Sunday, 20 October, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




খালেদার মুক্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য কি ছিল?

আলী আসিফ শাওন: কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন এবং চিকিৎসার জন্য দেশত্যাগের বিষয়ে আগের মতো কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। গতকাল বুধবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতাদের সঙ্গে এক অনির্ধারিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা আমাদের সময়কে বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি একজন আলোচনায় তুললে প্রধানমন্ত্রী নো কম্প্রমাইজ কথাটি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন আছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কোনো অপরাধীর জন্য কোনো কম্প্রমাইজ করা হবে না।

এ সময় দলের শীর্ষ নেতাদের গণমাধ্যমে সতর্কভাবে কথা বলার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের কিছু নেতা আছেন যারা টেলিভিশনের ক্যামেরা দেখলে পেটের ভেতরে যা আছে সব বলে দেন। কোনটাতে দলের ভালো হচ্ছে, কোনটাতে দলের খারাপ হচ্ছে সেই বিবেচনাবোধ তাদের মাথায় থাকে না।

এ ছাড়া চলমান শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে আলোচনা হয় বৈঠকে। খুবই আন্তরিক পরিবেশে আলোচনার এক ফাঁকে আওয়ামী লীগ সভাপতি দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কেউ কাউকে শেল্টার দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। আমার কাছে সব খবর আছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলছে, এটি অব্যাহত থাকবে।

বৈঠকে সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনাও হয়। এর এক পর্যায়ে ফেনীর বর্ষীয়ান নেতা জয়নাল হাজারীকে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন শেখ হাসিনা। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার এই সাংগঠনিক এখতিয়ার আছে।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুস সবুর, ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে গণভবনের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের মধ্যে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের কার্যক্রম মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে।

তিনি জানান, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতারা আওয়ামী লীগের আগামী কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পাবে। আওয়ামী লীগের সমচিন্তার নয় এমন কেউ যাতে দলে অনুপ্রবেশ করতে না পরে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে বলেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

চলমান অভিযানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কারো নাম উল্লেখ করে আলোচনা হয়নি। তবে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

 

Developed by :