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে অগ্রসর হলেই আওয়ামী লীগের সম্মেলনে এমপি নাহিদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হবে বলেই সাধারণ নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

আসন্ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন। এরমধ্যে দু’জনকে নৌকাবিরোধী সংশ্লিষ্টতায়, একজনকে ‘আজন্ম আ’লীগ-নৌকা বিরোধী’ এবং ক্লিন ইমেজের অপর একজনকে অন্যান্য অভিযোগে অভিযুক্ত করছেন নেতাকর্মীরা। সাধারণ সম্পাদকের আলোচনায় থাকা অপর একজনের বিরুদ্ধে দল ও নৌকাবিরোধী অভিযোগ না থাকলেও রহস্যজনক কারণে নেতাকর্মী তাকে ‘ভয়’ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুষ্ট খলিফা চক্রের সন্তুষ্টি নেই। তারপরও প্রত্যক্ষ ভোট হলে এসব নেতাদের মধ্য থেকেই সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন।

 

Developed by :