Saturday, 16 November, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




ক্যাসিনো মাদক ফুটপাত ও পরিবহন চাঁদাবাজিতে ১১ কাউন্সিলর

শাহেদ শফিক: ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের (উত্তর ও দক্ষিণ) ১১ জন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর পরিচালনা, মাদক ব্যবসা, ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ ও পরিবহন চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকার বিভিন্ন ক্লাব, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাত নিয়ন্ত্রণে নেন তারা। খেলাধুলার নামে এসব ক্লাবে শুরু করেন ক্যাসিনো ও জুয়ার আসরসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও তাদের কারও কারও ক্যাসিনো ব্যবসা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় উঠে এসেছে এসব বিতর্কিত কাউন্সিলরের নাম। বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আটজন ও উত্তর সিটি করপোরেশনের তিনজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো, জুয়া, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারা নয় দলীয় নেতাকর্মীরাও এসব অভিযোগ তুলেছেন। অভিযুক্তদের কেউ কেউ সিটি করপোরেশনের নিয়মিত বোর্ড সভায়ও অনুপস্থিত থাকেন। ওয়ার্ডের নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও তাদের পাওয়া যায় না। কারও কারও বিরুদ্ধে সরকারের অনুমতি ছাড়া একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণেরও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রত্যেকেই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) যেসব কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা হচ্ছেন, ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আনিসুর রহমান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আশ্রাফুজ্জামান, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী একেএম মমিনুল হক সাঈদ, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তফা জামান (পপি), ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ রতন, ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তরিকুল ইসলাম সজীব, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাসান (পিল্লু) ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জু। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাউন্সিলররা হলেন, সাত নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবাশ্বের হোসেন চৌধুরী, ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ওরফে ইরান ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিব।

ডিএসসিসির আট কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ
ডিএসসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অভিযোগে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ নেতা খালিদ মাহমুদ ভুইয়া পুলিশের রিমান্ডে তার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণে এই কাউন্সিলরের নাম উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ডিএসসিসির ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আশ্রাফুজ্জামান বর্তমানে সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ- আরামবাগ ও সবুজবাগ এলাকার যেসব ক্যাসিনো ও জুয়ার আড্ডা রয়েছে সেগুলোর নিয়ন্ত্রকদের অন্যতম তিনি। মমিনুল হক সাঈদের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। পাশাপাশি ফুটপাত থেকেও অবৈধ টাকা আয় করছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ক্যাসিনো, মদ, জুয়া,নারী, দখলবাজিসহ কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই।’

ডিএসসিসির ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকার সব ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গড়ে তোলেন ক্যাসিনোসহ জুয়ার আসর। সম্প্রতি রাজধানীর ফকিরাপুলে ইয়ংমেন্স ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র ও বনানীর গোল্ডেন ঢাকা ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। এই চারটি ক্লাবের মধ্যে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবটি চালাতেন যুবলীগের বিতর্কিত এই নেতা। বাকিগুলোর সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। এছাড়া সিঙ্গাপুর-থাইল্যান্ডে সাঈদের ক্যাসিনো ব্যবসা রয়েছে বলেও জানা গেছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অবাধ্য হওয়া ব্যক্তি ও দলীয় কর্মীদের নির্যাতনের জন্য আরামবাগে একটি টর্চাল সেন্টার গড়ে তোলেন। তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বহুবার বিদেশ যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ডিএসসিসি মেয়র এসব অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত চিঠি দিয়েছেন। তিনি এখনও রয়েছেন সিঙ্গাপুরে।

বিদেশ ভ্রমণ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জারি করা পরিপত্রে বলা আছে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহের সদস্য, সিটি করপোরেশনের কমিশনার এবং পৌরসভার মেয়রদের বিদেশ ভ্রমণে স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী অনুমোদন দেবেন।’ কিন্তু এই কাউন্সিলররা বিদেশে গেলে মন্ত্রণালয়ের কোনও অনুমোদন নেন না বলে অভিযোগ ডিএসসিসি মেয়রের। বিষয়টি জানিয়ে গত গত ২৫ জুন স্থানীয় সরকার সচিব বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। অবশ্য এরপর তিনি হজ ও চিকিৎসার জন্য দুই বারে মোট ২৫ দিন দেশের বাইরে থাকার অনুমতি নিয়েছেন।

ডিএসসিসির ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তফা জামান (পপি) পল্টন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। কাউন্সিলর ও দলীয় পদের প্রভাব খাটিয়ে গুলিস্তান, পল্টন, কাকরাইল, শান্তিনগর, রাজারবাগ, মৌচাক ও মালিবাগ এলাকার সব ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাউন্সিলর হওয়ার পর তার দেখা পান না নাগরিকরা। এলাকার বিভিন্ন অবৈধ কাজের সঙ্গে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে মোস্তফা জামান পপি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ কাউন্সিলর। এসব কাজের সঙ্গে আমি জড়িত নই।’

ডিএসসিসির ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমদ রতনের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে। গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন তিনি। যদিও একক নিয়ন্ত্রণে নেই। এই ক্লাবটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তার সঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরোধ দেখা দেয়। সম্প্রতি ক্যাসিনোর অভিযোগে ক্লাবটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাউন্সিলর হয়েও তিনি অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ডিএসসিসির বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এসব অসৎ কাজের সঙ্গে জড়িত নই বরং আমিই সর্বপ্রথম এসব অবৈধ কাজ বন্ধ করার জন্য সিটি করপোরেশনের একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলাম। আমি সিটি করপোরেশনে কোনও ঠিকাদারি কাজ করি না।’

ডিএসসিসির ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তরিকুল ইসলাম সজীব ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য কাজে সরাসরি জড়িত তিনি। এছাড়া মতিঝিলে অবস্থিত এসব ক্যাসিনো ক্লাবেও নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য কয়েকদিন ধরে একাধিকবার ফোন করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, তিনি কোথায় রয়েছেন তারাও জানেন না।

ডিএসসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাসান (পিল্লু) স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ভাগিনা। তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটসহ আশপাশের এলাকা। ওই এলাকায় যত মালবাহী বাহন রয়েছে সেগুলোর নিয়ন্ত্রক তিনি। এ থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংসদ সদস্যের ভাগিনা হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে কথাও বলতে পারেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাজী সেলিম আমার মামা। আমাদের একটা পারিবারিক ঐতিহ্য আছে। আমরা সেটা ধরে রাখার চেষ্টা করছি। এলাকা মাদকমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়ে কাজ করছি। আমার কোনও ক্যাসিনো ব্যবসা নেই। সাম্প্রতিক সময়ের অভিযানের পর এই শব্দটির সঙ্গে পরিচিত হয়েছি।’

ডিএসসিসির ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জুর বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আওতাধীন টিকাটুলীর রাজধানী সুপার মার্কেট ও নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটে অবৈধ দোকান বসিয়ে মাসে কোটি টাকা আয় করেন। দুই মার্কেটের ১৭৮৮টি দোকান থেকে প্রতি মাসে তার নামে নির্ধারিত হারে চাঁদা আদায় করা হয়। তিনি ২০১১ সাল থেকে এই দুটি মার্কেটের ‘স্বঘোষিত’ সভাপতি। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন ফুটপাত থেকে তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে চাঁদা আদায় করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি কাউন্সিলর হওয়ার পর নাগরিকদের সঙ্গে তার তেমন সম্পর্ক নেই। তিনি করপোরেশনের ১৯টি বোর্ড সভার মধ্যে ১৫টিতেই অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এলাকায় চাঁদাবাজি, ক্যাসিনো ও জুয়ার আড্ডাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে। এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই। আমার এলাকায় কোনও অবৈধ জুয়া ক্যাসিনো চলে না। তেমন কোনও ক্লাবও নেই। একটি রয়েছে সেটিকে আমি সুন্দরভাবে পরিচালনা করছি। আর বোর্ড সভায় উপস্থিত না থাকার বিষয়টি সত্য। তবে আমি অভিমান করেই সভায় উপস্থিত থাকছি না। কারণ সেখানে গিয়ে কোনও কথা বলা যায় না। এছাড়া এলাকার উন্নয়ন কাজে ঠিকাদারের বিল ভাউচারে আমাদের কোনও স্বাক্ষরের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনও কাউন্সিলর যদি ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকেন তবে তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। মেয়র হিসেবে আমি এ কাজে সর্বাত্মক সমর্থন, সাহায্য ও সহযোগিতা করবো।’

ডিএনসিসির তিন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তিনজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেও ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তারা হলেন, সংস্থাটির ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবাশ্বের হোসেন চৌধুরী, ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ওরফে ইরান ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিব।

তাদের মধ্যে মোবাশ্বের হোসেন চৌধুরীর মহানগর উত্তর স্বেচ্চাসেবক লীগের সভাপতি। তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ‘অঘোষিত নিয়ন্ত্রক’ মোল্লা মো. আবু কাওছারের ঘনিষ্ঠ। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের আত্মীয়। সেই সুবাদে ওই ক্লাবে নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ওই ক্লাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ক্যাসিনো পাওয়া যায়। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ অভিযোগের সঙ্গে আমার একবিন্দু সম্পৃক্ততা নেই। আমি স্বচ্চ রাজনীতি করি। কোথাও কোনও টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি করি না।’

ডিএনসিসির ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ওরফে ইরান। তিনি ফার্মগেট-তেজগাঁও এলাকায় আলোচিত ব্যক্তি। মহানগর উত্তর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। তার বিরুদ্ধে ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকা, এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, ৯০ এর দশকে কয়েক লাখ টাকায় ফার্মগেটের ২২ ইন্দিরা রোডের একটি ভবনের পজেশন বিক্রি করেন ইরানের শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম। পরবর্তীতে দোকানের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার দুই দিনের মাথায় ওই দোকান দখলে নেন তিনি। এরপর থেকেই আলোচনায় আসেন তিনি। এছাড়া মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, ফার্মগেট ও তেজগাঁও এলাকার বিভিন্ন ক্লাবে পরিচালিত ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার শাশুড়ির যে দোকানের বিষয়ে বলা হচ্ছে সেটির মালিক তিনি। তিনি তার দোকান এক ব্যক্তিকে ভাড়া দিয়েছেন। কিন্তু ভাড়া চুক্তি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ না করায় তিনি তার দোকান দখলে নিয়েছেন।’

ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু দক্ষিণ সিটির একজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। আমার শেরে বাংলা থানা এলাকায় কোনও ক্যাসিনো নেই, ক্লাব নেই, জুয়ার বোর্ডও নেই। এসব করে আমি চলি না। আমরা আসলে ব্যবসা করে খাই। ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার প্রশ্নই উঠে না।’

৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিব মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশের অভিযোগ, তিনি মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনোসহ জুয়ার আসর পরিচালনা করে থাকেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘যদি কেউ এমন প্রমাণ করতে পারে তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে যদি এমন কাজের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হয় তাহলে আসল অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে।’ বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ক্যাসিনো পরিচালনাসহ এসব বিতর্কিত কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে একটি তালিকা করা হয়েছে।

কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি আসলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখছে। একজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার পর আমরা তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। আইন অনুযায়ী, কোনও কাউন্সিলর বা জনপ্রতিনিধি যদি আদালত দ্বারা দণ্ডিত হন তাহলে তার বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা আছে। তবুও আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি।’ -বাংলাট্রিবিউন

 

Developed by :