Monday, 23 September, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের শোক সভায় এডভোকেট মিসবাহ সিরাজ 

ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও জঙ্গিবাদমুক্ত দেশ গড়তে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই

সিলেট: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেছেন, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, দেশ আজ উন্নয়ন, অগ্রগতির সূচকে বিশ্বসভার নজর কেড়েছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রুদের প্রত্যক্ষ মদদে ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সেদিন দেশের বাইরে থাকায় ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচেছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে সুবিধাভোগীদের স্থান নেই। এ আওয়াজটুকু বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন সারাদেশে পৌঁছাতে পারলে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আনন্দিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে নগরীর হোটেল গার্ডেন ইন’র হলরুমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

সিলেট জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সামসুল আলমের সভাপতিত্বে এবং ও সাধারন সম্পাদক ফেরদৌস খান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আল মামুন মনিরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট মশিউর মালেক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ শফিকুর রহমান চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন ফরাজী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশিদা হক কণিকা, জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহ সভাপতি ও দৈনিক সিলেটের ডাক এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রোটারিয়ান ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ, যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি ফেরদৌস শেরদীল।

প্রধান অতিথি এডভোকেট মিসবাহ সিরাজ আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু সিলেটের মানুষকে খুব ভালোবাসতেন। এজন্য ’৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর ঘাতক খন্দকার মোশতাক সিলেটে এলে আমরা তাকে লাঞ্ছিত করেছিলাম। এ ঘটনায় ১৭ মাস কারাবরণের কথা উল্লেখ করে মিসবাহ সিরাজ বলেন, এখন যারা বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক ও বুদ্ধিজীবী সেজেছেন তখন তারা কোথায় ছিলেন। তিনি বলেন, মোশতাককে গণপিটুনি দিয়ে কিছুটা হলেও বঙ্গবন্ধুর খুনের প্রতিশোধ নিয়েছিল সিলেটবাসী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মুখে বলে লালন করা যায়না, তা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু যে কাজ করে গেছেন তা আমাদের ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, আমেরিকা একসময় আমাদের ভিক্ষুকের জাতি বলে পরিহাস করেছিল। আজ জাতিসংঘে বসে তারাই বলছে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এডভোকেট মশিউর মালেক বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনী নুর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা বিশ্বজনমত গঠনে গত জুলাই থেকে গণস্বাক্ষর কার্যক্রম শুরু করেছি। আগামী ১৫ আগস্টের পরে সেদেশের দূতাবাসে তা পাঠানো হবে। তিনি বলেন, ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তারা ক্ষান্ত হয়নি। বঙ্গবন্ধুর খুনী ও তাদের দোসররা যখন দেখেছে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছেন। তখনই তারা বঙ্গবন্ধু তনয়াকে হত্যার জন্য ১৯বার বোমা ও গ্রেনেড হামলা করেছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই সোনার বাংলা গড়তে আমরা সোনার মানুষ চাই।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিক ফরাজী বলেন, নতুন প্রজন্মকে শিশুকালেই নীতি নৈতিকতা শিক্ষা দিতে পারলেই আগামী ১০ বছরে সোনার সন্তান পাওয়া যাবে। এজন্য পাঠ্যবইয়ে শিষ্টাচার ও নৈতিকতা’র ওপর লেখা প্রকাশ করতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, কোন নব্য আওয়ামী লীগারকে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সদস্য করা যাবে না। আমরা নিজে পরিবর্তন হলে খুব কম সময়ের মধ্যে দেশ পাল্টে যাবে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেত্রী রাশিদা হক কণিকা বলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে খুনী মোশতাক চক্র বাঙালি জাতিকে শুধু লজ্জিত করেনি, করেছে কলঙ্কিতও। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যুব সমাজের হাতে অস্ত্র, মাদক তুলে দিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করেছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা রোধে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কাজ করছে। এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখছেন ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ

দৈনিক সিলেটের ডাক এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ বলেন, সিলেটে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর খুনী নুর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আমরা রাজপথে মানববন্ধন করেছি। তিনি বলেন, এ সংগঠনের প্রত্যেক নেতাকর্মী শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে বদ্ধপরিকর। তিনি শোক দিবসের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা শাখার সহ সভাপতি হাজী মোঃ ময়নুল ইসলাম, মাহমুদুর রশিদ দিদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চিত্রশিল্পী ভানু লাল দাস, আব্দুল মালিক পুকন, সাংগঠনিক সম্পাদক কবিরুল ইসলাম কবির, সেলিম খান, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হক লিমন, কোষাধ্যক্ষ মোজাম্মেল হোসেন মেনন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিধু ভুষন চক্রবর্তী, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট তোফায়েল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক বিলাল উদ্দীন, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক মহিলা কাউন্সিলর নাজনীন আক্তার কণা, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব সিহাব উদ্দীন রাসেল, সহ যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রাহাত তপাদার, সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক সুহেল চৌধুরী প্রমুখ।
পরে সকল শহীদদের রূহের মাগফেরাত এবং অসুস্থ নেতাদের আশু সুস্থতা কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

 





Developed by :