Saturday, 16 November, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কৃষি প্রণোদনা

৮০০ কৃষক পাচ্ছেন লাভজনক মাসকালাই বীজ ও সার

ছাদেক আহমদ আজাদ

কৃষি প্রণোদনা হিসেবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটের ৮০০ কৃষক পাচ্ছেন মাসকালাই বীজ ও রাসায়নিক সার। প্রত্যেক উপকারভোগী কৃষক পাবেন ৫ কেজি বীজ ও ১৫ কেজি সার। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় হবে পৌনে ৭ লাখ টাকা।

এর আগে কৃষি প্রণোদনার আওতায় রোপা আমনের জন্য ভাসমান বীজতলা তৈরি করে দেয় সরকার। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সরকারের এসব প্রণোদনায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা বেশী উপকৃত হচ্ছেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, জকিগঞ্জ ব্যতিত সিলেটের ১২ উপজেলায় এবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৭শ’ কৃষক। এতে কৃষির ক্ষতি হয়েছে ১৭ কোটি টাকা। এসব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য নানামুখী কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর আওতায় জেলার ১৩টি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮০০ কৃষকের জন্য ৪০০০ কেজি বীজ এবং ৮০০০ কেজি ডিএপি ও ৪০০০ কেজি এমওপি সার বরাদ্দ করা হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এর আগে সরকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে রোপা আমনের জন্য নগদ টাকাসহ ১০০টি ভাসমান বীজতলা তৈরি করে দেয়।

জেলা উপ সহকারি কৃষি অফিসার সৈয়দ আব্দুস সবুর জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে মাসকালাই, ফসলের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণের উদ্যোগ নেয় সরকার। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রত্যেক উপজেলা কৃষি অফিসে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা নির্ধারিত সংখ্যক উপকারভোগী কৃষকের তালিকা প্রেরণ করবেন। সে তালিকা অনুযায়ী কৃষি অফিস থকে উপকারভোগীরা প্রণোদনার আওতায় বীজ ও সার গ্রহণ করবেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্রত্যেক উপজেলায় কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার পাঠানো হয়েছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান জানান, আমরা সরকার নির্ধারিত কৃষি প্রণোদনার আওতায় বীজ ও সার বরাদ্দ পেয়েছি। এরই মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানদের তালিকা পেয়ে ৫ ইউনিয়নের উপকারভোগী কৃষকদের মধ্যে মাসকালাই বীজ ও সার বিতরণ করেছি। তিনি জানান, আগামী ২/১ দিনের মধ্যে অবশিষ্ট ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার তালিকা পেলে উপকারভোগীদের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে।

একইভাবে জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বীজ ও সার বিতরণের খবর পাওয়া গেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সিলেট সদর, বিশ্বনাথ ও বালাগঞ্জ উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ জন করে কৃষক ১৪০০ কেজি করে মাসকালাই বীজ ও সার পাবেন। একইভাবে দক্ষিণ সুরমা, গোয়াইনঘাট, ওসমানীনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার ৬০ জন করে কৃষকের জন্য ১২০০ কেজি করে মাসকালাই বীজ ও সার সার বরাদ্দ করা হয়েছে।

এছাড়া, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ৫০ জন কৃষকের জন্য ১০০০ কেজি মাসকালাই বীজ ও সার বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত উপকারভোগী প্রত্যেকেই সমানভাবে পাবেন ৫ কেজি মাসকালাই বীজ, ডিএপি ১০ কেজি এবং এমওপি ৫ কেজি রাসায়নিক সার।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, মাসকালাই একটি লাভজনক ফসল। এর পুষ্টিগুণও বেশি। তিনি বলেন, সিলেটে মসুর ও খাসাড়ি ডালের তেমন একটা আবাদ হয় না। অথচ মাসকালাই যেকোন জমিতে কম চাষাবাদ করলেও এর উৎপাদন হয় বেশি।

উপ পরিচালক সালাহ উদ্দিন আরও বলেন, কৃষিবান্ধব এ সরকার নানাভাবে কৃষকদের উৎসাহিত করার প্রচেষ্টায় রয়েছে। সরকার প্রণোদনা দেয়াতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখনো টিকে আছেন। তারা উৎসাহ নিয়ে কৃষিক্ষেত করছেন। এজন্য কৃষিক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে।

 

Developed by :