Monday, 23 September, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




'সহপাঠিদের প্রতি চিরঋণী’

রক্তের নয় তবুও রক্তের বাঁধন

ছাদেক আহমদ আজাদ

স্কুল সহপাঠিকে সিএনজি অটোরিক্সা কিনে দিয়ে মহানুভবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ’৯৯ ব্যাচের কয়েকজন ছাত্র। তারা প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জড়ো হয়ে বন্ধুর হাতে যখন সিএনজি তুলে দেন তখন খালেদের দু’চোখ বেয়ে আনন্দাশ্রু ঝরে। তিনি কিছু সময় আবেগাপ্লুত থাকার পর সহপাঠিদের সাথে আনন্দচ্ছলে দুর্বিসহ জীবনের গল্প বলা শুরু করেন। এ মহৎ কর্মকা-ের অবতারণা হয়েছে সবুজ ঘাসে ঢাকা ডিএম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে।

বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ঢাকাউত্তর মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের (ডিএম) ’৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অনেকেই ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করেন। যারা দেশে আছেন তারাও প্রায় স্বাবলম্বী। কিন্তু খালেদ আহমদ এখনো দারিদ্র্যতার কষাঘাতে জর্জরিত। স্ত্রী ও দু’সন্তান নিয়ে পড়েছেন মহা-বিপাকে। তাদের ঠিকমতো ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না খালেদ। এজন্য মানসিকভাবে তিনি দিনদিন ভেঙ্গে পড়ায় শারীরিক অসুস্থতাও তার পিছু নেয়।

বিষয়টি আঁচ করতে পেরে এগিয়ে এলেন সেই ’৯৯ সালের স্কুল পড়–য়া সহপাঠি বন্ধুরা। সম্প্রতি তারা খালেদের সাথে সার্বিক বিষয় নিয়ে পরামর্শ করেন। জীবনের চাকা সচল রাখতে তার চাহিদানুযায়ী প্রাথমিকভাবে সিএনজি অটোরিক্সা কিনার সিদ্ধান্ত নেন। সহপাঠিদের অনেকেই তাতে সাড়া দিলে কিছুদিনের মধ্যে টাকার বাজেট পূর্ণ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সিএনজি অটোরিক্সা ক্রয় করে বন্ধুর স্বপ্নের বাস্তবায়ন করা হয়। বন্ধু খালেদের জন্য তাদের আরো পরিকল্পনা রয়েছে। তার সন্তানদের পড়ালেখার দায়িত্বটুকুও হয়তো ’৯৯ ব্যাচের বন্ধুরা নিতে পারেন। এ আশায় রয়েছেন খালেদের স্ত্রী। উদ্যোক্তা নজরুল ইসলামের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, তারা সহপাঠি খালেদের ভাগ্যোন্নয়নে সুদূরপ্রসারী চিন্তা করছেন। ‘দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ’ এ কথাটি তাদের মনে সাহস জুগিয়েছে। তারা আশাবাদি, সহপাঠিদের উদারতার প্রতিক হিসেবে এক সময় খালেদই হবে ধনে-জনে গরিয়ান। থাকবে না কোন পিছুটান।

অটোরিক্সা পেয়ে খালেদ আহমদের মনোবল কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। তিনি আর পেছনে না ফিরে, সামনে এগিয়ে যেতে চান। পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটিয়ে জয় করতে চান দারিদ্র্যতা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন তাদের প্রতি, যারা দুঃসময়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। রক্তের বন্ধন না হলেও সহপাঠি বন্ধুদের প্রতি তিনি চিরঋণী বলে আবারও অশ্রুসিক্ত হলেন।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকাউত্তর মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে খালেদের হাতে হস্তান্তর করা হয় সিএনজি অটোরিক্সা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গোলাপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমেদ চৌধুরী, আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুন, ডিএম হাই স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জিয়াউল বারী চৌধুরী সায়নু, স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান, সিনিয়র শিক্ষক মকসুদুল আম্বিয়া চৌধুরী, শিক্ষক আল মামুন কয়সর, এমদাদুল হক চৌধুরী তরুণ, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, ডিএম হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মামুন আহমদ, আজাদ চৌধুরী একাডেমির সহকারী শিক্ষক ফনি ভূষণ পাল, নাজমুস শাকির চৌধুরী ও অলিউর রহমান।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, ১৯৯৯ ব্যাচের ছাত্র নজরুল ইসলাম, কিবরিয়া আহমেদ, কামাল পাশা, সালাম আহমদ প্রমুখ। এ সময় তারা খালেদ আহমদের মতো এ ব্যাচের অসহায় বন্ধুদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বি:দ্র: এই প্রতিবেদনটি আজ দৈনিক সিলেটের ডাক  এর শেষ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে।

 





Developed by :