Sunday, 20 October, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




জাতিসংঘের সামনে আ’লীগ-বিএনপির সমাবেশে হামলায় আহত ২

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘের সামনে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে বিএনপি-জামাতের ন্যাক্কারজনক হামলায় দু’জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা রক্ষীসহ নিউইয়র্কের পুলিশ এসে দু’জনকে আটকের পর পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এবং আটক দুই যুবকের কাছে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের চলতি সাধারণ অধিবেশনে ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার অপরাহ্নে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমর্থনে আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ এবং বিএনপির পক্ষ থেকে বিক্ষোভের কর্মসূচি ছিল। একইসময়ে কাশ্মীরের ঘটনাবলির জন্যে ভারতের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ চলছিল। সেই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারি একদল তরুণ বিএনপির ব্যানার লাগিয়ে শেখ হাসিনার নামোল্লেখ করে অকথ্য ভাষায় স্লোগান দিলে পুলিশ বেষ্টনীতে থাকা আওয়ামী লীগের লোকজন ক্ষেপে যায়। তবে তারা ব্যারিকেডের ভেতরে থাকায় বিএনপির ব্যানার ব্যবহারকারি ছাত্র শিবিরের তরুণেরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে আওয়ামী লীগের দুই সমর্থক আহত হলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা রক্ষীর সাথে পুলিশও অকুস্থলে আসে। দুই তরুণকে পাকড়াও করার পর অন্যদেরকে নিবৃত্ত হবার আহবান জানানো হয়। এ অবস্থায় নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, অন্যতম সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা ড. প্রদীপ কর, মিসবাহ আহমেদ, ফরিদ আলম, যুবলীগ নেতা শেখ জামাল, সেবুল মিয়া, ইফজাল চৌধুরীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হয়।

শিবির সমর্থকদের তান্ডকে তছনছ হওয়া ব্যারিকেড পুনরায় স্থাপনের পর পাশাপাশি অবস্থানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে এক ধরনের উত্তেজনা সত্বেও এই কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, জাসাস, ছাত্রদল, মহিলা দলের চেয়ে কম লোক ছিলেন আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে গগনবিদারি স্লোগান উঠে বিএনপির কর্মসূচি থেকে। এছাড়া শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি ও অবিলম্বে কেয়ারটেকার সরকারের অধিনে নির্বাচনের স্লোগানও দেয়া হয়।

বিএনপির কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, গিয়াস আহমেদ, এম এ বাতিন, জাকির এইচ চৌধুরী, মিল্টন ভ’ইয়া, আবু তাহের, গোলাম ফারুক শাহীন, মাওলানা অলিউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সাইদুর রহমান সাঈদ, জসীমউদ্দিন (ভিপি), কাওসার আহমেদ, হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, রুহুল আমিন নাসির, পারভেজ সাজ্জাদ, মোহাম্মদ জে হোসেন, মাজহারুল ইসলাম জনি প্রমুখ।

বিএনপির ব্যানার থেকে আওয়ামী লীগের শান্তি-সমাবেশে হামলা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টিও অন্যতম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন এ সংবাদদাতাকে বলেন, ‘যারা মারপিটের ঘটনায় লিপ্ত, আমি তাদের চিনি না। তারা বিএনপির লোক নন। হয়তো সমর্থক। অতি-উৎসাহীরা এমন অপকর্ম চালিয়েছে, যার দায়িত্ব বিএনপি নিতে পারে না। কারণ, আমরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছি।

অপরদিকে, বিশ্বনেতা শেখ হাসিনাকে স্বাগতম-শুভেচ্ছা জানিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন ড. প্রদীপ কর, ড. খন্দকার মনসুর, নিজাম চৌধুরী, জাকারিয়া চৌধুরী, আব্দুল কাদের মিয়া, মিসবাহ আহমেদ, ফরিদ আলম, এডভোকেট শাহ বখতিয়ার, হিন্দাল কাদির বাপ্পা, শরিফ কামরুণ হিরা, অধ্যাপক মমতাজ শাহানাজ, সেবুল মিয়া, রহিমুজ্জামার সুমন, জামাল হোসেন, ইফজাল চৌধুরী, আবুল হুসেন, পেনসিলভেনিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, নিউইংল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি যোদ্ধাহত মুকিক্তযোদ্ধা ইউসুফ চৌধুরী, সেক্রেটারি ইকবাল ইউসুফ, সমীরুল ইসলাম বাবলু, ওয়াশিংটন ডিসি আওয়ামী লীগের নেতা শিব্বির আহমেদ শেখ সেলিম, জি আই রাসেল, মাহমুদুন্নবী বাকী, ফ্লোরিডা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা এম ফজলুল রহমান, নাফিজ জুয়েল, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দারা বিল্লাহ, তুহিন, শিকাগো থেকে মনির চৌধুরী প্রমুখ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া উপ –কমিটির সদস্য মামনুনুল হক চৌধুরী, জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও এফবিসিসিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজাউল করিম রেজনুসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গির অনেকেই ছিলেন। অপরদিকে, বিএনপির বিক্ষোভে ছিলেন লন্ডন থেকে আসা বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। জাসদের আব্দুল মোসাব্বির, নূরে আলম জিকো ছিলেন শান্তি সমাবেশে।

এদিকে জানা গেছে, বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিক্ষোভ ও শান্তি সমাবেশের অনুমতি ছিল। তারা সকলেই ঐ স্থান ত্যাগের প্রায় দু’ঘন্টা পর শেখ হাসিনা ভাষণ দিয়েছেন জাতিসংঘে। তার ভাষণের সময় গ্যারালিতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। এ বিষয়টি জাতিসংঘের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারির মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। কারণ, সদস্য-রাষ্ট্রের বক্তব্য প্রদানের সময় এ বছর আর কখনোই এমন লোক-সমাগম ঘটেনি।

 

Developed by :