Monday, 23 September, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




আন্ডারগ্রাউন্ড প্লেয়াররা সুস্থ রাজনীতিকে ধ্বংস করছে : এডভোকেট মিসবাহ সিরাজ

সিলেট:  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য ও সিলেট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি আ ন ম শফিকুল হক ছিলেন সিলেটের আদর্শিক রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সঠিক সময়ে তাঁর সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো দক্ষতা ও ক্ষমতা ছিল। এজন্য আওয়ামী রাজনীতিতে তিনি অনেক নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে পেরেছেন। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আ ন ম শফিকুল হকের অগ্রণী ভূমিকা ছিল।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত আ ন ম শফিুকল হক স্মরণসভায় বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফসার আজিজের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সৈয়দ আবু নছর এডভোকেট। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগরের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ আবু নছর এডভোকেট বলেন, আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন। দল ক্ষমতায় থাকলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। তিনি বলেন, আ ন ম শফিকুল হক ত্যাগী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তিনি জীবনে দলকে নিজের কাজে ব্যবহার করেননি। প্রবীণ এ নেতা সহযোদ্ধা শফিকের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন।

প্রধান বক্তা এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, বিএনপি-জামায়াতের কুচক্রিরা আওয়ামী লীগে ঢুকে পড়ছে। আমরা ক্ষমতার মোহে অন্ধ হলেও দলের সত্যিকার কর্মীরা এসবে দেখে চোখের পানি ফেলছে। তিনি বলেন, আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ ছিলেন আ ন ম শফিকুল হক। অসুস্থ হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পরপর তিনবার তাঁকে অনুদান এনে দিয়েছি। কিন্তু আন্ডারগ্রাউন্ড প্লেয়াররা ফেসবুকে তাদের নামে অনুদানের কৃতিত্ব নিচ্ছে এবং সুস্থ রাজনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক, এসব সংস্কৃতি মেনে নেয়া যায়না।

মিসবাহ সিরাজ আরো বলেন, যারা কোনদিন বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়নি, মিছিল-মিটিং করেনি তারা আজ সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে। অথচ আমি না-ই হলাম; দলের ত্যাগী নেতা হিসেবে আবু নছর, শামীম, কামরান ভাই এমপি হতে পারেননি। তারপরও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে, এটাই আমাদের শান্তনা।

সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, নীতি ও নৈতিকতা নিয়ে রাজনীতি করলে মৃত্যুর পরও মানুষ স্মরণ রাখে। যার প্রমাণ আ ন ম শফিকুল হক। তিনি বলেন, ত্যাগীদের নিয়ে আ’লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কমিটি করলে দলের যেকোন দুঃসময়ে তাদেরকে পাওয়া যাবে।

সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী ত্যাগী নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় অথচ দুঃসময়ের কান্ডারিরা পদ-পদবি পাচ্ছেন না। একটি মহল কৌশলে উড়ে এসে জুড়ে বসার নেশায় মত্ত। এজন্য ঐক্যবদ্ধ থাকলে তারা আগামীতে সে সুযোগ পাবে না।

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠুর পরিচালনায় স্মরণসভায় উপস্থিত ও বক্তব্য রাখেন জেলা আ’লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মাহফুজুর রহমান, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহিদ, সিলেট জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহ সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ, জেলা পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন আহমদ কয়েছ, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামছুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ।

 





Developed by :