Thursday, 6 October, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ২১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




‘ইউ গো টু লন্ডন’ বলেই যুবলীগ নেতার ওপর আ.লীগ নেতার হামলা

নেত্রকোনা: পূজামণ্ডপ দেখতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন লন্ডন প্রবাসী এক যুবলীগ নেতা। রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার রাজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় লন্ডন প্রবাসী যুবলীগ নেতার গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়। এ ব্যাপারে পূর্বধলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, লন্ডন যুবলীগের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার তুহিন আহাম্মদ খানের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার কলিশাউড় গ্রামে। সম্প্রতি লন্ডন থেকে দেশে আসেন তিনি। রোববার রাতে এলাকায় পূজা দেখতে যান তুহিন। পূর্বধলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ দেখে উপজেলা শহরের মঙ্গলবাড়িয়া বাজারে গেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন ও পূর্বধলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে দেখা হয় তুহিনের। এ সময় তুহিনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় আহম্মদ হোসেনের।

লন্ডন যুবলীগের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার তুহিন আহাম্মদ খান বলেন, বাজারে আমাকে দেখেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন বলেন, ‘তুমি এখানে কেন? ইলেকশনের তো আরও চার বছর বাকি। ইউ গো টু লন্ডন।’ এ নিয়ে আমার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

কিছুক্ষণ পরই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজনের সমর্থকরা আমার গাড়িতে হামলা চালায়। মাহাবুব মজিবুর রহমানসহ ১০-১২ হামলা চালিয়ে আমার গাড়ি ভাঙচুর করে। আমাকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে বের করার চেষ্টা করে তারা। এ সময় গাড়িতে থাকা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুমি আখন্দকে নাজেহাল করা হয়। তার কাপড় খুলে নেয়ারও হুমকি দেয় তারা।

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুমি আখন্দ বলেন, আমি তুহিন ভাইয়ের সঙ্গে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাই। আসার পথে যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক। আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে তারা। আমার কাপড় খুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছে সুজনের সমর্থকরা।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন বলেন, আমি আহম্মদ হোসেনের সঙ্গে যাইনি। একটু পরে গেছি। শুনেছি তুহিনের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। কথাবার্তা হয়েছে। তবে তুহিনের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা আমি জানি না। হয়তো নিজের গাড়ি নিজে ভেঙে আলোচনায় আসতে চাইছে তুহিন। ঘটনা যদি ঘটেই থাকে পুলিশ তদন্ত করে বের করুক।

এ বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

পূর্বধলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ তাওহীদুর রহমান বলেন, যুবলীগ নেতার গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি শুনেছি। থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Developed by :