Thursday, 29 September, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




জেলা আ’লীগের বর্ধিত সভায় তৃণমূলে বক্তব্য নিয়ে লংকাকাণ্ড

সিলেট: সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তৃণমূলে বিভক্তি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা। বিশেষ করে উপজেলা রিপোর্ট প্রকাশ নিয়ে সভাপতি-সেক্রেটারির মধ্যে বিভক্তি প্রকাশ পায়। বিয়ানীবাজার, দক্ষিণ সুরমা ও ফেঞ্চুগঞ্জ এ তিনটি উপজেলার সভাপতি ও সেক্রেটারি উভয়েই বক্তব্য দিতে ডায়াসে চলে গেলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অবশ্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে বিয়ানীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জের রিপোর্ট প্রকাশ হলেও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক রিপোর্ট প্রকাশের সুযোগই হয়নি কারো। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ কয়েস বক্তব্য রাখেন।

বর্ধিত সভার সঞ্চালক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী নাম ঘোষণার সময় প্রতি উপজেলায় উপস্থিত সভাপতি ও সেক্রেটারির মধ্যে যে কোন একজনকে রিপোর্ট পেশ করার জন্য আহবান জানান।

বিয়ানীবাজার উপজেলা কমিটির নাম ঘোষণার পর উপজেলা কমিটির সভাপতি হাজি আব্দুল হাসিব মনিয়া ও সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান হাজির হন মঞ্চে। দুজনই রিপোর্ট পেশ করতে চান। এ নিয়ে বাকবিতন্ডা শুরু হলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খানকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেন।

আতাউর রহমান তার বক্তব্যে বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হওয়া সত্বেও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের জন্য তাকে হারতে হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ করেন। একই সাথে জেলার অনেক নেতাও তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি সভায় সাংগঠনিক কার্যক্রম তুলে ধরেন।

সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খলা ও বিভক্তি ছিলো নির্বাচনী এলাকা সিলেট-৩ (ফেঞ্চুগঞ্জ- দক্ষিণ সুরমা ও বালাগঞ্জ) এর দুটি উপজেলায়। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় সভাপতি শওকত আলী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল দুজনই সাংগঠনিক রিপোর্ট প্রকাশ করতে যান। দুজনই মঞ্চে হাজির হন। তখনও মাহবুবুল আলম হানিফের হস্তক্ষেপে সভাপতি শওকত আলী বক্তব্যের সুযোগ পান।

বয়ো:বৃদ্ধ শওকত আলীর পুরো রিপোর্ট জুড়েই ছিলো আব্দুল বাছিত টুটুলের সমালোচনা। বিগত সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারদের হুমকি ধমকির অভিযোগ আনা হয় টুটুলের বিরুদ্ধে। লিখিত রিপোর্ট পেশের পরপরই মঞ্চে উঠে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে আব্দুল বাছিত টুটুল দাবি করেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। সত্য বলতে তাকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেয়ার আকুতি জানান। তবে তিনি সেই সুযোগ পাননি।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটির রিপোর্ট পেশের ঘোষণা আসতেই মঞ্চে হাজির হন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আলহাজ্ব রইছ আলী। একই সঙ্গে সভাপতি সাইফুল আলমও হাজির হন বক্তব্য দিতে। মঞ্চে অনেকটা ধাক্কা ধাক্কির পর্যায়। আবারো হস্তক্ষেপ করেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সিদ্ধান্ত হয় ঐ এলাকার সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস বক্তব্য তুলে ধরবেন। সাইফুল আলম ও রইছ আলী দুজনের কাউকেই বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেয়া হয়নি।

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস এমপি তাঁর পুরো বক্তব্যই ছিল সমালোচনা মুখর। তিনি অভিযোগ করেন তার নির্বাচনী এলাকার বালাগঞ্জ উপজেলা কমিটিকে আগে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিলেও অতিথিদের মঞ্চে আসার পর ফেঞ্চুগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটির রিপোর্ট প্রকাশের ঘোষণা দেয়া হয়। তিনি বলেন, এটা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস তার এই দুই উপজেলায় বিশৃঙ্খলার জন্য দলের সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে উপজেলা কমিটি করে অনুমোদনের জন্য জমা দেয়া হয়েছিলো। রহস্যজনক কারণে বছরের পর বছর কমিটি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরো বলেন, সংসদ নির্বাচনের পরপরই তিনি কেন্দ্রীয় নেতেবৃন্দের কাছে কারা কারা নির্বাচনে বিরোধিতা করেছিলো তার বিস্তারিত অভিযোগ দিয়েছিলেন, এখন পর্যন্ত তা আমলে নেয়া হয়নি।

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস দাবি করেন সেই অভিযোগ আমলে নিলে আজ এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। পুরো বক্তব্যের বেশিরভাগ সময়জুড়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুলের সমালোচনায় মুখর ছিলেন এমপি। তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিরোধিতাকারীদের যেমনভাবে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, ঠিক সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। এমপি মাহমুদ উস সামাদ কয়েসের বক্তব্যের পরপরই আবার আব্দুল বাছিত টুটুল তার বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য পুনরায় আবেদন জানিয়েছিলেন, তখনও সুযোগ পাননি।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী তার বক্তব্যে আব্দুল বাছিত টুটুল সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্বেও ঐ কমিটিতে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন বলে উল্লেখ করলে মাহবুবুল আলম হানিফ জানতে চান সাধারণ সম্পাদক কোথায়? তিনি জানান, সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এর সূত্র ধরে মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, কাউকে বহিষ্কার বা অব্যাহতি দিতে হলে কেন্দ্রীয় কমিটি বা দলীয় সভানেত্রী দেবেন। এই ক্ষমতা অন্য কারো নয়। তিনি জেলার মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে উপযুক্ত ব্যাখ্যাসহ কেন্দ্রকে জানালে অবশ্যই কেন্দ্রই ব্যবস্থা নেবে বলে জানান। উপজেলা কমিটি বসে কাউকে ভালো লাগে না দেখে তাকে অব্যাহতি দেয়ার মতো কাজ থেকে সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকার আহবান জানান। একই সাথে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসরণের নির্দেশ দেন। -সিলেটের ডাক

 

Developed by :