Saturday, 1 October, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




গুণীজন সংবর্ধনা পেলেন সাবেক দুই অর্থমন্ত্রী

ঢাকা: ‘গুণীজন সংবর্ধনা ২০১৯’ পেলেন সাবেক দুই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও এম সাইদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তাদের যৌথভাবে এ সংবর্ধনা দেয় বণিকবার্তা ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)।

সংবর্ধনা পাওয়ার পর এম সাইদুজ্জামান বলেন, ‘আমি সত্যিই অভিভূত এ ধরনের সংবর্ধনা পেয়ে। নিজেকে গুণীজন মনে করি না। নিজেকে সিভিল সার্জন হিসেবেই ভাবতে ভালোবাসি। তবে দীর্ঘ কর্মজীবন ও চলার পথে অনেক গুণীজনের সংস্পর্শ পেয়েছি। এটা আমার সৌভাগ্য।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ড. মশিউর রহমান, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ আরও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী। তারা সবাই সংবর্ধনা পাওয়া সাবেক এই দুই অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন এবং তাদের অবদান তুলে ধরেন।

এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ২১টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১৪ জন সচিবসহ দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায়ী, সরকারের কর্মকর্তারা।

এ সময় বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘মানুষের জীবনে কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত থাকে। আজকে এই মুহূর্তকে আমি সারাজীবন ধারণ করে রাখব। মুহিত ভাইয়ের রেখে যাওয়া কাজ আমি সম্পন্ন করব আশা করি।’

তিনি বলেন, ‘মুহিত ভাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ ১০ বছর কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমার। এ সময় তার সঙ্গে আমার ভুল বোঝাবুঝি হয়নি তা নয়। কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তবে পরেই তা মিটমাট হয়ে গেছে। মুহিত ভাই চকলেট খুব পছন্দ করেন। চকলেট দিয়ে উনার মন জয় করা যায়।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমাদের কাজের চাপ এত থাকে যে, এই সমাজ, রাষ্ট্রে কার কী অবদান সেটা ভেবে দেখার সুযোগ পাই না। বণিকবার্তা ও বিআইডিএসের এই সংবর্ধনা ও সেই সুযোগ করে দিয়েছে। তাদেরকে সম্মানিত করা প্রয়োজন ছিল।’

সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে মুহিত ভাইয়ের বড় অবদান রয়েছে।’

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আজকে সংবর্ধনা পাওয়া সাবেক দুই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সাইদুজ্জামানের অধীনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করেছি। তারা আমার সিনিয়র ছিলেন।’

সংবর্ধনা দেয়ার আগে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সাইদুজ্জামানের কর্মময় জীবনের ওপর সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। পরে তাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ সময় দুজনকে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয় এবং তুলে দেয়া হয় সম্মাননা ক্রেস্ট। একই সঙ্গে তাদের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেয়া হয় একটি পোর্ট্রেট।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৮২ থেকে ১৯৮৩ সালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসে। ওই সময় তিনি সিলেট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সাইদুজ্জামান ১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ ও ১৯৮২ থেকে ১৯৮৩ সময়ে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি থেকে ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি প্রধান অর্থ সচিব ও অর্থ মন্ত্রণালয়বিষয়ক রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রীর সমান মর্যাদা), তারপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। একই সময়ে তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

আয়োজকদের একজন বণিকবার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা সবসময় নতুন ও মহৎ এবং উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছি। এরই অংশ হিসেবে বিআইডিএসের সঙ্গে যৌথভাবে দেশের সাবেক দুই অর্থমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়ার এ উদ্যোগ। তাদেরকে সংবর্ধনা দিতে পেরে বর্ণিকবার্তা ও ডিআইডিএস গর্বিত।’

 

Developed by :